দিন মজুর আসাদুল হত্যা মামলার ৬ আসামীর জামিন না মঞ্জুর

এম এ সাইদ খোকন, বরগুনা প্রতিনিধি:


atalot-

বরগুনার আমতলী উপজেলার পূর্ব চিলা গ্রামের দিন মজুর আসাদুর রহমান (আসাদুল) কে পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামী সুমন হাওলাদার, মোঃ মনির হাওলাদার, ছগির হাওলাদার, মোঃ মোক্তার হাওলাদার, মোঃ রফিক হাওলাদার, মোঃ মামুন হাওলাদার আজ বুধবার আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট আদালতে আত্মসমার্পন করেন। বিজ্ঞ বিচারক তাদের জামিন না মঞ্জুর করে বরগুনা জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, এ বছরের ১৭ মে উপজেলার পূর্ব চিলা গ্রামের মেয়ে ধর্ষন মামলার আসামী প্রতিবেশী সমুন হাওলাদার ও তার সাথে থাকা অন্য আসামীরা ধর্ষিতার পিতা আসাদুর রহমান (আসাদুল)কে পিটিয়ে হত্যা করেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে ১০ মে উপজেলার পূর্বচিলা গ্রামের আসাদুলের শিশু কন্যাকে (১০) ধর্ষণ করে প্রতিবেশী সুমন হাওলাদার।

এ ঘটনায় বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে সুমনকে আসামী করে শিশু কন্যার মা রিনা বেগম মামলা করেন। এ মামলায় আসামী সুমন ৭ মাস জেল হাজতে ছিল। হাজত থেকে বের হয়ে সুমন ও তার লোকজন মামলা তুলে নেয়ার জন্য শিশুর বাবাকে হুমকি দেয়। কিন্তু শিশুর বাবা আসাদুর রহমান (আসাদুল) মামলা তুলে নিতে রাজি হয়নি। পরে তাদের ভয়ে তিনি বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে ঢাকায় যায়। কিছু দিন পর বাড়ীতে আসার পর তাকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য পুনরায় হুমকি দেয়। এতে সে রাজি না হওয়াতে ক্ষিপ্ত হয় সুমন।

ঘটনার দিন মঙ্গলবার ১৭ মে বিকেলে আসাদুল আশিখার খাল সলগ্ন সুমনের বাড়ীর দক্ষিন পাশে খাল খননের কাজ দেখতে যায়। এ সময় খাল খননের কাজ নিয়ে সুমনের বড় ভাই মনির হাওলাদারের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় মনির ও মনিরের ভগ্নিপতি মহসিন গাজী আসাদুল কে মারধর শুরু করেন এ অবস্থায় সুমন দৌড়ে এসে আসাদুলের মাথায় রট দিয়ে আঘাত করে। এতে আসাদুল গুরুতর আহত হয়।

আহতকে রাতে দ্রুত আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ তেংমং তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরন করেন। বরিশাল নেয়ার পথে লেবুখালী ফেরীঘাট নামক স্থানে রাত ১০ টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রিনা বেগম বাদী হয়ে আমতলী থানায় ধর্ষক সুমনকে প্রধান করে ১৪ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঐ দিন রাতেই রব্বানী ও ইলিয়াস নামের দুই জনকে গ্রেফতার করেন।

উপকূলের নিম্ন আয়ের মানুষ দুশ্চিন্তায়

বরগুনার আমতলী ও তালতলী সহ উপকূলীয় এলাকায় অতি দরিদ্র মানুষদের কোনো ধরনের আয় না থাকায় ঈদে বাড়তি ব্যয় করতে পারবেনা তারা। ফলে ঈদকে ঘিরে তাদের মধ্যে কোনো ধরনের আনন্দ উচ্ছ্বাস থাকছে না।

অতিদরিদ্র মানুষের সঙ্গে অনেকটা নিরাশ নিম্ন আয়ের মানুষ। আয়ের সঙ্গে বাড়তি ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তালতলীর দিন মজুর হাশেম মিয়া। অভাবের সংসারে আয় রোজগারের জন্য দিন মজুরের কাজ করেন। বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে তার পরিবার।

পরিবারের জন্য ঈদে কেনাকাটা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, প্রতিদিন দিনমজুরি করে দেড়শ টাকা আয় হয়। কিন্তু কাজ না পেলে আয় হয় না। ঈদে সবার জন্য নতুন জামা-কাপড় ও ভালো খাবারের ব্যবস্থা করার ইচ্ছা হয়। তেমন কিছুই করতে পারি না। সামান্য আয় দিয়ে তা সম্ভব হয় না।

