‘দেশে আইএস নেই, তাদের অনুগামী রয়েছে’

menonসময়ের কণ্ঠস্বর – বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, দেশে আইএস নেই, তবে তাদের অনুগামী রয়েছে। তারাই গুপ্তহত্যা চালাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, তাদের গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন পুরোহিত, যাজক, বৌদ্ধভিক্ষু, মাজারের খাদেম, পীর, বাউল গবেষক, শিক্ষকসহ সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ। এই আক্রমণ কোনো একক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, সমগ্র বাংলাদেশের ওপর। এই আক্রমণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি সাম্প্রদায়িক আবহ তৈরি করা হচ্ছে। এটি দুর্ভাগ্যজনকভাবে দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় বিমানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ক্ষমতাসীন ১৪ দলের অন্যতম দল ওয়ার্কার্স পার্টিরও সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরেও সাম্প্রদায়িকতা ঢুকেছে। প্রশাসনের মধ্যেও এর ছাপ পড়েছে। যখনই কোনো ব্লগার নিহত হন, তখনই পুলিশ ধর্মবিরোধী কিছু লিখেছেন কি না খুঁজে বেড়ান। এটা ঠিক যে ধর্মবিরোধী কোনো কিছু লেখা উচিত নয়। তেমনি কেউ নিহত হওয়ার পর ধর্মবিরোধী লেখার বিষয়টি উচ্চারিত হলে ওই হত্যা যথার্থ হয়ে যায়।

মন্ত্রী বলেন, প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে, ‘ক্রসফায়ারে’জঙ্গি নিহত হচ্ছে। এই ‘ক্রসফায়ার’জঙ্গি সমস্যার সমাধান নয়। এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা ও দুর্বলতা।

বিমানমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বেড়েছে, কিন্তু সেটি জিডিপির মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ। বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় শতভাগ পাস ও জিপিএ–৫–এর ছড়াছড়ির যে উচ্ছ্বাস তৈরি করেছিল, তা এখন নিদারুণ উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে পরীক্ষাব্যবস্থা ফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে। এখান থেকে শিক্ষাব্যবস্থাকে উদ্ধার করে শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনতে হবে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিমান নিয়ে মেনন বলেন, ২০০৭ সালে কোনো প্রকার সমীক্ষা ছাড়াই তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশ বিমান করপোরেশনকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করে। শতভাগ সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হলেও মন্ত্রণালয়ের এর ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। অথচ প্রতিটি ক্ষেত্রেই মন্ত্রণালয়কে বিমানের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। বিমান কোম্পানি আইন অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি কোম্পানি আইন বা করপোরেশন আইন কোনোটিতেই পরিচালিত হচ্ছে না।