বেসিস নিবার্চন ২০১৬-২০১৯ : ওলট-পালট হয়ে যেতে পারে ভোটের সব হিসাব

সময়ের কণ্ঠস্বর –

জমে উঠেছে সফটওয়ার উৎপাদন ও রপ্তানিকারক এই ট্রেডবডির নির্বাচনি মাঠ।আর মাত্র দুদিন পর  আগামী ২৫ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সফটওয়ার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বেসিস) এর নির্বাচন।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) ২০১৬-২০১৯ সেশনের নির্বাচনে লড়ছেন দুই প্যানেল ও চার স্বতন্ত্র প্রার্থী। প্যানেল দুইটির মধ্যে রয়েছে মাইক্রোসফট এমডি এবং জাতিসংঘের টেকনোলজি ব্যাংকের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সোনিয়া বশির কবিরের ‘দ্য চেইঞ্জ মেকার্স’ এবং তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বারের নেতৃত্বে ‘ডিজিটাল ব্রিগেড’ প্যানেল।

দ্য চেইঞ্জ মেকার্স’ প্যানেলে সাধারণ সদস্য ক্যাটাগরিতে রয়েছেন, প্যানেল প্রধান সোনিয়া বশির কবির (মাইক্রোসফট বাংলাদেশ লিমিডেট), মোস্তফা রফিকুল ইসলাম (ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেড), সৈয়দ আলমাস কবির (মেট্রোনেট বাংলাদেশ লিমিটেড), সুফি ফারুক ইবনে আবু বকর (ইভাটিক্স), আজমল হক আজিম (ডিজিকন গ্লোবাল সার্ভিস লিমিটেড), নাজমুল করিম চৌধুরী (গননা টেকনোলজিস লিমিটেড), সাব্বির রহমান তানিম (থার্ডবেল এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড) ও সাইদুল ইসলাম মজুমদার (মজুমদার আইটি লিমিটেড)।

এছাড়া অ্যাসোসিয়েট ক্যাটাগরিতে এ প্যানেলে রয়েছেন জামান খান (জামান আইটি)। নির্বাচনে সাধারণ সদস্য ক্যাটাগরিতে এই প্যানেলটিতে রয়েছেন, প্যানেল প্রধান মোস্তাফা জব্বার (আনন্দ কম্পিউটার্স), ফারহানা এ. রহমান (ইউ ওয়াই সিস্টেমস লিমিটেড), রাসেল টি আহমেদ (টিম ক্রিয়েটিভ), এম রাশিদুল হাসান (সিস্টেক ডিজিটাল লিমিটেড), মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল (অ্যাডভান্স ই আর পি (বিডি) লিমিটেড), এ কে এম আহমেদুল ইসলাম (এটম এপি লিমিটেড), রিয়াদ এস এ হুসেইন (ম্যাগনিটো ডিজিটাল), দেলোয়ার হোসেন ফারুক (র‌্যাডিসন ডিজিটাল টেকনলজিস লিমিটেড)।
এছাড়া সহযোগী সদস্য ক্যাটাগরিতে উত্তম কুমার পাল (বেস্ট বিজনেস বন্ড লিমিটেড)।
এর মধ্যে রাসেল টি আহমেদ, এম রাশিদুল হাসান, মো: মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল ও উত্তম কুমার পাল সংগঠনটির বর্তমান কমিটিতেও রয়েছেন।

আসন্ন নির্বাচনে দুটি প্যানেলের পাশাপাশি ৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তরুণ তথ্য প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার আব্দুল হাফিজ তানভীর। বেসিসে মোট সদস্য প্রায় ১ হাজার ৭৩ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে জেনারেল সদস্য ৩৬৮ জন। আর অ্যাসোসিয়েট সদস্য রয়েছেন ১৪৮। অ্যাসোসিয়েট সদস্যরা একটি ভোট দিতে পারবেন। আর জেনারেল সদস্যরা আটটি ভোট দিতে পারবেন।

tanvir basis

নির্বাচন ও পরবর্তী ভাবনা প্রসঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হাফিজ তানভীর জানিয়েছেন, তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারের সঙ্গে কাজ করছে বেসিস। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সফটওয়্যার, ই-কমার্স এবং আইটিএস খাতের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য আউটসোর্সিংয়ে দক্ষ জনশক্তি জরুরি। কিন্তু আমাদের দেশে এ বিষয়ে দক্ষ জনশক্তি খুব কম। আর আমরা ৩ মাস ট্রেনিং দিয়েই দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে চাই। কিন্তু তা সম্ভব নয়। একজন শিক্ষার্থী যদি ফ্রিল্যান্সিয়ে দক্ষ হতে চান তাকে অন্তত ১ বছর ট্রেনিং নিতে হবে। আইটি খাতে দক্ষ জনশক্তি না থাকায় দেশের বাইরের বড় বড় কোম্পানিগুলো আমাদের হাত ছাড়া হয়ে যায়।

আইটি বিষয়ে সরকার ভালো উদ্যোগ নিয়েছে এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়নে সরকার একা কাজ করলেই হবে না সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কিন্তু আমরা করবো আর কেউ করবে না এই ধরনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সবাইকে সুযোগ দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা রয়েছে আইটিতে সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়ার।

