ঝিনাইদহে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী মতবিনিময় সভায় খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি

Jhenaidah DIG Pic-1

আরাফাতুজ্জামান, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মনির-উজ-জামান বিপিএম বলেছেন, আমরা এই অঞ্চল থেকে, এই ভুখন্ড থেকে, এই বাংলা মাটি থেকে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস কে শুধু প্রতিরোধই করবো না শিকড়সহ উপড়ে ধরবো। তিনি আরো বলেন, যারা ৭১ সালে পরাজিত হয়েছিলেন, যারা ৭৫ সালে একটি নারকীয় হত্যাযঞ্জের মাধ্যমে জাতির জনককে হত্যা করে আমাদের জাতীয় পরিচয় মুছে দিতে চেয়েছিলেন সেই কুলাঙ্গারাই, সেই চিহিৃত মুখ ও চিহিৃত গোষ্ঠি কিন্তু ২০১৩-১৪ সালে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর, হরিণাকুন্ডুুসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসের একটি নারক তৈরি করেছিল। বৃহস্পতিবার দুপুর ৩ টায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইব্রাহিম মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গলে অনুষ্ঠিত জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে তিনি আরো বলেন, বাঙ্গালী জাতি স্বাধীনতা বিরোধীদের কাছে কোন দিন মাথানত করেনি, করবেও না। বাংলাদেশ যখন জাতির পিতার বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে সেই সময়েও কুলাঙ্গারদের ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। তবুও আমার এগিয়ে যাচ্ছি, কোন বাধা আমাদের থামাতে পারবে না।

তিনি সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের উদ্যেশ্যে বলেন, আপনাদের বাড়ি-ঘর কোথায়, কোথায় আপনারা থাকেন, কোথায় বসবাস করেন, আপনাদের আতœীয় পরিজন কে বা কারা, আপনাদের দোকান-পাট কোথায়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কোথায়, সকালে বের হয়ে কোথায় যান, মধ্য রাতে কোথায় ফেরেন আজ সবই দিবালোকের মত পরিস্কার হয়ে সত্য উদঘাটিত হয়েছে। আনসার উল্লাহ বাংলা টিম, হিজবুদ তাহরী, জেএমবি, যে নামেই আপনারা এই অঞ্চরের মানুষকে হত্যা করেন না কেন আপনাদের মূল কিন্তু জামায়াত শিবির।

তিনি আরো বলেন, আপনাদের আমরা কিন্তু চিনে ফেলেছি। আপনারা যদি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সহিত বসবাস করতে চান তাহলে এদেশের মানুষ অত্যন্ত উদার মানুষ, আপনাদের ক্ষমা করে দেবে। আর এক ফোটা রক্ত এই বাংলার মাটিতে ঝরে, তাহলে আপনাদের মত গুটি কয়েক সারপোকাকে খুঁজে বের করে মারতে আমাদের বেশি সময় লাগবে না। তিনি প্রতিটি এলাকায়, প্রতিটি পাড়া- মহল্লায়, লাঠি বাঁশি নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা বলেন।

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, র‌্যাব-৬ খুলনা এর কমান্ডিং অফিসার খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীর, খুলনার পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান, চুয়াঙ্গার পুলিশ সুপার রশিদুল আলম, মাগুরা পুলিশ, ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র আলহাজ্ব সাইদুল করিম মিন্টু, কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব মকছেদ আলী, ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, নলডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন প্রমুখ। মতবিনিময় শেষে ডিআইজি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে এলাকাবাসীর হাতে লাঠি বাঁশি তুলে দেন।