ঘরমুখী মানুষদের জন্য ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে

সময়ের কণ্ঠস্বর – আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের কাছে কমলাপুর রেলস্টেশনে আজ বুধবার থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। আজ ১ জুলাইয়ের টিকিট দেওয়া হচ্ছে।

আগামী ৬ জুলাই ঈদ হবে ধরে নিয়ে ট্রেনের টিকিট বিক্রির এই সূচি তৈরি করা হয়েছে। এবার ঈদযাত্রার ১০ দিন আগে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হলো। কয়েক বছর ধরে পাঁচ দিন আগে থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হতো।

ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মঙ্গলবার রাত থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশনে টিকিটপ্রত্যাশীদের উপচে পড়া ভিড় দেখতে পাওয়া গেছে। বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ গভীর রাত থেকেই কাঙ্ক্ষিত টিকিট পাওয়ার জন্য এসে জড়ো হয়েছেন কাউন্টারের সামনে।

সাঈদ হোসেন নামের একজন সঙ্গে ছোট ভাইকে সেলিমকে নিয়ে এসেছেন কাটাবন থেকে। ২ জুলাই গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাট যাবেন। সকালে টিকিট পাওয়া যাবে, এ কারণে তিনি গতকাল রাতেই চলে এসেছেন বলে জানান।

সবগুলো কাউন্টারের সামনেই লোকজন দাঁড়িয়ে, বসে গল্প কিংবা তাস খেলে লাইন পাহারা দেন গতকাল। সময়ের সঙ্গে কাউন্টারের সামনে টিকিটপ্রত্যাশীদের ভিড়ও বাড়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, লাইনে দাঁড়ানো লোকজনের মধ্যে কোনো কালোবাজারি আছে কি না, তার তদারকি করছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তবে লাইনে দাঁড়াতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন নারীরা। তাদের জন্য যে দুটি কাউন্টার আছে তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম বলে অনেকেই অভিযোগ করেন।

treen-ticket-1stএ ব্যাপারে কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, এবার ২৩টি কাউন্টার খোলা হয়েছে। যা গতবারের তুলনায় বেশি। লাইনে থাকলেও সবাই টিকিট পাবেন। কেননা এবার ট্রেনের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। স্টেশনে কোনো ধরনের কালোবাজারি নেই বলে তিনি দাবি করেন। নারীদের কাউন্টার কম হলেও টিকিট দিতে সমস্যা হবে না বলে তিনি মনে করেন।

স্টেশনের অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৯টি আন্তনগর ট্রেনের সঙ্গে মোট ৬৮টি ট্রেনের টিকিট প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিক্রি করা হচ্ছে। এ ছাড়া স্পেশাল ট্রেন রয়েছে তিনটি। সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৮ হাজার টিকিট বিক্রি করা হবে। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ চারটি টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

এদিকে, যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও কালোবাজারি রুখতে মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কমলাপুর রেলওয়ে থানার ওসি আব্দুল মজিদ বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও কালোবাজারি রোধে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছেন।”

এর আগে, গত ১৫ জুন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক আগামী ২২ জুন থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির ঘোষণা দেন।

ওসি আরো জানান, রেলের পরিচালনা বিভাগের করা সময়সূচি অনুসারে ২২ জুন বিক্রি হবে ১ জুলাইয়ের অগ্রিম টিকিট। ২৩ জুন পাওয়া যাবে ২ জুলাইয়ের টিকিট। একইভাবে ৩, ৪ ও ৫ জুলাই ট্রেন ভ্রমণের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হবে যথাক্রমে ২৪, ২৫ ও ২৬ জুন। এ ছাড়া ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার জন্য ফিরতি ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে ৪ জুলাই। ওইদিন ৮ জুলাইয়ের টিকিট দেওয়া হবে। এ ছাড়া ৫ জুলাই ৯ জুলাইয়ের, ৭ জুলাই ১০ ও ১১ জুলাইয়ের এবং ৮ জুলাই ১২ জুলাইয়ের ফিরতি টিকিট দেওয়া হবে।