তিনি বলেন,  এখানে আমরা সবাই সবার পরিচিত। বেসিসের সদস্যরা অফিসে এসে কিছুক্ষণ বসে থেকে চা খাবেন, গ্রাহকদের সঙ্গে বসে গল্প করবেন এমন কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে ভিআইপি লাউঞ্জ রয়েছে। সেখানে কার্যকরি সদস্যরা বসেন কিন্তু সাধারণ সদস্যরা বসতে পারেন না। অন্তত সদস্যদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দেয়া উচিত।

basis election 2016

এই নির্বাচনে আমার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। আমি নিজেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছি প্যানেলে যাইনি। প্যানেলে মন কষাকষি চলে। বিভাজনের সৃষ্টি হয়।

বেসিসের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শামীম আহসানের কথা উল্লেখ না করলেই নয়। তার একান্ত প্রচেষ্টায় বেসিস আজ তথ্য প্রযুক্তি খাতে দেশের শীর্ষ সংগঠনে পরিণত হয়েছে। এক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তফা জব্বারেরও অবদান রয়েছে।

আব্দুল হাফিজ তানভীর জানান, বেসিস-এর নির্বাচনে নির্বাচিত হতে পারলে সাধারণ সদস্যদের জন্য আমার কিছু পরিকল্পনা রয়েছে।

বেসিস এর কার্যকরী সদস্যদের পাশাপাশি সকল দেশী কোম্পানী ও সফল কোম্পানী প্রধানদের কে যুক্ত করে সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধানের লক্ষ্যে সিনিয়র ও তরুণ সদস্যদের পরামর্শ গ্রহণ করা ।

ইন্ডাস্ট্রিতে বছরের পর বছর কোনভাবে টিকে আছে , এমন সদস্যের জন্য নমিনাল সুদে, বিনাশর্তে প্রয়োজনীয় মূলধন এর ব্যবস্থা করা।

স্বল্প মূল্যে প্রতি বর্গ ফুট হিসাবে মাসিক ভাড়ায় মেম্বারদের জন্য অফিস স্পেস এর জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

সরকারিভাবে সদস্যদের প্রোডাক্ট/সার্ভিস সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে একত্রিতভাবে ডিস্ট্রিবিউশন মডেল তৈরী করতে হবে।

সকল সদস্য কোম্পানির প্রোডাক্ট/সার্ভিস-এর ডিজিটাল ক্যাটালগ মোবাইল অ্যাপস আকারে পাবলিশ করে মার্কেটিং এর ব্যাবস্থা করতে হবে। কোন মেম্বার কোন বিষয়ে এক্সপার্ট তার একটা লিষ্ট করা।

সরকারী উদ্যোগ এবং কাজে সকল সদস্যদের প্রাধান্য থাকতে হবে। বেসিসের সাথে তথ্য প্রযুক্তিখাতের সংশ্লিষ্ট সকল এসোসিয়েশের সাথে সমন্বয় সাধন করে ঐক্যবদ্ধ ভাবে তথ্য প্রযুক্তি খাতের ব্যবসা সম্প্রসারনের উদ্যোগ গ্রহণ করা ।

মেম্বারদের জন্য বছরে যত বেশি সম্ভব প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যাতে করে আমাদের কোম্পানিগুলোর মধ্যে নতুন প্রজেক্টগুলো প্রতিদ্বন্দিতা করে উঠে আসতে পারে এবং তার জন্য সরকারি/বেসরকারি/ইনভেস্টমেন্ট -ভিত্তিতে সকল প্রকার সুযোগ সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা।

মেম্বারদের জন্য বেসিস-এ ডেডিকেটেড জোন এর ব্যবস্থা করা। বেসিসের সাথে তথ্য প্রযুক্তিখাতের সংশ্লিষ্ট সকল এসোসিয়েশের সাথে সমন্বয় সাধন করে ঐক্যবদ্ধ ভাবে তথ্য প্রযুক্তি খাতের ব্যবসা সম্প্রসারনের উদ্যোগ গ্রহণ করা

মেম্বারদের পুরোনো মূল্যবান দাবি সুবিধা অতি দ্রুত সময়ে বাস্তবায়ন করা ।

বিদেশি সফটওয়ার কোম্পানী গুলোকে বাংলাদেশে কোম্পানী স্থাপনে আগ্রহী করে তুলতে হবে তাতে দক্ষ জনবল তৈরী হবে যা থেকে আমাদের দেশিও কোম্পানী গুলো ব্যাপক ভাবে উপকৃত হবে।

সফটএক্সপো অথবা বিটুবি ইভেন্ট গুলো আরো কার্যকরী করা এবং যত বেশি সম্ভব সদস্যদের অংশগ্রহন নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার এন্ড ইনফরেমশন সার্ভিসেস (বেসিস) বাংলাদেশের সফটওয়্যার এবং তথ্য প্রযুক্তি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সমূহের একটি সংস্থা। যা জাতীয় ভাবে সফটওয়্যার এবং তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে। এটি ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।