ভারতের মাংস খেয়ে সীমান্তে শতাধিক মানুষ অসুস্থ

ফয়সাল শামীম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:


kurigram

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সীমান্ত দিয়ে ভারতে জবাই করা গরুর মাংস অবাধে পাচার হয়ে আসছে। সেই মাংস খেয়ে শতাধিক মানুষ পেটের পীড়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ভারত সীমান্তে বিএসএফ গরু পাচারের ব্যাপারে সতর্ক ও কড়া পাহাড়া বসায় চোরাকাররারিরা বিকল্প হিসাবে রমজানের শুরু থেকে ‘ওপারে’ গরু জবাই করে সেই মাংস বস্তায় ভরে ‘এপারে’ পাচার করছে। ওই মাংস খেয়ে কচাকাটা ইউনিয়নের নায়েকের হাট, নারায়নপুর ইউনিয়নের পাখিউড়া, চৌদ্দঘুড়ি, বালারহাট, আইড়মারী, বালাবাড়ী, কেদার ইউনিয়নের ঢলুয়াবাড়ী, শোভারকুটি, ধনীরামপুর, শোলমারী, মসলাবাড়ী সীমান্ত এলাকার শতাধিক মানুষ পেটের পীড়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পরেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

এর মধ্যে নাগেশ্বরী হাসপাতালে ১৭ জন ও কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ৪ জন ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। নাগেশ্বরী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সীমান্ত ঘেসা পাখিউড়া গ্রামের মতিয়ার রহমান, কাশেম আলী ও আব্দুল বাতেন জানান, ওপারের জবাই করা মাংস কম দামে কিনে সেই মাংস খেয়ে ডায়রিয়া হইছে’।

এছাড়া খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভুরুঙ্গামারী উপজেলার ভোটহাট, কাঠগিরী, শালঝোড়, বাঁশজানী, দিয়াডাঙ্গা, পাথরডুবি ও ফুলবাড়ীর উপজেলার কুরুশা ফেরুশা, নাওডাঙ্গা, খলিসাকোটাল, শিমুলবাড়ী, জুম্মারপাড়, চান্দেরবাজার, ঠোস বিদ্যাবাগীস, অনন্তপুর, চোত্তাবাড়ী মোড়, কাশিয়াবাড়ী সহ বিভিন্ন সীমান্ত পথে জবাই করা গরুর মাংস বস্তায় বস্তায় বাংলাদেশে পাচার করা হচ্ছে। ভারতের জবাই করা গরুর মাংস প্রতি কেজি ৯০-১০০ টাকা দাম হওয়ায় সীমান্তে গরীব মানুষেরা তা বেশি কিনছে। সীমান্তে চোরাকারবারীরা দুই তিন দিনের নষ্ট মাংসও বিক্রী করছে বলে অভিযোগ আছে। তাছাড়া চোরাকারবারিরা সীমান্তবর্তী ছোট ছোট হাট-বাজার ও গোপনে গ্রামের বাড়ী বাড়ী ঘুরে প্রতি কেজি মাংস ১শ টাকা দরে বিক্রি করছে।

অন্যদিকে এ দেশীয় গরুর মাংস বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪শ টাকা দরে। ক্রেতারা কম দামে পাওয়ায় গুনগত মান বিবেচনা না করে তা দেদারচ্ছে কিনছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন সীমান্তবর্তী এদেশীয় হাট-বাজারের কসাইরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক চোরাকারবারী জানান, বেশি লাভের আশায় এ মাংস বিক্রি করছি। এগুলো সুস্থ্য না রোগাক্রান্ত না মরা গরুর মাংস তা আমরা জানিনা। নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মাকছুদুর রহমান জানান, ভারতের জবাই করা ২-৩ দিন আগের নষ্ট মাংস খেলে তো পেট খারাপ ও ডায়রিয়া হবেই। আমরা লোকজনকে ভারত থেকে পাচার হয়ে আসা মাংস না খেতে পরামর্শ দিয়েছি।

সম্প্রতি ভুরুঙ্গামারী হাটে ভারতে জবাই করা গরুর মাংস বিক্রি করার সময় স্থানীয় কসাইরা তা আটক করে থানা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ জব্দকৃত গরুর মাংসগুলো মাটিতে পুতে ফেলা হয়। ভূরুঙ্গামারী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লতিফুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, আমরা ইতোমধ্যে কসাইদের আটক করা মাংস মাটিতে পুতে দিয়েছি। বিজিবিকেও সীমান্তে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বাগভান্ডার বিজিবির কোম্পানি কমান্ডার নায়েক সুবেদার ইদ্রিস আলী বলেন, আমরা গরুর গোস্ত পাচারকারীদের ধরতে সীমান্তে টহল জোড়দার করেছি।

নাগেশ্বরী পৌরসভার বাজেট ঘোষনা

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভার ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের ৪১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষনা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় পৌর মেয়র আব্দুর রহমান মিয়া পৌরসভা সভা কক্ষে আনুষ্ঠানিক ভাবে বাজেট ঘোষনা করেন।

বাজেটে আগামী অর্থ বছরে বিভিন্ন উৎস হতে আয় ধরা হয়েছে ৪১ কোটি টাকা এবং পৌরসভার উন্নয়ন খাতকে গুরুত্ব দিয়ে সর্বমোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮ কোটি ৫৪ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫ শত ৪৪ টাকা। বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে পৌরসভা সচিব সাইদুজ্জামান সরকার, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবু মোস্তফা কামাল, সহকারী প্রকৌশলী নুরুজ্জামান, অফিস সহকারী সহিদুজ্জামান শাহীন, পৌরসভার সকল ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিগন উপস্থিত ছিলেন।