গাজীপুরে অপহরণের দায়ে পুলিশের এক এএসআই সহ দুইজন কারাগারে

গাজীপুর প্রতিনিধি:


hanskap.jpgman

গাজীপুরে নাছির নামে এক গার্মেন্ট শ্রমিককে অপহরণের পর বাসায় আটকে নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে পুলিশের এক এএসআই সহ দুইজনকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

অপহৃত গার্মেন্ট শ্রমিক নাছিরকে সোমবার রাত ১০টার উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহৃত গার্মেন্ট শ্রমিক জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকার লিবাস গামের্ন্টের সুইং অপারেটর এবং গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরের মাধবপুর এলাকার মৃত নছু মিয়ার ছেলে।

এদিকে গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ঢাকার হাজারীবাগ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোঃ শাহ আলবাব বিল্লাহ (৪২) ও গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ি বাঘিয়া এলাকার সোহরাব সরকারের ছেলে রায়হান সরকার (৪০)। এ সময় অন্য দুই অপহরণকারী রাব্বানী ও মমিন পালিয়ে যায়। এএসআই আলবাব বিল্লাহ তিন মাস আগে গাজীপুর ডিবি পুলিশে কর্মরত ছিলেন।

জয়দেবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) রুহুল আমিন জানান, নাছির (২৫) সোমবার ভোরে ফজরের নামায আদায় করে কাশিমপুরের মাধবপুর এলাকার মসজিদ থেকে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় এএসআই বিল্লাহ ও তার তিন সহযোগী ডিবি পুলিশ পরিচয়ে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে তাকে জোরপূর্বক প্রাইভেটকারে উঠিয়ে চোঁখ বেধে নির্যাতন শুরু করে। পরে তারা নাছিরের সঙ্গে থাকা আড়াই হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়।

তারা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ঘুরায় এবং নাছিরের মা পারভীন আক্তারের কাছে মোবাইলে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে ছেলেকে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেয় তারা। পরে নাছিরের মা পারভীন আক্তার ছেলের জীবন বাঁচাতে তাদের দেয়া বিকাশ নম্বরে বিশ হাজার ও চাচা আকবর আলী দশ হাজার টাকা পাঠান। বাকি টাকার জন্যে সন্ধ্যায় এএসআই বিল্লাহর জয়দেবপুর শহরের সাহাপাড়ার বাসায় এনে নাছিরের উপর নির্যাতন শুরু করে।

বাড়ির মালিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. নজরুল ইসলাম ঘটনা আঁচ করতে পেরে জয়দেবপুর থানা পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ সোমবার রাত ১০টার দিকে এএসআই বিল্লাহর বাসা থেকে নাছিরকে উদ্ধার এবং তাদের গ্রেফতার করে। রাতেই নাছিরকে অসুস্থ অবস্থায় গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় নাছিরের মা পারভীন আক্তার বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে গ্রেফারকৃতদের মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল মাসুদের আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ইয়াবা সহ মির্জাপুর পৌরসভার পৌর কাউন্সিলর সহ আটক-৩

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভার কাউন্সিলর শহিদুর রহমান শিপন, তার স্ত্রী সহ তিনজনকে ইয়াবা সহ আটক করেছে জয়দেবপুর থানা পুলিশ। আজ বুধবার ভোরে গাজীপুরের বাইমাইল এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার বাউয়ারা কুমারজানি এলাকার মোঃ নজরুল ইসলামের ছেলে কাউন্সিলর শহিদুর রহমান শিপন (৪২), তার স্ত্রী শ্যামলী (২৭) এবং গাড়িচালক মিনহাজ উদ্দিন (৪০)।

জয়দেবপুর থানার কোনাবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, গতকাল রাতে একটি প্রাইভেটকারে করে স্ত্রী সহ ঢাকা থেকে মির্জাপুর যাচ্ছিলেন শিপন। পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় টহল পুলিশ ওই প্রাইভেটকার তল্লাশি করে। এ সময় কারটির ভেতর থেকে ৫২০টি ইয়াবা পাওয়া যায়।

পরে পুলিশ শিপন, তাঁর স্ত্রী শ্যামলী ও কারের চালক মিনহাজকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আটক শহিদুর রহমান শিপন নিজেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভার কাউন্সিলর হিসেবে পরিচয় দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

জানতে চাইলে জয়দেবপুর থানার ভরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল হাসান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, এ ব্যাপারে জয়দেবপুর থানায় মাদক আইনে মামলা হয়েছে।