বাঁচানো গেল না বুক জোড়া লাগানো দুই জমজ শিশুকে

jomos

সময়ের কণ্ঠস্বর- বাঁচানো গেলো না যশোরের সেই জোড়া লাগানো দুই জমজ কন্যাশিশুকে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

এর আগে শুক্রবার সকালে যশোরের চৌগাছা উপজেলার একটি ক্লিনিকে জোড়া লাগানো দুই শিশুর জন্ম দেন চৌগাছার উজিরপুর গ্রামের কৃষক মন্টু হোসেনের স্ত্রী রিনা খাতুন। মুখমণ্ডল, হাত, পা, কিডনি, যকৃতসহ অন্যান্য সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এক থাকলেও ওদের হৃদয় (হৃদপিণ্ড) ছিল একটি।

গত ১৭ জুন এক হৃদপিণ্ড নিয়ে জন্মগ্রহণ করা জমজ শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখতে উন্নত চিকিৎসা সহায়তা প্রদানে দু’হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। ১৯ জুন তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়ে ওই জমজ নবজাতকটির সুচিকিৎসার জন্য যশোর থেকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। এরপর নবজাতককে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল মান্নানের অধীনে হাসপাতালে ভর্তি করান।

চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ভয়ে মিডিয়ার কাছ থেকে খবরটি গোপন রেখেছিলেন। ভেবেছিলেন জমজ শিশু দুটির শারীরিক অবস্থার একটু উন্নতি হলে তিনি সামগ্রিক চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করবেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশু দুটির হৃদযন্ত্রে পিডিএ ও রক্তে সেপসিসজনিত সমস্যা ছিল। শিশু দুটিকে নবজাতক ও শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জোড়া লাগানো নবজাতক দুটির মৃত্যু হয়।

শিশু দুটির মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে মন্টু হোসেনের ভাই আকতারুজ্জামান টেলিফোনে বলেন, গত ১৭ জুন শুক্রবার সকালে চৌগাছার একটি ক্লিনিকে তার ভাবি রিনা খাতুন জোড়া লাগানো জমজ কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।

তিনি বলেন, তাদের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় চিকিৎসকরা যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকায় রেফার্ড করেন।

পরের দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে শিশুটির চিকিৎসা চলছিল। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে শিশু দুটি মারা যায় বলে জানান আকতারুজ্জামান।