ট্রেনের টিকিট বিক্রির দ্বিতীয় দিন: আছে আনন্দ, আছে শঙ্কা

train komolapur-2nd day

সময়ের কন্ঠস্বর: ট্রেনের টিকিট বিক্রির দ্বিতীয় দিনে কমলাপুর রেলস্টেশনে টিকিটের জন্য মানুষের ঢল নেমেছে। টিকিটপ্রত্যাশীদের ভিড় সামলাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হিমশিম খেতে দেখা যায়। যারা টিকিট পাচ্ছেন তাদের হাসিমুখে ফিরতে দেখা যায়। আজ বৃহস্পতিবার ২ জুলাইয়ের অগ্রিম টিকিট দেওয়া হচ্ছে। তবে টিকিট কাউন্টারে কাজ হচ্ছে ধীরগতি বলে অভিযোগ রয়েছে অনেকের। প্রতিটি কাউন্টারের সামনে টিকিটের জন্য মানুষ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। দীর্ঘ লাইনে সাপের মতো আঁকাবাঁকা হয়ে স্টেশনের ফাঁকা জায়গা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। লাইন ঠিক রাখতে এবং টিকিটপ্রত্যাশীরা যেন সুশৃঙ্খলভাবে টিকিট কাউন্টার পর্যন্ত যেতে পারেন, সে চেষ্টা করে যাচ্ছেন কর্মকর্তারা।

স্টেশনের কন্ট্রোল রুমে সূত্রে জানা যায়, ২ জুলাইয়ের প্রায় ১৮ হাজার টিকিট সাধারণ যাত্রীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। সুন্দরবন, ধূমকেতু, চট্টলা, এগারসিন্দুর, অগ্নিবীণা, নীলসাগর, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস, উপকূল, মহানগর গোধূলী, যমুনা এক্সপ্রেস, হাওর এক্সপ্রেস, কালনী, রংপুর এক্সপ্রেস, দ্রুতযান, সিল্কসিটি, তূর্ণা, জয়ন্তিকাসহ ২৯টি আন্তনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন লোকাল ট্রেনের টিকিটও বৃহস্পতিবার বিক্রি করা হবে।

টিকিট নিতে আসা অনেকেই অভিযোগ করেন, টিকিট কাউন্টারে কাজ অনেক ধীরগতিতে হচ্ছে। একটি টিকিট পেতে ঘণ্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। কাজ আরেকটু দ্রুত হলে জনসাধারনের কষ্ট লাঘব হতো।

আর হাতে টিকিট পেয়ে অনেক খুশি দেখাচ্ছিলো অনেককেই। যারা টিকিট পেয়েছেন অনেকেই জানান, `সকাল ৮ টায় টিকিট বিক্রি শুরু হলেও সিরিয়ালে পড়ে পৌনে ৯টার দিকে ৪ টি টিকিট পেয়েছি। টিকিট পেতে একটু কষ্ট হলেও, হাতে টিকিট পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসাথে বাড়িতে ঈদ করবো।’

টিকিট দিতে দেরি হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, ‘লোকবলের স্বল্পতার কারণে টিকিট কাটতে একটু সময় বেশি লেগেছে। কিন্তু এতে নিরাপত্তা থাকে। চেষ্টা করা হচ্ছে দ্রুত সার্ভিস দেওয়ার জন্য। আবার দ্বিতীয় দিনে প্রথম দিনের তুলনায় অনেক বেশি লোকও এসেছে।’

কমলাপুর জিআরপি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল মজিদ জানান, প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিনে টিকিটপ্রত্যাশীর সংখ্যা বেশি। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সে জন্য প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে সতর্ক রাখা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো ধরনের কালোবাজারির সুযোগ নেই।