তীব্র খাদ্য সঙ্কটে ভেনেজুয়েলা : খাবারের জন্য হাহাকার , দাঙ্গায় হচ্ছে মৃত্যু , তবুও মিলছে না খাবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক –   বিভিন্ন শহরের সুপার মার্কেট ঘিরে মোতায়েন করা হয়েছে সেনা। সশস্ত্র বাহিনী ঘিরে রেখেছে বেকারিগুলো। তা সত্ত্বেও উন্মত্ত জনতা মাঝেমধ্যেই হামলে পড়ছে দোকানে, বাজারে, বেকারিতে। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট ছুড়তে হচ্ছে পুলিশকে। কেউ জখম হচ্ছেন, খাবার ছিনিয়ে নেওয়ার দাঙ্গায় কারও মৃত্যু হচ্ছে। তবু খাবার মিলছে না।

khaddo songkot

সোমালিয়া নয়, সম্পদের অভাবে ধুঁকতে থাকা কোনও দরিদ্রতম দেশও নয়। সবচেয়ে বেশি খনিজ তেলের মালিক যে দেশ, খাবার নিয়ে এখন সে দেশের বিভিন্ন শহরে রোজ এমন দাঙ্গা হচ্ছে।

দেশটার নাম ভেনেজুয়েলা। লাতিন আমেরিকান দেশটার মাটির নীচে যে পরিমাণ খনিজ তেল জমে রয়েছে, আরব দেশগুলিতেও তত তেল নেই। গোটা বিশ্বে তেল বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে যে রাষ্ট্রগোষ্ঠী, সেই ওপেক-এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ভেনেজুয়েলা। কিন্তু চূড়ান্ত আর্থিক অব্যবস্থায় তীব্র খাদ্যসঙ্কট গোটা দেশে। সাধারণ মানুষের হাতে খাবার কেনার পয়সা নেই। অধিকাংশ পরিবার এক বেলা খেয়ে কাটাচ্ছে। কোনও পরিবারে আবার খাবার পাওয়ার রুটিন তৈরি হয়েছে— এক এক জন সদস্যের জন্য এক এক দিন খাবার বরাদ্দ। অন্যদের জন্য উপোস।

দেশে খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে খাবার। তার জোগান এত কম এবং দাম এত বেশি যে সাধারণ মানুষ খাবার কিনতে পারছেন না। তাই শহরে শহরে একই ছবি। কয়েক দিন অন্তর বাজার লুঠ করার চেষ্টা। সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ। খাবার না পেয়ে মার খেয়ে বাড়ি ফেরা। আর লুঠতরাজের চেষ্টা সফল হলে বাজার থেকে আটা, ভুট্টা, নুন, চিনি, জল, আলু, আর যা কিছু হাতের কাছে পাওয়া যায়— সব কিছু লুঠ করে নিয়ে যাওয়া।

 

 

যেখানে যেখানে এমন ঘটনা ঘটছে, সেই সব এলাকাতেই এখন একই ছবি। ভাঙা ফ্রিজার আর ফাঁকা শেল্ফ নিয়ে খাঁ খাঁ করছে বাজারগুলো। সরকারি ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত দোকান খুলতে রাজি নন ব্যবসায়ীরা। অনেকে দোকান খোলার মতো পরিস্থিতিতেও নেই।

সুত্র – আনন্দ বাজার