শুভ জন্মদিন কবি নির্মলেন্দু গুণ

ইসতিয়াক আহমেদ:


v

“আমি জন্মের প্রয়োজনে ছোট ছিলাম, মৃত্যুর প্রয়োজনে বড় হচ্ছি”

এই ছোট্ট একটা বাক্যের মাধ্যমে যিনি মানুষের বড় হওয়ার কারণটা বলেছেন, তিনিই আজ আবার আরেকটু বড় হয়ে গেলেন। বলছিলাম প্রিয় কবি নির্মলেন্দু গুণের কথা। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান এই কবি আজ ৭২ এ পা দিলেন। কবির ৭২ তম জন্মদিনে তার জন্য রইল অনেক অনেক শুভকামনা।

জন্ম ও শৈশবঃ ১৯৪৫ সালের আজকের দিনে নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টা উপজেলার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন প্রবীণ এই কবি। তার বাবার নাম বীণাপাণি আর বাবার নাম সুখেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী। মাত্র চার বছর বয়সে কবি তার মাকে হারান।

শিক্ষা জীবনঃ কবির পড়াশুনা শুরু হয় বারহাট্টা করোনেশন কৃষ্ণপ্রসাদ ইন্সটিটিউটে। ১৯৬২ সালে কবি দুই বিষয়ে লেটার মার্কসসহ প্রথম বিভাগে মেট্রিক পাশ করেন। মেট্রিক পাশ করার পর কবি ভর্তি হন ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে। ১৯৬৪ সালে সেখান থেকেই তিনি আইএসসি পাশ করেন। আইএসসি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের ১১৯ জন প্রথম বিভাগ অর্জঙ্কারী ছাত্রদের মধ্য তিনি ছিলেন একজন। ১৯৬৯ সালে বিএ পাশ করেন কবি।

সাহিত্যকর্মঃ শৈশব থেকেই লেখালেখি শুরু করেন কবি। ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কবিতা। ১৯৭০ সালে প্রকাশ পায় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ “প্রেমাংশুর রক্ত চাই’। তার বিখ্যাত গ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে ‘না প্রেমিক না বিপ্লবী’, “দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী’, ‘চাষাভূষার কাব্য’, ‘আপন দলের মানুষ’, ‘দেশান্তর’ , ‘ইয়াহিয়াকাল’, ‘আমার কণ্ঠস্বর’ , ‘মুঠোফোনের কাব্য’, ‘মজাঘট’, ‘আত্মকথা ১৯৭১’, ‘অচল পদাবলী’, ‘শান্তির ডিক্রি’, ‘নেই কেন সে পাখি’ ইত্যাদি। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হলে তিনি লেখেন ‘আমি কারো রক্ত চাইতে আসিনি’ কবিতাটি। সামরিক শাসনের মধ্যে প্রকাশিত এই কবিতাটি তার সাহসিকতা এবং রাজনৈতিক সচেতনতার পরিচয় বহন করে। তার কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে প্রেম, বিদ্রোহ, দেশপ্রেম।

পেশগত জীবনঃ পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন একাধারে কবি এবং সাংবাদিক। সংবাদপত্রে ‘নির্গুণের জার্নাল্’ এর মত জনপ্রিয় কলাম লিখেছেন তিনি। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির সাথেও যুক্ত ছিলেন এই কবি।

পুরষ্কারঃ নির্মলেন্দু গুণ তার জীবনের অসাধারণ সাহিত্যকর্মের জন্য অসংখ্য পুরষ্কার পেয়েছেন। তবে তার জীবনের প্রথম পুরষ্কারটি ছিল একটি আয়না, যেটি তিনি তার স্কুলে ‘হাত বাধা বিস্কুট দৌড়’ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনের জন্য পেয়েছিলেন। বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন একুশে পদক (২০০১), বাংলা একাডেমী পুরষ্কার (১৯৮২) , আলাওয়াল পদক , গৌরকিশোর সাহিত্য পুরষ্কার সহ আরো অনেক পুরষ্কার।  কবি নির্মলেন্দু গুন তার নিজ গ্রাম কাশ বনে প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি মাধ্যমিক স্কুল।

Leave a Reply