রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লার ২৫ তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ

ইসতিয়াক আহমেদ:


Rudro

“ভাল আছি ভাল থেকো
আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো”

বিখ্যাত এই গানের গীতিকার ছিলেন রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লা। ১৯৯১ সালের এই দিনে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে আকাশের ওপারে চলে যান “প্রতিবাদী রোমান্টিক” কবি হিসেবে পরিচিত এই কবি। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, গীতিকার, বিপ্লবী। আশির দশকে তিনি নিজ কণ্ঠেরর কবিতা পাঠ করার কারণে জনপ্রিয় ছিলেন। তার বিখ্যাত কবিতা “বাতাসে আজও লাশের গন্ধ”।

জন্ম ও শিক্ষাজীবনঃ ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশাল জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। ঢাকা ওয়েস্ট এন্ড হাই স্কুল থেকে ১৯৭৪ সালে এসএসসি এবং ১৯৭৬ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৮০ সালে তিনি সম্মান সহ বিএ এবং ১৯৮৩ সালে এমএ ডিগ্রী অর্জন করেন।

জীবনঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থাতেই রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লা ছাত্র ইউনিয়নের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন। একবার ডাকসুর নির্বাচনেও দাড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নিজেরই এক বন্ধুর কাছে হেরে যান। ৭৫ পরবর্তী প্রায় প্রতিটি আন্দোলনের সাথেই যুক্ত ছিলেন প্রতিভাবান এই কবি। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠকও ছিলেন রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লা। ঢাকায় যখন এরশাদ “এশীয় কবিতা উৎসব” আয়োজন করেন। তারে বিপরীতে রুদ্র একা দাড় করেন “জাতীয় কবিতা উৎসব”। তার হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয় “সম্মিলিত-সাংস্কৃতিক জোট”। কখনো চাকরী করেননি তিনি। নিজের কয়েকটা রিকশা ছিল। তা ভাড়া দিয়েই যা আয় হত তা দিয়েই চলতেন। পরে ঠিকাদারী করেছেন চিংড়ির খামার করেছেন। ভীষন বাউন্ডুলে এবং খাম খেয়ালী ছিলেন তিনি। জিন্স আর পাঞ্জাবী পড়ে চষে বেড়াতেন ঢাকা শহর।

প্রেম ও বিয়েঃ ১৯৮১ সালে ভালবেসে বিয়ে করেন তসলিমা নাসরীনকে। ১৯৮৮ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী শিমুলের সাথে তার প্রেম হয়। কিন্তু শিমুলের পরিবার থেকে বাঁধা দেয়ায় সে সম্পর্কও আর টেকেনি। এরপর ১৯৯০ এর দিকে আবার তসলিমা নাসরীনের সাথে তার প্রেম হয়। কিন্ত তাও শেষ পর্যন্ত টেকেনি। কবির শেষ জীবন একরকম একাই কাটে।

মৃত্যুঃ ভীষণ রকম মদে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। সাথে সিগারেট তো ছিলই। জীবনের শেষ দিকে আলসারে আক্রান্ত হন এই কবি। পায়ের আঙুলেও রোগ বাসা বেধেছিল তার। ডাক্তার বলেছিল বাচতে চাইলে সিগারেট মদ ছাড়তে হবে। বেচে থাকার তীব্র ইচ্ছায় সিগারেট ছেড়ে ভর্তি হন হলিফ্যামিলি হাসপাতালে। ১৯৯১ সালের ২০ জুন সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে আসেন। কিন্ত পরদিন সকালেই দাত ব্রাশ করতে করতে অজ্ঞান হয়ে মারা যান রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লা।

সাহিত্যকর্মঃ রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লার কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা মাত্র সাতটি। ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ “উপদ্রুত উপকূলে”। এই বইয়েরই বিখ্যাত কবিতা ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’। এরপর একে একে প্রকাশিত হয় ‘ফিরে চাই সর্ণগ্রাম’(১৯৮২), মানুষের মানচিত্র (১৯৮৪), ছোবল (১৯৮৬), গল্প৯১৯৮৭), দিয়েছিলে সকল আকাশ (১৯৮৮), মৌলিক মুখোশ (১৯৯০)।

প্রতিবাদী রোমান্টিক এই কবির স্বপ্ন ছিল সিনেমা বানানোর। কিন্ত তার স্বপ্ন ছোয়ার আগেই মৃত্যু তাকে থামিয়ে দেয়।