আগামী বছর উড়বে সবচেয়ে বড় বিমান

biman


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্কঃ

আর মাত্র এক বছর। তারপরই আকাশে ডানা মেলতে যাচ্ছে বিশ্বের এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় বিমান। চওড়ায় ফুটবল মাঠের সমান বিমানটির নির্মাণকাজ পুরোদমে চলছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়।

সবচেয়ে বড় এই বিমান নির্মাণের পেছনে কাজ করছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পল অ্যালেন। বিমানটি মূলত মহাকাশ যান উৎক্ষেপক হিসেবে কাজ করবে। অর্থাৎ এটি যাত্রীবাহী বিমান নয়।

কয়েক বছর আগে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা মহাকাশযান প্রেরণের ৩০ বছরের কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা দিয়েছিল। এর পরই কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী মহাকাশে যান প্রেরণের ব্যবসায় নেমে পড়েছেন। ব্যবসায়ী এলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স, জেফ বেজসের ব্লু অরিজিন, রিচার্ড ব্রানসনের ভার্জিন গ্যালকটিক ভার্জিন গ্যালাকটিক মহাকাশ যান নির্মাণ ও বাণিজ্যে কাজ শুরু করেছে। মাস্কেরে স্পেসএক্স মঙ্গল গ্রহে লোক পাঠাতে চাইছে, ব্লু অরিজিন সস্তায় ও পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট নির্মাণ এবং ভার্জিন গ্যালাকটিক মহাকাশে পর্যটন ব্যবসা নিয়ে কাজ করছে। তবে পল অ্যালেনের ভালকান অ্যারোস্পেস এসব কিছুই করতে চাইছে না। তাদের উদ্দেশ্যটা একটু ভিন্ন।

এত দিন ভূমিতে স্থাপিত উৎক্ষেপণ যন্ত্রের মাধ্যমে মহাকাশে রকেট উৎক্ষেপণ করা হতো। এতে একদিকে যেমন উৎক্ষেপণের জন্য জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে উৎক্ষেপণযন্ত্র মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণসহ সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় ব্যয়ের অঙ্কটা অনেক বড় হয়ে যায়। পল অ্যালেন এ সুযোগটি নিতে চাইছেন। তার প্রকল্পে রকেট ভূমি থেকে নয় বরং আকাশ থেকে বিমানের মাধ্যমে উৎক্ষেপিত হবে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই বিমানটির নাম দেওয়া হয়েছে স্ট্রাটোলাঞ্চ ক্যারিয়ার। দানবাকৃতির এই বিমানটিতে ছয়টি ৭৪৭ জাম্বোজেট ইঞ্জিন থাকবে। এর ডানার দৈর্ঘ্য ৩৮৫ ফুট বা ১১৭ মিটার। এর ওজন ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৩১১ কেজি। দুটি বিমানের পাশাপাশি সংযুক্ত রূপ হচ্ছে স্ট্রাটোলাঞ্চ। তবে এই দুই বিমানের মাঝে থাকবে স্যাটেলাইট বা মহাকাশ যান। বিমানটিতে করে পৃথিবীর কক্ষপথে উৎক্ষেপণের জন্য স্যাটেলাইটটি পরিবহন করা হবে। আকাশে নির্ধারিত উচ্চতায় যাওয়ার পর স্যাটেলাইট রকেটটি ছেড়ে দেওয়া হবে। এর ফলে রকেটটি নির্ভুলভাবে এবং দ্রুতগতিতে কক্ষপথে পৌঁছতে পারবে। এ ছাড়া আগে ভূমি থেকে উৎক্ষেপণের জন্য আবহাওয়ার ভালো-মন্দের ওপর নির্ভর করতে হতো। এ ক্ষেত্রে তা লাগবে না। স্যাটেলাইট ছাড়াও স্ট্রাটোলাঞ্চ মহাকাশ যান উৎক্ষেপণ করতে পারবে। এই যানে করে মহাকাশচারীরা পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের কক্ষপথে স্বল্পসময়ে পৌঁছতে পারবে।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, বিমানটির ৭৬ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়ে গেছে। এখনো ইঞ্জিন স্থাপন, ল্যান্ডিং গিয়ার ও একটি অংশের ডানা বসানোর কাজ বাকি রয়েছে। চলতি বছর শেষ নাগাদ এই নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকালে ২০২০ সাল নাগাদ বাণিজ্যিক ভিত্তিকে কাজ শুরু করবে স্ট্রাটোলাঞ্চ।