একটি নয়, জানা গেল পৃথিবীর চাঁদের সংখ্যা দুটি !

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্কঃ চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। আর এই চাঁদই পৃথিবীবাসীর জন্য দিন, মাস, বছর হিসাব করার চিরন্তন সহজ মাপকাঠি। এতদিন ধরে পৃথিবীর চাঁদের সংখ্যা একটি জেনে আসলেও সম্প্রতি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, পৃথিবীর কক্ষপথে আরো একটি চাঁদের সন্ধান পাওয়া গেছে। তারা এর নাম দিয়েছে ‘মিনি মুন’ বা ছোট চাঁদ।

invented-another-moonসম্প্রতি জানা গেল, সদ্য চিহ্নিত এই মিনি মুন সম্পর্কে এখনো তেমন কিছু জানতে পারেননি নাসার বিজ্ঞানীরা। তাদের ধারণা, এই উপগ্রহটির বয়স হবে কমপক্ষে একশো বছর। আড়ালে থেকেই এতগুলো বছর ধরে আপন কক্ষপথে সে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে চলেছে সে। তবে সদ্য আবিষ্কৃত ‘অর্ধচন্দ্রটি’কে চাঁদের মতো পুরোদস্তুর উপগ্রহ বলা যাবে না। কারণ পৃথিবী আর চাঁদ যে সময় তৈরি হয়েছিল, এই গ্রহাণুটি তার অনেক পরে জন্মেছে। আর এটি এসেছে গ্রহাণুপুঞ্জ থেকে। এর ঘনত্ব চাঁদের চেয়ে অনেক কম। লোহা ম্যাঙ্গানিজের মতো খনিজ পদার্থ প্রচুর পরিমাণে এতে থাকতে পারে। তবে পানি থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে একটি গ্রহাণু(অ্যাস্টরয়েড)। চাঁদের মতো কোনও গ্রহাণুও যে পৃথিবীকে ঘিরে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে চক্কর মারছে তা আমাদের চোখে ধরা পড়েনি এতদিন। এই প্রথম জানা গেল, একটি গ্রহাণু পৃথিবীর চারপাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে চক্কর মারছে। বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘নিয়ার আর্থ কম্পেনিয়ান’ বা পৃথিবীর কাছের বন্ধু। এদের আরেকটি নাম আছে। সেটি হল ‘কোয়াসি স্যাটেলাইট’। এই গ্রহাণুটির আদত নাম ‘২০১৬-এইচও-৩’।

গ্রহাণুটি পৃথিবীর চারপাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথের কোণে হেলে রয়েছে। তাই কখনো সে উপরে উঠে আসছে আবার কখনো নিচে নামছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় ব্যাঙের মতো লাফালাফি করছে। আকারে খুব ছোট গ্রহাণুটি এমনভাবেই পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের টানে ধরা রয়েছে, যাতে চাদ থেকে পৃথিবীর যা দূরত্ব তার ১০০ গুণের চেয়ে বেশি দূরে যেতে পারে না।

আবার চাঁদের থেকে পৃথিবীর যা দূরত্ব তার ৩০ গুণের কম দূরত্বেও আসতে পারে না। এই গ্রহাণুটি সূর্যকেও পাক মারছে। একইভাবে আজ থেকে দশ বছর আগে আরো একটি গ্রহাণু পৃথিবীর কাছে এসেছিল। তার নাম ‘২০০৩-ওয়াইএন-১০৭’। কিন্তু সেই গ্রহাণু আর আমাদের কাছে নেই অর্থাৎ পৃথিবী তাকেও আর টেনে রাখতে পারেনি।

এ বছরের ২৭ এপ্রিল হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের হালিয়াকালায় প্যান-স্টার্স-এক টেলিস্কোপের মাধ্যমে এই গ্রহাণুটিকে প্রথম দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এটি চাঁদের মতোই পৃথিবীর চারপাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরছে তা আন্তর্জাতিকভাবে মেনে নেয়া হয়েছে ১৪ জানুয়ারি সান দিয়েগোর আমেরিকান অ্যাস্টোনমিক্যাল সোসাইটির বৈঠকে।