দেশ ও জাতীর স্বার্থে শিক্ষা – শিক্ষকের গুরুত্ব

ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী প্রতিনিধি:


sikhapotisthan

শিক্ষা-শিক্ষকের যৌগ সূত্র জন্ম জন্মান্তারের। দেশ, সমাজ, পরিবারকে সুন্দর অবকাঠামো দিয়ে সাজাতে হলে প্রয়োজন শিক্ষা। বই, চক, সিলেট, খাতা, কলম, ছাত্র-ছাত্রী প্রত্যেকটি নির্ভর একজন শিক্ষকের উপর। পৃথিবীর প্রত্যেটি দেশ ও জাতীর সভ্যতা এবং নিজ নিজ মানচিত্র খুঁজে পেয়েছে একমাত্র শিক্ষার কারনে। ফিরে পেয়েছে তাদের অধীকার, বস্ত্রহীন থেকে আধুনিকায়নে জাতীর সভ্যতা। এসব কিছু অক্ষর জ্ঞান বা শিক্ষা। বিনা স্বার্থে আবিস্কৃত জ্ঞান সংগ্রহ করেছিলেন সাধারন মানুষ। তখন তাদের চিন্তা চেতনায় লোভ, অর্থ বিনিময় আসেনি, শুধু দেশ ও জাতীর কল্যানে তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম আজকের শিক্ষক।

দিন বদলেছে, জাতীর বিবেক আজ উন্মুক্ত, তাই চিন্তা পরিকল্পনারও পরিবর্তন ঘটেছে। শিক্ষার পরিষর ঘটেছে অনেক যার কারনে শিক্ষকদের দৈনন্দিন অধ্যায়ন সীমা রেখাও নিদিষ্ট নেই। ১০০ মনীষীর মধ্যে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সর্ব উত্তম এক কথায় শিক্ষক। বর্তমান সারা বিশ্বে তার নির্দেশনা প্রত্যেকটি দেশের প্রতিষ্ঠান যা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস-আদালত, রাজনীতি, অর্থনিতী, সংসদ পর্যন্ত বিস্তৃত। বিশ্ব নবী (সাঃ) এর জীবনি লিখতে গিয়ে খ্রিষ্টান লেখক ইউলিয়াম মুর বলেছেন- he was the mater mind not only of his gas but of all ages, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে বিশ্বের প্রথম সারির জ্ঞানীরা সর্ব যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক, রাজনীতি, র্ধম যাজক সহ সর্বশ্রেষ্ঠ সন্মানে ভূষিত করেছেন। আবার মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছিলেন তোমরা শিক্ষকদের অর্মযাদা করনা তাদের সন্মান দিতে শেখ তাদের নিকট হতে জ্ঞান অর্জন কর যা তোমাদের সভ্যতার সঠিক পথে চলতে সহয়তা করবে। কিন্তু বর্তমান যে ছাত্র আজ শিক্ষা অফিসার, শিক্ষা বোর্ডের পরিচালক, ইউএনও, ডিসি, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা এবং মন্ত্রী।

অথচ তাদের কতৃক বিভিন্নভাবে লাঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষ নামের মানুষ গুলো।“ বায়েজীদ বোস্তামীর শিক্ষক সেবায় যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তার বাবা” এখনও সম্ভব সেই নিয়ম নীতি গুলো বাস্তবায়ন করা। শুধু প্রয়োজন অবকাঠামোর বদলানোর। শিক্ষার উন্নয়ন না ঘটলে দেশ ও জাতীর উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশে শিক্ষার প্রযুক্তি বদলেছে কিন্তু এর সঠিক বিজ এখন আবদি রোপন হয়নি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটেছে ব্যাপক, তবে শিক্ষার অভাব রয়েছে অনেক। শিক্ষাকে বিতরন করতে হলে প্রয়োজন বাহক আর বাহক নামের শিক্ষক যদি পদদলিত, লাঞ্চিত, ক্ষুদ্রার্থ থাকে তাহলে তার কাছে সঠিক শিক্ষা আশা করা অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার মতো।

দেশের জনসংখ্যা বিদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে শিক্ষা অর্জনেও আগ্রহ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুন। তাদের জন্য প্রত্যেক জেলার শহর কেন্দ্রিক স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিপূর্ন আসন বা পড়ালেখার সুযোগ না থাকায় মফাস্বলে গড়ে উঠেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে এই প্রতিষ্ঠান গুলোর কোনটি বুনের বেড়ার, ঢেউ টিনের বা আদা কাচা পাকা। আর এলাকার সচেতন মানুষের নিজ উদ্যেগে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো গড়ে উঠেছে। কিন্তু পাঠ দান দিচ্ছেন বিনা বেতনের শিক্ষক। স্কুল কলেছে শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে অধ্যায়নের সুযোগ রয়েছে কিন্তু আজ শিক্ষকরাও বিনা বেতনে পাঠ দান দিচ্ছেন। এই ধারাবাহিকতা বদলানোর জন্যই শিক্ষকরা অলসতার দিন পাতিত করছেন। শিক্ষকরা পাঠদান থেকে দুরে সরে যাচ্ছেন। কিছু সংখ্যক শিক্ষাক পাঠদান দিলেও তাতে ঘাটতি থাকে অনেক।

শিক্ষা – শিক্ষকের ন্যায্য দাবি লক্ষে আজ তারা শিক্ষা প্রাতষ্ঠান ছেড়ে রাজ পথে আন্দোলন করছে। কিন্তু একটি সময় ছিল শিক্ষদের তদারকির মাধ্যমে নিজ নিজ সন্তানদের শিক্ষাদানের কর্মসূচি। দেশের সরকার কে শিক্ষার মান উন্নয়ন স্বার্থে প্রত্যেকটি বিষয় বস্তু সঠিকভাবে পরিলখিত করতে হবে। শিক্ষকদের মর্যাদা সহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। শিক্ষকদের আন্দোলন, মানববন্ধন, অনশন সহ বিভিন্ন কর্মসূচি কেন ? কেনই বা তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে অধীকারের কর্মসূচি দিচ্ছেন ? সরকারকে গুরত্বের সহিত উদ্যেগ নিতে হবে এবং শিক্ষা – শিক্ষক খাতে দূর্নীতি পরিষর করতে হবে। অন্যথায় শিক্ষা জাতীর মেরুদন্ড প্রবাদ বাক্যটি মিথ্যা বলে বিবেচিত হবে। কেন না শরীরের মস্তিষ্ক ঠিক থাকলে অন্যান্য অঙ্গ গুলো ভাল কাজ করে। তেমনি দেশে ও জাতীর জন্য শিক্ষা – শিক্ষক দুই গুরুত্বপূর্ন।