ফরিদপুরে মহাসড়ক জুড়ে খানাখন্দ: অসহনীয় ভোগান্তিতে যাত্রীরা

rasta

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি:  বছরের পর বছর সংস্কার কাজ চলতে থাকলেও ফরিদপুরের উপর দিয়ে চলে যাওয়া ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং দিন যতো যাচ্ছে কথিত এই মহাসড়কের অবস্থার ততোই অবনতি হচ্ছে। নামে মহাসড়ক হলেও বাস্তবে এটি এখন রিক্সা, ভ্যান ও নসিমন গাড়ি চলাচলের সড়কে পরিণত হয়েছে। এতে ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।

যাত্রা পথে যাত্রি সাধারণ চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন। কলকব্জা বিকল হয়ে যানবাহনেরও ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। সেই সাথে রয়েছে যাত্রাপথের ভাড়া নিয়ে পরিবহন কর্তৃপক্ষের বাড়াবাড়ি। এসব কারণে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলগামী যাত্রিদেরকে আসন্ন ঈদুল ফিতরের সময়ে বাড়ি ফিরতে চরম ভোগন্তিতে পড়তে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ফরিদপুর অংশের সামান্য অংশ বাদে প্রায় পুরোটা জুড়েই এলোমেলো রেখাকৃতির ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। দেখে মনে হয় সড়ক জুড়ে রেখাচিত্র আঁকা। এতে সকল যানবাহনকেই চলাচলে পুরোটা পথ জুড়ে ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হয়। এর বাইরে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড়সড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। মহাসড়কের পাশের রেইনট্রি থেকে রাতে নির্গত পানি মহাসড়কের ক্ষতি করছে নির্মাণের পর হতেই। এসব বিষয় দেখেও যেন না দেখার ভান করছে সড়ক বিভাগ।

যাত্রি সাধারণ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ফরিদপুর অংশ দীর্ঘদিনেও চলাচলের উপযোগী না হয়ে দিনদিন পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। সড়কগুলির বিস্তির্ণ অংশ জুড়ে ছোট, বড় ও মাঝারি আকারের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ফেঁসে গেছে। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বাসাগাড়ি নামক স্থানে প্রায় ১ মাইল জুড়ে ভয়ংকরভাবে এঁকে বেঁকে ডেবে গেছে। দেখে মনে হয় যেনো ভূমিকম্প হয়েছে সেখানে। স্থানীয়দের অভিযোগ মহাসড়কের দিনের পর দিন সংস্কার কাজ চলতেই থাকে। অথচ সারাটা বছরই সড়কের অবস্থা তথৈবচ। অবস্থা এমনই দাড়িয়েছে যে, যাত্রিদের ভোগান্তি আর যানবাহনের কলকব্জা নষ্ট করা এবং সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠনই যেনো এ মহাসড়কের কাজ।

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুর অংশের কানাইপুর বাজারের পর হতে কামারখালি ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার অংশের পুরোটাই ক্ষতবিক্ষত হয়েছে গর্ত আর খানাখন্দে। কামারখালি ব্রিজের আগেই মধুখালী রেলগেট অংশে খানা-খন্দের কারণে প্রতিদিন দুঃসহ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এখানে রেল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইটবালি দিয়ে কোনমতে মহাসড়কে যানচলাচল অব্যাহত রাখা হয়েছে। ফরিদপুর থেকে কামারখালী পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে কয়েকশ’ গর্তের সৃষ্টি হয়েছে বলে সরেজমিনে জানা গেছে। ইট বালি দিয়ে মেরামত করার অল্প সময়ের মধ্যেই সেই সড়ক আবারও যান চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়ছে। বৃষ্টিতে পানি জমে থাকছে এসব খানাখন্দ গর্তে।

বর্তমানে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বাখুন্ডা, জোড়া সেতু, মহিলা রোড, তালমার মোড়, শংকরপাশা, কাজী কুড়িয়াল, ভবুক দিয়া, সদরদী সহ বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলচলে সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে খুলনার দিকে গঙ্গাবর্দী, কানাইপুর বাজার, পরিক্ষিতপুর, মধুখালী রেলগেট ও বাজার সংলগ্ন এলাকা, বাগাট বাজার এলাকার পরিস্থিতিও নাজুক। মহাসড়কের পুরোটাই এলোমেলো রেখাকৃতির ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে প্রতিনিয়ত ভারী যানবাহন পড়ছে নানা বিপত্তিতে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে এ দূরাবস্থা চলতে থাকলেও নেওয়া হয়নি দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ। আষাঢ়ের শুরুতে বৃষ্টির পানিতে আরও বেহালদশার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া নগরকান্দা উপজেলার বাসাগাড়ি নামকস্থানে মহাসড়কের নিচে পানির স্রোত প্রবাহমাণ থাকায় বারবার মেরামতের পরেও সড়ক ফেঁসে যাচ্ছে। প্রায় আধা কিলোমটির সড়ক জুড়ে এবড়োথেবড়ো হয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ডেবে গেছে। যাত্রি ও মারামাল বোঝাই বাস ট্রাক চলাচল করছে ঝুঁকির মধ্যেই। এখানে গাড়ির গতি কমাতে হয় বলে রাতের আধারে বাস ডাকাতির শঙ্কাও রয়েছে। পরিস্থিতি দৃষ্টে মনে হয়, কর্তৃপক্ষ মহাসড়কের এ অংশের মেরামত সম্ভব না বলে হালই ছেড়ে দিয়েছে।

পরিবহন চালকদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, বৃষ্টির পানি ও কাদায় প্রতিদিনই কাদা মাটিতে আটকে যায় গাড়ি। সৃষ্টি হয় যানজটের। প্রতিদিনই গাড়ি ফেসে যাচ্ছে। জনগণের দুর্ভোগের শেষ নেই। সাধারণ যাত্রিদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে। রাস্থা খারাপ থাকায় গাড়িতে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগছে। প্রতিদিন এই মহাসড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার ভারী ও হালকা যানবাহন অসুবিধায় পড়ছে, নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রাংশ, পড়ছে দুর্ঘটনার কবলে। আষাঢ়ের বারি বর্ষণ শুরু হলে ভারী গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়বে বলেও জানান তারা। এছাড়া বাস গাড়ি রাস্তা ফেঁসে যাওয়ার কারণে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পার হতে হয়।

ফরিদপুরের মহাসড়কগুলো এখনও চলাচলের উপযোগী দাবি করে ফরিদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ফরিদপুরের মহাসড়কে কোন খানা-খন্দ নেই। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করে কোনো গর্ত বা খানা-খন্দ দেখতে পাননি। কোথাও খানা-খন্দের সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে তা আমরা মেরামত করে দিচ্ছি।