জোয়ারের পানিতে প্লাবিত ভোলার ২২ টি গ্রাম

nat025

এস আই মুকুল, ভোলা প্রতিনিধি: পূর্ণিমার প্রভাবে অতিরিক্ত জোয়ার বৃদ্ধির ফলে ভোলার চারটি উপজেলার প্রায় বাইশটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ। রাস্তা ঘাটসহ ফসলী জমি পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে গেছে। গত বুধবার দুপুর থেকেই এসকল এলাকাগুলো জোয়ারের পানিতে ডুবে যায়। ইহাতে বেশ কিছু সংখ্যক মাছের খামার এবং প্রায় ৬০০টি পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে যায়। জোয়ার ভাটার কারণে দিনে দুইবার পানি উঠায় দূর্ভোগের মধ্যে দিন কাটছে এসব বাসিন্দাদের। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের দূর্ভোগের শেষ নেই।

প্লাবিত এলাকাগুলোর মধ্যে ভোলা সদরের রাজাপুর, ইলিশা, তজুমদ্দিন উপজেলার দড়ি চাঁদপুর, হাজীকান্দি, আড়ালিয়া, শশীগঞ্জ, দালালপুর, বালিয়াকান্দি, ভূলাইকান্দি, দেওয়ানপুর, মনপুরা উপজেলার কলাতলীর চর, ফুলাগাজীর তালুক, আন্দিরপার, ইশ্বরগঞ্জ, রামনেওয়াজ, দাসেরহাট, ঢালচর, চরফ্যাশন উপজেলার চর মাদ্রাজ ও নজরুল নগর। এছাড়াও চারটি গ্রামের যাতায়াতের রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যেতে নৌকা ও ভেলা ব্যবহার করে চলাচল করছে ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগীরা জানান জোয়ারের পানিতে পুরো এলাকা ডুবে গেছে। দুইদিন ধরে রান্নাবান্না বন্ধ। খাবার পানিও নেই। কোন মতে শুকনো খাবার খেয়ে রোজা রাখছি।

এলাকা ঘুরে দেখা যায় বিশুদ্ধ পানি না থাকায় জোয়ারের পানি খেয়ে তৃষ্ণা মেটাচ্ছে পানিবন্দি মানুষেরা । ফলে যেমন করে বাড়ছে রোগ জীবানু ঠিক তেমনী বিশুদ্ধ পানির অভাব। টিউবওয়েল থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে বার বার ডুবে তা অকেজো হয়ে পড়ছে। ইহাতে শিশুদের বিভিন্ন রোগের উপসর্গ বেড়েই চলেছে।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আক্তার সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুতে বেশ কিছু এলাকায় বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সেসব এলাকা দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।