সালমানকে গণধর্ষিতার খোলা চিঠি, নেটি দুনিয়ায় ভাইরাল, সময় বেঁধে মহিলা কমিশনের নোটিশ

সালমানকে দেয়া গণধর্ষিতার খোলা চিঠি নেটি দুনিয়ায় ভাইরাল! সময় বেঁধে মহিলা কমিশনের নোটিশ – বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলে দিলেন বড়ভাই বলিউড অভিনেতা আরবাজ খান।

বিনোদন ডেস্ক – স্পর্শকাতর বিষয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে এখন রীতিমতো চরম বেকায়দায় বিপাকে পড়েছেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। চলমান ‘সুলতান’ ছবির শুটিং চলাকালিন সময়ে সালমান বলেছিলেন, ‘শুটিং শেষে রিং থেকে আমি যখন বের হতাম, সোজা হয়ে হাঁটতেও পারতাম না। নিজেকে একজন ধর্ষিত নারীর মতো মনে হতো।’

গত মঙ্গলবার ভারতীয় এক গণমাধ্যমকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই নেটি দুনিয়ায় (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম)  সমালোচনার তীব্র ঝড় উঠেছে। এ প্রসঙ্গে এমন মন্তব্য করায় ভারতের পদ্মশ্রী পুরস্কার পাওয়া সমাজকর্মী সুনীতা কৃষ্ণ তাকে উদ্দেশ্য করে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। যা এখন ভাইরাল হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ সমগ্র মিডিয়া পাড়ায়।

এই সুনীতা কৃষ্ণের আরও একটি পরিচয় আছে। তিনি নিজেও গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। তবে লড়াইকরে বেঁচে থাকা সুনীতা জীবনের সেই কালো অধ্যায়গুলো কাটিয়ে উঠেছিলেন শুধুমাত্র নিজের মনোবলের জোরে। সালমানকে উদ্দেশ্য করে তার খোলা চিঠিতে রীতিমতো আক্রমণাত্মক তিনি।

খোলা চিঠিতে সুনীতা লিখেছেন,

‘আমি ওই লোকটার নাম করতে চাই না। যে এসব কথা বলতে পারে, তার নাম করে চিঠি লিখলে তাকে অনেক বেশি সম্মান দেওয়া হয়ে যায়। যেটা ওই লোকটা একেবারেই সেটা ডিজার্ভ করে না। তাই আপনি-আজ্ঞে করার ভণ্ডামিটা করতে পারব না।

আসল কথাটা হল, নিজেকে ওর ধর্ষিতা মনে হচ্ছিল। তাই তো? অন্তত তেমনটাই তো বলেছে। এই কমেন্টে ধর্ষণ ব্যাপারটা খুব সাধারণ, গুরুত্বহীন বলে মনে হয়েছে। ওর কাছে সেটা হতে পারে। কিন্তু বাকি সমাজও কি এটা ভাবে? আমাদের সকলের কাছেই কি ধর্ষণ ব্যাপারটা এতটাই সহজ?

salman-khanমানছি, লোকটাকে ভালই দেখতে। ট্যালেন্টও আছে। সেজন্যই সে স্টার। যার এত খ্যাতি, তার একটা দায়িত্ব থাকবে না? যা খুশি বলে দিলেই হল? বাস্তবে ধর্ষণের কোনও গুরুত্ব না বুঝেই সিনেমায় যা দেখানো হয়, তার ভিত্তিতে একটা কমেন্ট করে দিল। এখন দেখছি এই ‘রেপ কালচার’-এর মধ্যে আমরা যেন খুব বেশি করে ঢুকে পড়ছি। আর না বুঝে এ সব কথা বলে আরও বিষয়টাতে ইন্ধন দিচ্ছি।

শেষে শুধু একটাই কথা বলব, যারা পারভার্ট তারাই এ সব কথা বলতে পারে। আমাদের সকলকে অপমান করেছে ও। তাই ওই লোকটা এই সমাজের লজ্জার কারণ।’

এদিকে এই ঘটনায় ভারতীয় জাতীয় মহিলা কমিশন থেকে তাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সালমানের এমন মন্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে তাঁর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে জাতীয় মহিলা কমিশন। চিঠির জবাব দেওয়ার জন্য এই বলিউড তারকাকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে সাত দিন। কমিশনের প্রধান ললিতা কুমার মঙ্গলম জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সালমান খানকে এই চিঠির জবাব দিতে হবে। জবাবে সন্তুষ্ট না হলে তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় কমিশনে তাঁকে তলব করতে পারে।

অপরদিকে চারিদিকে যখন সালমানের বেফাঁস মন্তব্য নিয়ে তোলপাড় চলছে ঠিক এমন সময় এই  বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছেন তাঁর বড়ভাই বলিউড অভিনেতা আরবাজ খান। আরবাজের মতে, বড় ভাই সালমান খারাপ উদ্দেশ্যে কিছু বলেননি। জনগণ এই মন্তব্য নিয়ে খামোখাই বেশি মাতামাতি করছে।

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সালমান মুখে কী বলেছেন, সেটা নিয়েই শুধু আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু তিনি আসলে কী বোঝাতে চেয়েছেন, সেটাও ভেবে দেখা উচিত। তিনি কথাটা বলেছিলেন শুধু তুলনা করার জন্য। কেউ যদি কথার কথা বলেন, আমি গাধার মতো কাজ করি, তাহলে হয়তো জীবজন্তু নিয়ে কাজ করে—এমন কেউ এসে তাঁর ওপর চড়াও হবেন। কেন তিনি গাধার সঙ্গে নিজেকে তুলনা করলেন, তখন এই নিয়ে কথা উঠবে। ’

আরবাজের ভাষায়, ‘আমি নিশ্চিত, সালমান উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে তাঁর এই উপমাটি যথাযথ হয়নি। তিনি যদি মনে করেন তাঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত, তাহলেই তিনি ক্ষমা চাইবেন। কিন্তু হুট করে বলে দেওয়া ঠিক নয় যে সালমানকে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে। আমি আশা করি, যেহেতু বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তাই তিনি তাঁর মন্তব্যের একটি পরিষ্কার ব্যাখ্যা অবশ্যই দেবেন। কারণ, বহু তরুণ ভক্ত তাঁকে অনুসরণ করে। ’