সিরাজদিখানে ফসলী জমির উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ

মোঃ রুবেল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:


munshigonj-rasta

সিরাজদিখান উপজেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও ত্রাণ মন্ত্রনালয় (ইজিপিপি) অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির অনুদানের টাকা ব্যবহার করে অন্যের ফসলি জমির উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মালখানগর ইউনিয়নের নাইশিং গ্রামের মফিজ ঢালির বাড়ি হইতে সিরাজ ছৈয়ালের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ ১২ ফুট চওড়া মাটির রাস্তার কাজ চলছে।

এ ব্যাপারে রাস্তার নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য ভুক্ত ভোগীরা বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ আদালতে একটি ১৪৫ ধারা ও একটি ১০৭, ১১৭ ধারায় ২টি মামলা সহ সিরাজদিখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। কয়েক দফা ঝগড়া হাতা হাতি হয়েছে। যে কোন মুহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা যায়, জমির মালিকদের কাছ থেকে কোন লিখিত বা মৌখিক অনুমতি ছাড়াই বাড়ি ও ফসলি জমির উপর দিয়ে জোড় পূর্বক রাস্তা নির্মাণ করছে মালখানগর ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মোঃ আমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে সিরাজ সৈয়াল গং। আরো জানা যায়, সিরাজ ছৈয়াল এলাকার প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড ঘটিয়ে বেড়াচ্ছেন। কেউ কিছু বললে তাকে জখম ও মাদক দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে থাকেন। আদালতে মামলা চলাকালিনও রাস্তা নির্মাণের কাজ চালাচ্ছে সিরাজ সৈয়াল। নাইশিং গ্রামের স্বপন খানের ছেলে শরিফ খান বলেন, মাটি কাটার শ্রমিকদের আমাদের জমি কাটতে নিষেধ করলে গালাগালি করে। সাথে থাকা কোদাল দিয়ে কোপ দিতে চায়।

জলিল শিকদারের ছেলে ছায়েম বলেন, রাস্তা নিতে হলে প্রত্যেক জমির মালিকের সাথে আলোচনা করে নিতে হয়। কিন্তু হঠাৎ করে একদিন দেখি রাস্তা করার জন্য জমি মাপতেছে। তারপর দিন জমি কেটে রাস্তা করা শুরু করছে। জলিল শিকদারের স্ত্রী বলেন, তারা বলে জায়গা না দিয়ে জমিতে গেলে কোপামু। তাছাড়া হুমকি প্রদর্শন করে মোক্তার, সিরাজ সৈয়াল। তারা ভয় দেখিয়ে বেশ কিছু বাড়ি থেকে ৫/১০ হাজার টাকা করে চাঁদা নিয়েছে। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে জমির মাটি গভীর করে কেটে নেওয়ার নির্দেশ দেয় সিরাজ ছৈয়াল।

সিরাজ ছৈয়াল বলেন, রাস্তা দিয়ে সবাই যাবে, প্রকল্পের টাকা শেষ। বাকি কাজ করতে হলে সবার কম বেশি টাকা দিয়ে করতে হবে। প্রকল্পের সভাপতি আমিনুর রহমান বলেন, সিরাজ সৈয়াল এ প্রকল্পের কেউ না। তাকে ঝগড়া করার জন্য নিষেধ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের টাকা শেষ হওয়ার পর তিনি কিভাবে টাকা তুলে কাজ করেেছ তা আমরা জানি না। তবে জনগণের কাছ থেকে যে টাকা নিচ্ছে বা চাচ্ছে তারা তো আমাদের কাছে কোন অভিযোগ করছে না।