বিশ্ব ব্যাংকের হিসাবে, প্রতিদিন এক মার্কিন ডলারেরও কম আয় করেন তারা অতিদরিদ্রের তালিকায় রয়েছেন। ওই হিসাবে দেশে অতিদরিদ্র জনগণের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ। তাই সামাজিক নিরাপত্তা ও সুষম বণ্টনের অভাবে এদের কাছে কোনো মতেই অর্থ পৌঁছানো সম্ভব হয় না। আর এরা সরাসরি কোনো রকম উন্নয়নের সুফলও ভোগ করতে পারে না।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ঈদ সবার জন্য আনন্দের হলেও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটি বাড়তি চাপও বটে। দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো খুবই অসম। দারিদ্র্য পরিস্থিতির ক্রমাগত উন্নতি হলেও এ কারণে এর সুফল মিলছে না। অধিকাংশ মানুষই সঞ্চয়হীন। তারা দিন আনে দিন খায় অবস্থায় দিনযাপন করছে।

তার মতে, নিম্ন আয়ের যে পরিবারগুলো রয়েছে ঈদের অতিরিক্ত খরচ তাদের জন্য একটি বাড়তি চাপ। পরিবারের সবার চাহিদা মেটানোর আকাংক্ষা থাকলেও সে সামর্থ্য বা চাহিদা তাদের নেই। এ কারণে এক অর্থে ঈদ তাদের জন্য খুশি নয় এক ধরনের আতংক।

আমতলী পৌর শহরের মোঃ পাশা মিয়া। রিকশা চালিয়ে মা, স্ত্রী ও এক ছেলের সংসার চালান। ঈদে তার পরিকল্পনা জানতে চাইলে বলেন, ঈদ আমাদের জন্য না ঈদ হচ্ছে ধনীদের জন্য। ওরাই আনন্দ খুশি পালন করে। আমাদের জন্য সারা বছরই রোজা।

ইফতার সামগ্রীতে ভেজাল স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আমতলী ও তালতলী বাসী

বরগুনার আমতলী ও তালতলীতে রমজানের শুরুতেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইফতার সামগ্রী তৈরি করে খোলা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে বা রেস্টুরেন্টে ইফতার সামগ্রীতে ব্যবহার করা হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর রাসায়নিক কেমিক্যাল। পেঁয়াজু, খেজুর, জিলাপি সহ সব ধরনের সামগ্রীতে মেশানো হচ্ছে ভেজাল।

জানা যায়, ইফতার সামগ্রীতে অতিমাত্রায় মেশানো হচ্ছে বিভিন্ন বিষাক্ত রং, ফরমালিন, রাসায়নিক কেমিক্যাল, পুরনো তেল ও মবিল। এসব খাদ্য সামগ্রী তৈরি হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে।

এসব ভেজাল ইফতারি খেয়ে অনেকেই পেটের পীড়া সহ বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। ইফতারের বাজারে ভয়াবহ মাত্রায় ভেজাল সমারহ হলেও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো দর্শক হয়ে বসে আছে। মূলত ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউট (বিএসটিআই) কিন্তু রোজা উপলক্ষে ভেজাল তৎপরতা অবিশ্বাস্য রকম বেড়ে গেলেও এসব সংস্থার তৎপরতা নেই। ফল বিক্রেতারা ফরমালিন মেশাচ্ছে নির্বিচারে। ইফতার সামগ্রীর মধ্যে প্রধান পণ্য হচ্ছে খেজুর। পচনের হাত থেকে রক্ষা করতে ফরমালিন আর রং উজ্জল দেখাতে দেয়া হচ্ছে সরিষা তেল। জিলাপিকে দীর্ঘক্ষণ মচমচে রাখতে ভোজ্যতেলের সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে মবিল। জিলাপিতে বিষাক্ত কেমিক্যালের পাশাপাশি দেয়া হচ্ছে বাসন্তী রং। ফলে সাধারণ জিলাপি থেকে এসব জিলাপি বেশি উজ্জ্বল দেখাচ্ছে এবং দীর্ঘক্ষণ মচমচে থাকছে।

ইফতার সামগ্রীর মধ্যে কোনো অংশেই কম খাওয়া হচ্ছে না মুড়ি। এই মুড়িকে ধবধবে সাদা করতে ব্যবহার করা হচ্ছে রাসায়নিক সোডিয়াম হাইড্রো সালফাইড। আর মুড়ির ধানা বড় বড় করতে ব্যবহার করা হচ্ছে রাসায়নিক সার। বেগুনি, পেঁয়াজু ও আলুরচপ দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন বিষাক্ত রং। বেগুনের দাম বেশি থাকায় বেগুনির ভেতরে দেয়া হচ্ছে অন্যান্য সবজি। বিভিন্ন প্রকার ফলে দেয়া হচ্ছে ফরমালিন। মিষ্টি জাতীয় দ্রব্যকে আরও বেশি মিষ্টি করতে ব্যবহার করা হচ্ছে স্যাকারিন। রেস্টুরেন্টগুলোতে কয়েক দিনের পুরনো তেলে ভাজা হচ্ছে বেগুনি, আলুর চপ ও পেঁয়াজু। এছাড়া শহরের অধিকাংশ দোকানে বিক্রি হচ্ছে রাসায়নিক কেমিক্যাল মিশ্রিত ফল। কেমিক্যাল ব্যবহার করে দ্রুত পাকিয়ে এসব পণ্য বাজারে ছাড়া হচ্ছে।