সংযমের মাসেও অসংযম: প্রশাসনের নাকের ডগায় ভেজাল সেমাই তৈরি

semai-bhejal-file-pik
( ফাইল ছবি )

মোঃ হৃদয় খান, স্টাফ রিপোর্টার: ঈদের দিন গুরুত্বপূর্ণ খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম হল সেমাই। যেটা না হলে বাঙালির চলেই না। ঈদকে সামনে রেখে বেড়েই চলেছে সেমাইয়ের চাহিদা। এ সুযোগে অতিরিক্ত লাভের আশায় সক্রিয় হয়ে উঠছে ভেজাল সেমাই কারবারিরা। চাহিদা বেশি হওয়ায় উৎপাদন বাড়াতে নোংরা পরিবেশেই তৈরি করা হচ্ছে ভেজাল সেমাই। কেউ কেউ হাতের সাথে পা-ও চালান সেমাই তৈরিতে। কারিগররাও অপরিচ্ছন্ন। আবার চড়া দাম পেতে নামী প্রতিষ্ঠানের প্যাকেট ছাপিয়ে তাতে ভরা হয় কম দামী সেমাই। এক্ষেত্রে অবৈধভাবে বিএসটিআই অনুমোদিত লোগো লাগাতেও দেখা যায় তাদের। অন্যদিকে জেনেও না জানার ভান করছে প্রশাসন। নামে মাত্র ২/১ টি অভিযান চালালেও তা জনগনের কোনো উপকারেই আসছে না।

ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা, নরসিংদী, বগুড়া, গাজীপুর, নারায়নগঞ্জসহ সারাদেশেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে ভেজাল সেমাই। রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় দুই শতাধিক কারখানায় ভেজাল সেমাই তৈরি করা হচ্ছে, যেগুলোর বেশিরভাগই অনুমোদিনহীন। প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির লেবেল প্যাকেটে লাগিয়ে তা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এসব কারখানায় খোলা জায়গায় রয়েছে আবর্জনা, বাতাসে উড়ছে ধুলা-বালি। এর মধ্যেই বাঁশে সারি-সারি সাজিয়ে রোদে শুকানো হচ্ছে কাঁচা সেমাই। আর পোড়া মবিলে ভাজা হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই।

মাঝে মধ্যে ২/১ টা অভিযান চালালেও বেশিরভাগ কারখানাই রয়েছে ধরা-ছোয়ার বাইরে। ঈদকে কেন্দ্র করে মোবাইল কোর্টের যৌথ অভিযানে ভেজাল কারখানার মালিকদের জরিমানা করে ছেড়ে দেয়ায় তারা পুনরায় শুরু করছে ভেজাল সেমাই তৈরি। যার ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে সাধারণ জনগন।

অভিযান আরো বাড়িয়ে ভেজাল সেমাইয়ের সাথে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান অভিজ্ঞমহল।