‘জলবায়ু পরিবর্তনে কারণে দেশের এক পঞ্চমাংশ এলাকা তলিয়ে যাবে সমুদ্রে’

সময়ের কণ্ঠস্বর – বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বিপন্ন কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি বলে জানিয়েছেন, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু । জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় ১৯ জেলার ৭০টি উপজেলার প্রায় ৪ কোটি লোক প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

যারা বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। সরকার দলীয় সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে।

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী না হয়েও এর বিরূপ প্রভাবের নির্মম শিকার। আইপিসিসি’র পঞ্চম প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা এক মিটার বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ উপকূলসহ প্রায় এক পঞ্চমাংশ এলাকা সমুদ্রে তলিয়ে যেতে পারে। পরিবেশমন্ত্রী জানান, জার্মান ওয়াচ কর্তৃক প্রকাশিত ‘বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকি সূচক-২০১৬’ অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগের সর্বোচ্চ ঝুঁকির সূচকে বাংলাদেশ রয়েছে ৬ নম্বরে। বন্যা, খরা, সাইক্লোন, লবনাক্ততা এবং সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধি আমাদের জাতীয় প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

anwar-hosen-monjuএশিয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) কর্তৃক জুন-২০১৪ এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে যে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিশ্ব সম্প্রদায় যদি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে তাহলে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের জিডিপি’র প্রায় ২ শতাংশ এবং ২১০০ সাল নাগাদ প্রায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ ক্ষতি হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিপর্যয় হতে রক্ষার জন্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পরিবেশ অধিদপ্তর নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের এম আব্দুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে জানান, পলিথিন ব্যাগ সহজলভ্য ও কমদামি।

বাজারে পলিথিন ব্যাগের বিকল্পও পর্যাপ্ত পরিমাণ তৈরি হয়নি। যে কারণে এটি বন্ধ করা কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া প্যাকেজিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারে ছাড় দেওয়া হয় বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। আওয়ামী লীগের বেগম জেবুন্নেছা আফরোজের প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু জানান, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে সুন্দরবনের মাছ ধরার এলাকা নির্বিঘ্নে করার জন্য স্থানীয় জেলে ও দুস্কৃতিকারীরা আগুন দিয়েছিলো বলে তদন্তে পাওয়া গেছে।

সুন্দরবনে আগুন লাগার জন্য যারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, সুন্দরবনকে সুরক্ষায় ৩৫ কিলোমিটার জুড়ে প্লাস্টিক কোটেড জিআই তারের বেড়া নির্মাণসহ বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বন বিভাগ।

গৃহীত পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- পানি সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় খাল, নদী খনন করা, মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত ফায়ার ওয়াচার নিয়োজিত করা, জেলে, বাওয়ালী ও দর্শনার্থীদের বিড়ি-সিগারেট ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থসহ যাতে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে বনকর্মীদের সতর্ক দৃষ্টি রাখা ইত্যাদি।