বাঁচার তীব্র আকুতি শিশু ফরিদার

ফয়সাল শামীম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

‘আমাকে আপনারা বাঁচান! আমি বাঁচতে চাই! আমি আবার খেলতে চাই! আমি খুব কষ্টে আছি সারাদিন আমার মাথাব্যাথা করে, মাথা খুলে পড়তে চায়, বুক ধড়পড় করে, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে চায়’ খুব কষ্ট করে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলি বলছিলেন মাছুম শিশু ফরিদা। দু’চোখের কোনা বেয়ে পানি টপ টপ করে পড়ছে আর এই কথাগুলো বলছে শিশু ফরিদা (৮) ও তার মা জোবেদা।

ফরিদার বাড়ী কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভবানীপুর ঝাকুয়াবাড়ী গ্রামে। সে দুরারোগ্য ’পলিসাইটেমিয়া’ ও লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হলেও সমাজের কিছু হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতায় তার চিকিৎসা চলছিল। হঠাৎ করে রংপুর মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার পরীক্ষা নিরিক্ষা করে জানিয়ে দেন ’পলিসাইটেমিয়া’ ও লিভার সিরোসিসের পাশাপাশি ফরিদার হার্টে (পিডিএ) হয়েছে। যার চিকিৎসা একমাত্র ঢাকাতেই সম্ভব। যাতে খরচ হবে প্রায় ২ লক্ষ টাকা।

জন্মের পরেই ফরিদা বাবাকে হায়ায় বাবার আদর সে পায়নি। এখন অন্যের বাড়ীতে ঝি (কাজের মানুষ) এর কাজ করা ফরিদার দরিদ্র অসহায় মা জোবেদা নতুন করে চিন্তায় পড়ে যায় তিনি এই ২ লক্ষ টাকা কোথায় পাবেন?? তাই শিশুকে বাঁচাতে তিনি সমাজের বৃত্তবান ও হৃদয়বান মানুষকে সহযোগিতা করার জন্য বিনীত অনুরোধ করেছেন।

উল্লেখ্য, ফরিদাকে নিয়ে সময়ের কন্ঠস্বরে খবর প্রকাশের পর সামান্য কিছু টাকা পাওয়া যায় এ টাকা দিয়ে ও ঔষধের দোকানে বাকী রেখে পলিসাইটেমিয়ার প্রথম ধাপের অপারেশন হয়।

kurigram-foisalপ্রতিবেদকের কথা- প্রিয় পাঠক পবিত্র রমজান মাসে আমরা কি পারি না বাবা হারা অসহায় মাছুম শিশু ফরিদাকে বাঁচাতে ?? পবিত্র মাসে একটা ভালো কাজ করতে ?? আমি স্ব-উদ্দ্যোগে শিশুটিকে নিয়ে আজ ঢাকায় এসেছি। বর্তমানে সে জাতীয় হৃদরোগ ইনিষ্টিটিউট এর ৩য় তলার মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের ৩ নম্বর বেডে আছে। আপনারা যারা ঢাকার আশেপাশে আছেন তারা চাইলে এই শিশুটিকে এখানে এসে দেখে যেতে পারেন।

forida-admidআর্থিক সহোযোগিতা যদি নাও করতে পারেন তবুও আপনাদের সহানুভুতিই কাম্য যা এই শিশুটিকে বেঁচে থাকার নতুন করে অনুপ্রেরণা যোগাবে। আপনাদের কাছে বিণীত অনুরোধ শিশুটির জীবন প্রদীপ অকালে নিভতে দেবেন না দয়া করে শিশুটির পাশে দাড়ান। জয় হোক মানুষের! মানুষ মানুষের জন্য———

ফরিদার ব্যাপারে আরও তথ্য ও সহযোগিতা করতে চাইলে আমাদের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ফয়সাল শামীম এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এই নম্বরে – ০১৭১৫০৯৮৭৪৫.