চৌকিদার থেকে পশু ডাক্তার: হুমকির মুখে প্রাণিসম্পদ

vuya poshu daktar Atiar

এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, কুষ্টিয়া: হঠাৎ ডাক্তারের গল্প আমরা অনেকেই বহুবার শুনেছি। হঠাৎ ডাক্তারদের বিভিন্ন কিত্তি কান্ডের বিষয় আমাদের সবার জানা আছে। এমনি একজন হঠাৎ ডাক্তার কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের হরমুজ প্রামানিক এর পূত্র ভুয়া পশু চিকিৎসক আতিয়ার রহমান। গ্রামের সহজ সরল মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে চলছে তার ভুল চিকিৎসার মহোউৎসব। যত্রতত্র ঔষধ সরবরাহ এমনকি ভুল যায়গাতে ইনজেকশন প্রয়োগ করার মতো জটিল বিষয় ও তার কাছে অতি সহজ। তার ভুল চিকিৎসার বলি হয়ে অনেকেই তার দামি গরু ছাগলটি হারিয়েছেন অনেকেই আবার অসুস্থ পশুটি অল্পদামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।

খোজ নিয়ে জানা যায়, আতিয়ার পশু চিকিৎকের নেই কোন সাটিফিকেট, নেই কোন প্রশিক্ষণ । এমনকি ইংরেজিতে সে ঔষধের নামও উচ্চারণ করতে পারে না। আরোও জানা যায়, শুরুর দিকে সে ধরমপুর ইউনিয়নের চৌকিদার ছিলো। পরে চৌকিদারী পেশা ছেড়ে সে বিদেশ (দুবাই) চলে যান। বিদেশ থেকে এসে এখন পশু ডাক্তারি শুরু করেছেন। রামচন্দ্রপুর ব্রীজের পাশেই বটতলার ফজর আলী জানান, তার ছাগলটি অসুস্থ হলে সে আতিয়ারকে ডেকে আনে, সে ইনজেকশন দেওয়ার সাথে সাথেই ছাগলটি মারা যায়।

একই এলাকার তাহের আলী জানান, আতিয়ার ডাক্তার ১০ টাকার একটি বড়ির দাম নেয় ১০০/- টাকা । কয়েকদিন আগে তাহের আলীর একটি গরু অসুস্থ হয়। আতিয়ার ডাক্তার তাকে ৫৬,০০০/= টাকা দামের গরুটি পশু হাসপাতাল নেওয়ার পরামর্শ না দিয়ে নিজেই ইনজেকশন দিলে পরদিন সকালে পশুটি নেংরা হয়ে যায়। এবং অল্পটাকায় সেটি কসাইয়ের কাছে বিক্রি করতে হয়। এছাড়াও একই গ্রামের মোঃ আনোয়ার হোসেন এর ছাগল, মোঃ আজিজুল এর গরু আতিয়ারের ভূল চিকিৎসাতে মারা যায়।

এব্যাপারে ভেড়ামারা উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ারুল করিম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার উপজেলাতে আতিয়ার নামে কোন পশু চিকিৎসক নেই। যদি তার কাছ থেকে সহজ সরল পশুপালনকারীরা প্রতারনার স্বীকার হয়ে থাকে এমন অভিযোগ পেলে আমি নিশ্চয়ই আইনগত ব্যবস্থা নিব। ওই ভুয়া পশু চিকিৎসক আতিয়ার ভেড়ামারা পশু হাপাতালের কেউ নয়।

গ্রাম্য পশু চিকিৎসক আতিয়ার কোন প্রশিক্ষণ ও বৈধ সনদপত্র ছাড়াই সম্পুর্নভাবে প্রাথমিক ধারনা থেকেই কয়েক লক্ষ প্রাণি সম্পদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। এই পশু চিকিৎসক এর বিরুদ্ধে এমনও অভিযোগ আছে যে, সে নিন্মমানের ও মেয়াদ উর্ত্তীর্ন বিভিন্ন ঔষধ দিয়ে পশু চিকিৎসা করে সাধারন মানুষের সাথে পশু চিকিৎসার নামে প্রতারনা করে অর্থবানিজ্য করে যাচ্ছে। পশু চিকিৎসক আতিয়ারের কোন প্রশিক্ষণ না থাকাতে সুচিকিৎসার অভাবে প্রাণি সম্পদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হচ্ছে। যেমন গাভী গরু প্রজজন ক্ষমতা হারাচ্ছে, বলদ গরুগুলো চাষযোগ্য থেকে ছিটকে পড়ছে। এছাড়াও অন্যান্য প্রাণি সম্পদগুলোর অনেকক্ষেত্রে প্রাণহানি ঘটছে। তথা-কথিত পশু চিকিৎসক আতিয়ার ডাক্তারের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও রয়েছে নানান প্রশ্ন। কেননা ঔষধের নামে সঠিক বানানগুলো লিখতে পারে না। অন্যদিকে ভুয়া চিকিৎসক আতিয়ারের দাপটে বৈধ এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা পশু সম্পদের চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে বিব্রতবোধ করে।

এব্যাপারে ভুয়া পশু চিকিৎসক আতিয়ার রহমান এর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আমার ভাগ্নে শাহজাহান এর কাছ থেকে ডাক্তারী শিখেছি। সার্টিফিকেট আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পশুর ডাক্তার হতে হলে সার্টিফিকেট লাগে নাকি, আমিকি মানুষের ডাক্তার নাকি যে সার্টিফিকেট লাগবে।