আরও ২১ লাল সবুজ বগি সংযুক্ত হলো পশ্চিমাঞ্চল রেলে

lala-sobuj-bigi

সময়ের কন্ঠস্বর: ঈদে যাত্রী পরিবহনে রেলওয়ের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে পতাকার রঙে রঙিন লাল সবুজ ট্রেন। আরও ২১টি লাল সবুজ বগি সংযুক্ত হলো পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ট্রেনে। ২৫ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে বগিগুলোর উদ্বোধন করা হবে। পতাকার রঙে রঙিন এসব বগি মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে সৈয়দপুর রেলওয়ে জংশন থেকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে এসে পৌঁছে। এর আগে এসব বগি ভারত থেকে তৈরি হয়ে এসে সৈয়দপুরে যায়। গত শনিবারও একইভাবে ১৩টি কোচ আসে।

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আনিসুর রহমান জানান,  রেলওয়েতে নতুন এসব বগি সংযুক্ত হওয়ার ফলে ট্রেনের সংখ্যা না বাড়লেও বাড়বে যাত্রী সেবার মান। টিকিটের জন্য হাহাকারও কমবে। বগিগুলো উদ্বোধন হলে প্রতিবার আরও এক হাজার ৯৭১ জন বাড়তি যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে।

শনিবার আসা ১৩টি বগির মধ্যে ১২টিকে যাত্রী পরিবহনের কাজে লাগানো হবে। আর একটিকে বিপদকালীন সময়ের জন্য রাখা হবে ঈশ্বরদী রেল জংশনে। অন্যদিকে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আসা ২১টি বগির মধ্যে ১২টিতে চলবে যাত্রী পরিবহন। আর রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ৫টি এবং ঈশ্বরদী রেল জংশনে ৪টি বগি রাখা হবে বিপদকালীন সময়ের জন্য।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, অত্যাধুনিক এসব বগিগুলোর মধ্যে চারটি এসি চেয়ার ও দুটি স্লিপিং কেবিন রয়েছে। রয়েছে উন্নতমানের খাবার গাড়ি। বগিগুলোতে প্রথমবারের মতো সংযুক্ত করা হয়েছে শারীরিক প্রতিবন্ধী যাত্রীদের ওঠা-নামার জন্য বিশেষ সিঁড়ি ও টয়লেট।

এ ছাড়া নতুন বগিগুলোর জানালায় বিশেষ ধরনের কাঁচ লাগানো হয়েছে। ফলে ভ্রমণের সময় যাত্রীরা ট্রেনের বাইরের প্রাকৃতিক দৃশ্য খুব কাছ থেকে উপভোগ করতে পারবেন।

প্রতিটি বগিতে সিট রয়েছে ১০৫টি। আর প্রতিটি বগিতেই আছে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা। এ বগিগুলোতে বিশুদ্ধ পানির জন্য রয়েছে ফিল্টারের ব্যবস্থা। টয়লেটে রয়েছে ঠান্ডা ও গরম পানির ব্যবস্থা। এ ছাড়া খাবার গরম করার জন্য হটকেস এবং ঠান্ডা রাখার জন্য ডিপ ফ্রিজারসহ বিভিন্ন ধরনের যাত্রীসেবারও ব্যবস্থা করা আছে বগিগুলোতে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী ইফতিখার হোসেন জানান, বগিগুলো হুবহু ভারতের রাজধানী ও শতাব্দি এক্সপ্রেস ট্রেনের মতো এবং একই কারখানায় তৈরি। ট্রেনগুলো ১৪০ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলার সক্ষমতা রাখে। তবে রেললাইনের সক্ষমতা না থাকায় এ গতিতে ট্রেন চালানো সম্ভব হবে না। তারপরেও নতুন এসব বগি চলাচল শুরু করলে রেলওয়ের যাত্রীসেবার মান অনেক উন্নত হবে।