ব্রিটেনবাসীর ভাগ্য নির্ধারণে চলছে ঐতিহাসিক গণভোট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক-

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) থাকবে কি থাকবে না, সে বিষয়ে ইংল্যান্ডবাসী ঐতিহাসিক গণভোট দিচ্ছেন আজ। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২ টায়)  ভোটকেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। ভোট চলবে একটানা ১৫ ঘন্টা। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় ভোট শেষ হবে। ফলাফল জানতে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, ৪ কোটি ৬৫ লাখের মতো মানুষ এই ভোটে অংশ নেবেন, যা ইংল্যান্ডের নির্বাচনের ইতিহাসে একটি রেকর্ড।

এটি ইংল্যান্ডের ইতিহাসে তৃতীয় গণভোট। গত চারমাস ধরে ইইউতে ‘থাকাপন্থী’ এবং ‘ত্যাগপন্থী’ নেতারা নিজের নিজের পক্ষে প্রচারণা চালান।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকা না থাকার ঘটনাকে ‘ব্রেক্সিট’ হিসেবে বলা হচ্ছে।

গণভোটের ব্যালটে প্রশ্ন থাকবে, ‘যুক্তরাজ্য কি ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকবে, নাকি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করবে।’

যে পক্ষ অর্ধেকের বেশি ভোট পাবে তারাই জয়ী হবে।

brexithom-11

ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড, নর্দান আইল্যান্ড ও জিব্লাটারে ৩৮০টি স্থানীয় সরকার এলাকায় ভোট গ্রহণ হবে।

এর আগে, ‘বেক্সিট’ ইস্যুতে বুধবার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টিভি বিতর্কে মুখোমুখি হন দেশটির শীর্ষ নেতারা। লন্ডনে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ‘গ্রেট ডিবেট’ নামের দুই ঘন্টার সরাসরি বিতর্কে মুখোমুখি হন ব্রিটেনের দুই পক্ষের সামনের সারির নেতারা। বিতর্কে দর্শক ছিলেন প্রায় ছয় হাজার মানুষ।

বিতর্কে অভিবাসন, অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে নানা যুক্তি তোলেন। ‘ত্যাগ’-এর পক্ষে ছিলেন লন্ডনের সাবেক মেয়র বরিস জনসন। অন্যদিকে ‘থাকা’এর পক্ষে ছিলেন স্কটিশ টোরি নেত্রী রুথ ডেভিডসন। লন্ডনের বর্তমান মেয়র সাদিক খানও ‘থাকা’র পক্ষে বক্তব্য দেন।

বিতর্কে জনসন বলেন ‘থাকা’-এর পক্ষ ‘ইউরোপে থাকার কথা দিয়ে দেশকে ছোট করছে’। তিনি বলেন, ব্রিটেনের জনগণ যদি তাদের পক্ষে ভোট দেয় তাহলে ‘বৃহস্পতিবার হতে পারে ব্রিটেনের স্বাধীনতা দিবস’। আর ডেভিডসন ‘ত্যাগ-কে বর্ণনা করেন ‘মিথ্যে’র পক্ষ হিসেবে।