নির্মাতা রায়হান খানের কারাদণ্ড

বিনোদন ডেস্ক – নাট্যনির্মাতা ও চিত্রগ্রাহক সাইফুল ইসলাম খান ওরফে রায়হান খানকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার স্ত্রীর যৌতুকের মামলায় চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক দিলীপ দেবনাথ এ দণ্ডাদেশ দেন। একই রায়ে রায়হান খানকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বর্তমানে তিনি পলাতক।

জানা গেছে, রায়হান খানের প্রথম স্ত্রী ফারহানা আফরোজ হান্না ২০১৪ সালের ১ অক্টোবর চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ এনে রায়হানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এর আগে প্রথম স্ত্রী হান্নার অনুমতি না নিয়ে অভিনয়শিল্পী ও মডেল নোভাকে বিয়ে করায় নাট্যনির্মাতা রায়হান খানকে চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন চট্টগ্রামের আরেকটি আদালত।

এদিকে বাদিপক্ষের মামলা পরিচালনাকারী এডভোকেট উজ্জ্বল সরকার সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারায় আদালত এ রায় দিয়েছেন।

rayhan-khan-jelআদালত সূত্রে জানা যায়, ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগে ২০১৪ সালের ১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল -৩ এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত-২০০৩) এর ১১ (গ) ধারায় মামলা দায়ের করেন রায়হানের প্রথম স্ত্রী ফারহানা আফরোজ খান হান্না। ২০০৫ সালের ৫ মে আসামির সাথে হান্নার বিয়ের দু’বছর পর তাদের ঘরে এক পুত্র সামিন ইয়াসির খান মধ্য জন্মলাভ করে। এরপর ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে যৌতুক না পেয়ে হান্নাকে তালাক নোটিস পাঠায়। পরবর্তীতে তালাক প্রত্যাহার করার পর ১৫ লাখ টাকা যৌতুক আদায় করে। এরপর ২০১৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আবারো ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করলে হান্না আদালতে মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, ব্যবসায়িক সূত্রে গোপনে রায়হানের সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল নোভা ওরফে ফারজিনা বিনতে নোভার। তাঁরা প্রত্যাশা ক্রিয়েশন নামে একটি নাট্য প্রযোজনা সংস্থার যৌথ মালিক। কিন্তু হান্নার কাছে রায়হান বরারই নোভার সাথে সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করে আসেন। পরে ২০১১ সালের ১১ নভেম্বর (১১.১১.১১) নোভার সাথে রায়হানের বিয়ে হয়। ২০১৩ সালের ২৮ জুলাই রায়হান নোভার সংসারে এক পুত্র সন্তান রাফাল রায়হান সান্নিধ্য জন্মগ্রহণ করে। পুত্র সন্তানসহ নোভা ও রায়হানের ত্রয়ী ছবি ছাপানো হয় একটি দৈনিকে। ওই ছবি ছাপানোর পর হান্না দ্বিতীয় বিয়ের কথা জানতে পেরে ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার রায়ে রায়হানের ৩ মাসের কারাদ- দেয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে রায়হানের আপিল বিচারাধীন রয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে দায়ের করা মামলায় আসামির বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৪ জুন অভিযোগ গঠন করা হয়। আসামির বিরুদ্ধে আদালতে ৫ জন সাক্ষ্য দেন। আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত উপরিউক্ত রায় দেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে আসামিকে গ্রেপ্তার করার দিন থেকে সাজার মেয়াদ শুরু হবে।