মোটরসাইকেল আটক করে ঘুষ নিল পুলিশ, তবে সেটা সিসি ক্যামেরার আড়ালে!

13522389_1003128369782287_1469972018_n

সময়ের কণ্ঠস্বর– পুলিশ মানুষের বন্ধু, জনগনের বন্ধু। কিন্তু সেই পুলিশ কতটুক হতে পেরেছে জনগনের বন্ধু? আর কত টুকু উপকার হচ্ছে তাদের দ্বারা? অনেকের মনেই এমন প্রশ্ন বার বার ঘোর পাক খায়। আর এসব হয় মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কতিপয় অসাধু পুলিশ সদস্যদের জন্য।

এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শাসকদলীয় পরিচয়ের রেশ থাকায় মাঠপর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আদেশ-নির্দেশও থোড়াই কেয়ার করছেন। ‘উপর মহলের’ নির্দেশে গুরু অপরাধে লঘুদের মাধ্যমে ছাড় পাচ্ছেন অনেকে। এছাড়া পুলিশের অপরাধের তদন্ত হয় নিজ বাহিনীতেই। এ জন্যও অনেক সময় অপরাধী ছাড় পেয়ে থাকেন বলে ধারণা করা হয়।

সবকিছু মিলিয়ে ‘বিপদের বন্ধু পুলিশ’ই অনেক ক্ষেত্রে হয়ে উঠছে বিপজ্জনক। এ জন্য ভোগান্তি পোহাতে হয় নিরীহ নগরবাসীকে। যদিও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, পুলিশের বিরুদ্ধে অপরাধের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলা হচ্ছে। প্রতিটি অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে ভুক্তভুগীরা বলছে, কতিপয় অসাধু পুলিশ সদস্যের জন্য পুরো বাহিনীটিই এখন ভুগছে ইমেজ ও আস্থার সংকটে। সৎ, নিষ্ঠাবান পুলিশ সদস্যদের অনেক সাফল্যমন্ডিত ও অপরাধ দমনে সাহসী কর্মকান্ডই ভেসে যাচ্ছে দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ সদস্যদের অনিয়মের বানের জলে।

ঠিক তেমনি একটা অনিয়ম উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে। রাজধানীর মিরপুরের প্রশিখার মোড়ে চেক পোস্ট বসিয়ে রুপনগর থানার এ এস আই প্রদীপের নেতৃত্বে দিগন্ত নামে এক যুবকের মোটর সাইকেল আটক করে। প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র দেখানো সত্তেও, ওই মোটর সাইকেল সহ যুবককে থানায় নিয়ে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভুগীর অভিযোগ,  ২০ই জুন (সোমবার) বিকালে প্রশিখা থেকে তিনি রূপনগর যাওয়ার পথে প্রশিখার মোড়ে পুলিশ চেক পোস্ট বসিয়ে তার মোটর সাইকেল আটক করে। প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র দেখানো সত্তেও, তাকে থানায় নিয়ে ১০০০ টাকা দাবি করা হয়।

ঘটনা এখানেই শেষ নয়, আর সেই ঘুষের টাকা দেওয়ার সময় একজন সিনিয়র পুলিশ ভিতর থেকে বের হয়ে এসে যে পুলিশ ঘুষ চাচ্ছিলো তাকে ধমক দেয় আর তখন সেই পুলিশকে দেখে অনেকটাই আশা ফিরে পায় সেই যুবক। কিন্তু কথা এই যে, সিনিয়র পুলিশ ধমক দিয়ে সেই পুলিশকে বলে – ” কি শুরু করছেন আপনারা? দেখতেসেন না এইখানে থানার সিসি ক্যামেরা?? যান ভিতরে গিয়ে এইসব করেন, সিসি ক্যামেরার সামনে থেকে সরেন”

শেষ পর্যন্ত যুবকটি নিরুপায় হয়ে উল্লেখিত টাকা দিতে বাধ্য হন। আর সেই সময় পুলিশের ঘুষ চাওয়া টাকার কথা গুলো তার মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে রাখে। ভুক্তভুগীর আরও অভিযোগ করে বলেন, এ সমস্যা আজ নতুন নয়, এ হয়ে আসছে অনেক আগে থেকেই আর মিরপুরের মানুষ বরাবরই আজ নির্যাতিত।

স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যা,  কিছু হলেই এখন রূপনগর আর পল্লবী থানার কিছু অসাধু পুলিশ আজ টাকা ছাড়া বুঝে না কিছুই। টাকা দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে অনেক বড় ধরনের অপরাধীরা কিন্তু ভোগান্তি হচ্ছে এই সাধারন জনগনের।