মানিকগঞ্জের কাঁচা মরিচ দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে

dowlotpur-moric

মোঃ লিটন মিয়া. দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের কাঁচামরিচ দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে যাচ্ছে। রপ্তানিকারকরা এতে লাভবান হলেও উৎপাদনকারী মরিচ চাষিরা পাচ্ছেন না এর সুবিধা। জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অফিস জানায়, জেলার ঘিওর, শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি মরিচ চাষ হয়। উর্বর জমির কারণে এ অঞ্চলে মরিচের আবাদ হয় বেশি। কৃষকরা প্রতিদিনই ক্ষেত থেকে মরিচ তুলে বাজারে বিক্রি করছে।

মরিচ বিক্রির জন্য ঢাকা আরিচা মহাসড়ক সংলগ্ন বরংগাইল ও হরিরামপুর উপজেলায় ঝিটকা এবং ঘিওর উপজেলার বাঠইমুড়ি হাট বিখ্যাত। প্রতিদিন ওই তিনটি হাটে শত শত মণ মরিচ বিক্রি করে কৃষকরা। বর্তমানে প্রতি কেজি মরিচ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায়। পাইকাররা এসব মরিচ অল্প দামে কিনে বাছাই করে ভালমানের মরিচ কাগজের বাক্সে প্যাকেটজাত করে। আর ওইসব প্যাকেটের শত শত মণ মরিচ ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর হয়ে লন্ডন, দুবাই, মালয়েশিয়া, কুয়েত, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে চলে যায়। এছাড়া, মানিকগঞ্জ থেকে ব্যবসায়ীরা মরিচ ক্রয় করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে আরো চড়া দামে বিক্রি করছে। কৃষকরা জানান, বিদেশে এসব মরিচ চড়া দামে বিক্রি হলেও উৎপাদনকারী কৃষকরা এর ন্যায্য দাম পাচ্ছে না। এক শ্রেণীর মুনাফা লোভী মধ্যস্বত্বভোগী কম দামে কৃষকদের কাছ থেকে মরিচ কিনে নেয়। আর বিদেশে রপ্তানির বিষয়ে কৃষি বিভাগ কিংবা সরকারের সঠিক কোন নিয়মনীতি নেই।

ঘিওর উপজেলার রাধাকান্তপুর গ্রামের কৃষক মুন্নাফ মিয়া জানান, লাভের আশায় প্রতি বছরই মরিচের চাষাবাদ বেশি করা হয়। গত কয়েক বছর ধরে ফলনও ভাল হচ্ছে। কিন্তু হাটে পাইকাররা সঠিক দাম দিয়ে মরিচ কিনছে না। এখান থেকে ৪৫ টাকা কেজি কিনে তারা ঢাকায় বিক্রি করছে ৭০ টাকায়। তিনি আরো জানান, সরকারিভাবে মরিচের একটা দাম নির্ধারণ করা হলে কৃষকরা সঠিক দাম পেতো। শাহিলী গ্রামের আরাধন মোল্লা এ বছর এক বিঘা জমিতে মরিচের চারা রোপণ করেছেন। সাত মণ মরিচ বিক্রি করেছেন আট হাজার ৫০০ টাকায়। হরিরামপুর উপজেলার কালোই গ্রামের করিম শেখ জানান, এ বছর দুই বিঘা জমির মরিচ বিক্রি করেছেন। ফলন আশানুরুপ হয়নি। তবে দাম ভালো পাওয়ায় তিনি বেশ খুশি।

বরঙ্গাইল মরিচের হাট থেকে প্রতিদিন সাত থেকে ৮ টন মরিচ বেচাকেনা হচ্ছে বলে জানালেন হাটের আড়তদার মো. খোকন মিয়া। তিনি জানান, এর একটা বড় অংশ বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। মালয়েশিয়া পাঠানোর জন্য তিনি দুই টন মরিচ কিনেছেন। মো. মজিবর রহমান নামের আরেক আড়তদার জানান, তিনি ৫৫ টাকা কেজি দরে এক টন মরিচ কিনেছেন। সেই মরিচ পাঠাবেন কুয়েতে। এতে তার যাতায়াত ভাড়াসহ প্রতি কেজি মরিচে ১০ থেকে ২০ টাকা লাভ হবে বলে জানান।

ব্যবসায়ী বাহাদুর মিয়া জানান, জেলার ঘিওর, শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলা মরিচ চাষের জন্য বিখ্যাত। এ অঞ্চলে উৎপাদিত বিন্দু জাতের মরিচের বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ মরিচ বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরো বেশি পরিমাণ মরিচ বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব।