ভালোবাসার সম্পর্কে অশান্তি সৃষ্টির কারন আপনার নিজের অজান্তেই যখন আপনি !

ভালোবাসার সম্পর্কে অশান্তি, কারনটা আপনি নিজে নন তো!

নিশীতা মিতু, লাইফস্টাইল ফিচার এডিটর, সময়ের কণ্ঠস্বর।
সম্পর্ক শব্দটির সাথে আমরা প্রায় সবাই-ই পরিচিত। ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠে দুজন মানুষের ভালোলাগা, ভালো, মন্দ সবকিছু মিলিয়ে। সম্পর্কের সূচনা লগ্নে দুজন মানুষকে যতটা খুশি দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রেই অদূর ভবিষ্যতে তা আর দেখা যায়। ভালোবাসাটা ফ্যাঁকাসে হয়ে সেখানে জায়গা করে নেয় অশান্তি, বিরক্তি, সন্দেহ।

আমি সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ নই। কোন মনোরোগ বিশেষজ্ঞও নই। তবে আশে পাশের মানুষকে দেখে, অভিজ্ঞতার আলোকে সম্পর্কের অশান্তি বিষয়ে কিছু বলার চেষ্টা করছি।

এইতো কদিন আগের কথা। আড্ডা দিচ্ছিলাম স্কুল জীবনের বান্ধবী রাহার (ছদ্মনাম) সাথে। বেশ হাসিখুশি মেয়েটা। সম্পর্কের ব্যাপারে প্রশ্ন করাতেই মুখটা ফ্যাঁকাসে হয়ে গেলো তার। জানালো, প্রেমিক আজকাল তাকে অকারণেই বেশ সন্দেহ করছে। ভার্সিটির ছেলে বন্ধুদের সাথে কখপোকথন কিছুতেই মানতে চাইছে না সে। এমনকি ফেসবুকের ছেলে বন্ধুদেরও সহ্য হচ্ছে না তার।

আচ্ছা, ভালোবাসা বলতে আসলে কি বোঝায়? দুজন মানুষ তো তখনই একে অপরকে ভালোবাসে যখন তাদের সবকিছুই অন্যের কাছে ভালো লাগে। কিংবা যা খারাপ লাগে তা বদলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

somoyerkonthosor-relationsh
ভালোবাসার সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি। অলংকরন নিশীতা মিতু

এক্ষেত্রে আমি বলবো, অনেক প্রেমিক প্রেমিকা তাদের সম্পর্কে যে ভুলটি সবচেয়ে বেশি করে থাকে তা হল অপর পক্ষকে ঠিক নিজের মত ভাবা। আপনি আর সে কিন্তু ভিন্ন সত্ত্বা। আপনাদের পছন্দ থেকে শুরু করে চাহিদা, ইচ্ছা, ভাব ভঙ্গি সব কিছুতেই পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। অনেকে এই স্বাভাবিক ব্যাপারকেই মানতে পারেন না। ফলাফল সম্পর্কে অশান্তি, ঝগড়া।

এর চেয়ে এটা কি ভালো হয়না, যে তাকে বুঝুন। সে কোন ব্যাপারকে কিভাবে গ্রহণ করে তা দেখুন। আপনার অপছন্দের কিছু যদি তার পছন্দের তালিকায় থেকে থাকে তবে তাকে ভালোবেসেই তা বুঝিয়ে বলুন। কিংবা, নিজেই তার সাথে একটু মানিয়ে চলার চেষ্টা করুন। আর এত কিছুর পরও যদি আপনার মনে হয় তার সাথে আপনার কিছুতেই মিলছে না তবে লোক দেখানো সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসুন।

এরপর আসা যাক মোবাইল, ফেসবুকের বিষয়ে। মোবাইল ওয়েটিং কেন? তার সাথে কথা বল কেন? ওমুক ফেন্ডলিস্টে আছে কেন? তমুকের ছবিতে লাইক দিলে কেন?… এ ধরণের কথাগুলো বেশ হাস্যকর। আপনাদের দুজনের সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় হলে কোন ৩য় পক্ষের ক্ষমতা নেই আপনাদের আলাদা করার। একজন ছেলের যেমন অনেক মেয়ে বন্ধু থাকতে পারে তেমনি একজন মেয়ের অনেক ছেলে বন্ধু থাকতে পারে। আপনার বন্ধুদের সাথে তার পরিচয় করিয়ে দিন। এতে তার মনে আর সন্দেহ জন্মাবে না। আর যদি আপনার কাছেই মনে হয় আপনার প্রিয় মানুষটা অন্য কারো সাথে বাড়াবাড়ি বা মাত্রাতিরিক্ত সম্পর্ক বজায় রাখছে তবে তা নিয়ে সরাসরি কথা বলুন।

অনেকে সম্পর্কের অল্প দিনেই খুব বেশি অন্তরঙ্গ সম্পর্ক তৈরি করতে চান। একজন মা কিন্তু এক মাসে সন্তানের জন্ম দিতে পারেন না। তাকে অন্তত ৯/১০ মাস অপেক্ষা করতে হয়। বীজ থেকে অঙ্কুরিত হয়েই একটা গাছ ফল দিতে পারেনা। তাকে নির্দিষ্ট সময় পার করতে হয়। ঠিক তেমনি একটা সম্পর্ক পরিনত হতেও বেশ সময় লাগে। অনেকেই তাড়াতাড়ি অন্তরঙ্গ হতে চান বলেই অপর পক্ষ তা মানতে পারে না। ফলে সন্দেহ, ভয় আর অশান্তির জন্ম হয়।

দয়া করে এই কাজটা করবেন না। দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করা, অন্তরঙ্গ সময় কাটানো ছাড়াও ভালোবাসার মানুষের কাছাকাছি আসা যায়। তার মনে বিশ্বাস তৈরি করুন। তার আবেগ বুঝতে চেষ্টা করুন।

এরপর, একটি মজার বিষয়ে আসা যাক। অনেক সম্পর্কে অশান্তির মূল হয়ে দাঁড়ায় অন্য কারো সম্পর্ক। হ্যা, আসলেই। ওরা এমন করে, তুমি কেন কর না? ওর প্রেমিক এটা দেয় তুমি তো দাও না? তার প্রেমিকা দেখতে এমন তুমি কেমন জানি… এসব ব্যাপার গুলো মজা করে বলা হলেও একসময় বিরাট আকার ধারণ করে। যার ফলে ভেঙ্গে যায় সুন্দর সম্পর্ক।

অন্যদের কেন অনুসরন করবেন? আপনারা আপনাদের মতই ভালো থাকুন না। নিজেদের যা আছে তা নিয়ে সুখে থাকুন। দেখবেন, এক সময় আপনারাই হবেন অন্যদের উদাহরণ।

শেষে এসেও সেই একই কথা বলবো। সম্পর্ক ব্যাপারটা একক নয়। দয়া করে, অপরপক্ষের দোষ ধরা বন্ধ করুন। আপনার সম্পর্ক যদি ঠিক না চলে তবে একটু নিজের মত সময় নিয়ে ভাবুন। নিজের কোন ভুল নেই তো, যার জন্য এমন হচ্ছে। নিজেকে একটু বদলে ফেলতে চেষ্টা করুন। আর কিছুতেই কিছু না হলে, ঠুনকো সম্পর্কে ভেঙ্গে একাই ভাল থাকুন। ভেবে নিন সঙ্গী নির্বাচনে ভুল করেছিলেন আপনি।