ঈদের ব্যস্ততায় শহরে উপচেপড়া ভিড় বনাম অটোরিক্সার নগরী সৈয়দপুর!

IMG_3007মোঃ মহিবুল্লাহ্ আকাশ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: আর ১৪ দিন পরই ঈদের খুশীতে মাতবে বাংলাদেশ। সারাদেশের মতো সৈয়দপুরেও চলছে ঈদের কেনাকাটা, ব্যস্ত মানুষ ছুটছেন প্রিয়জনের মুখে হাসি ফোটাতে। লক্ষ্য শহরে ঢোকা। নীলফামারী জেলার ৬ উপজেলার মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ শহর সৈয়দপুর। এখানে ঈদের আগে বাকি পাঁচ উপজেলা থেকেই মানুষজন কেনাকাটা করতে আসেন। তাই বেড়ে যায় মানুষের চাপ। আর এই চাপের সাথেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সৈয়দপুরে অটোরিক্সার সংখ্যা। বিষয়টা এমন দাড়িয়েছে, অটোরিক্সা আর বাড়তি মানুষের চাপে ছোট শহর সৈয়দপুরে পা ফেলাই দায় হয়ে পড়েছে।

জেলার একমাত্র প্রধান বানিজ্যিক শহর সৈয়দপুর এখন ব্যাটারীচালিত অটোরিক্সার দখলে। সৈয়দপুর শহরের প্রধান বিভিন্ন প্রধান সড়কগুলো প্রায় সারাদিনই ব্যস্ত থাকে অটোরিক্সার ভীড়ে। এসব ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সার কারণে যেমন ব্যহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের পথচলা, তেমন বাড়ছে অনাকাঙ্খিত যানযট।

শহরের পাঁচ মাথা মোড়, দিনাজপুর রোড, সিনেমা রোড সড়কগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার দু’পাশে অবস্থান করছে শত-শত অটোরিক্সা। আর এসবের কারণে যেমন সাধারণ মানুষের চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে তেমন বিপাকে পড়ছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা।

পাঁচ মাথা মোড়, দুই নং রেল ঘুমটি, সৈয়দপুর বাস টার্মিনাল, দিনাজপুর রোড (মদিনা মোড়), সৈয়দপুর প্লাজা, রংপুর রোড, গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অটোরিক্সাগুলোর অবস্থান বেশি। অটোরিক্সা চালকদের বেপরোয়া অটোচালনায় প্রায়ই কোন না কোন দূর্ঘটনা লক্ষ্য করা যায়।ইতোপূর্বে অদক্ষ অটো চালকদের বেপরোয়া গতির কারণে কয়েক শিশু নিহত ও দূর্ঘটনায় অনেকেই আহত হয়েছেন।

একজন অতিষ্ট পথচারি নীলফামারীনিউজ কে অভিযোগ করে জানান, শহরে তো এখন যাওয়া অনেক মুশকিল হয়ে গেছে! সৈয়দপুরে এখন মানুষের চেয়ে অটোরিক্সাই বেশি। যার ফলে প্রতিদিনই কোন না কোন ছোট-খাট দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

সৈয়দপুর লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী ফারাজানা নীলফামারীনিউজ কে বলেন, ‘অটোচালকেরা এতো বেপরোয়াভাবে অটো চালায় যে, রাস্তা পার হওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে। স্কুল ছুটি হলে রাস্তা পার হতে অনেক বেগ পেতে হয়।

সৈয়দপুর প্লাজা রোডে চলাচলকারী এক পথচারি বলেন, ‘অটো চালকরা পারে তো গাড়ী গায়ের উপর তুলে দেয়। এদের কারণে সৈয়দপুরে এতো যানযট, এতো দূর্ঘটনা। এদের কিছু বললে আবার সাধারণ পথচারীদের উপরেই চড়াও হয়ে ওঠে’। এই অপরিকল্পিত অটো গুলো অবিলম্বে বন্ধ করা হউক।

বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হলেও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর এমন সব ভোগন্তির চিত্র হরহামেশাই দেখা যায়। তাই পৌর কর্তৃপক্ষ সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের ঈদের কেনাকাটায় ভোগান্তি লাঘবে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করেছেন সৈয়দপুরের সচেতন মহল।