অবশেষে লিফট ভেঙে উদ্ধার, নিশ্চিত বিপদ থেকে বেঁচে গেলেন দুই মন্ত্রী

palakসময়ের কণ্ঠস্বর-

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের জাহাঙ্গীর টাওয়ারের লিফটে দীর্ঘক্ষণ আটকে ছিলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ আরো কয়েকজন। বৃহস্পতিবার মধ্যে রাতে অল্পের জন্য লিফট দুর্ঘটনা থেকে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন তারা । ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লিফট ভেঙে তাদের উদ্ধার করে।

লিফটে আটকা পড়েছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, জ্বালানি বিদ্যুৎ ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং একুশে টেলিভিশনের উপস্থাপক অঞ্জন রায়,  বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও), প্রতিমন্ত্রী পলকের দুজন এপিএস, জাহাঙ্গীর নামের একজন সুপারভাইজার, প্রযোজক ফারুক এবং কৃষিবিদ দেবু ভট্টাচার্যসহ আরো কয়েকজন।

লিফটের ম্যাগনেট ফেল করায় ৭তলা থেকে নিচে নেমে বের হতে পারছিলেন না তারা। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লিফট ভেঙে তাদের উদ্ধার করে। একুশে টেলিভিশনের একটি টকশো শেষে ফেরার সময় এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় দুই প্রতিমন্ত্রীসহ সকলেই  অক্ষত রয়েছেন।

লিফটের মধ্যে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে সাংবাদিক অঞ্জন রায় এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, বিস্ময়কর ভাবেই আজ আমরা সবাই বেঁচে গেছি। বেঁচে আছি। সাত তলা থেকে সটান নীচতলায় লিফট পড়েছিলো। প্রচন্ড শব্দ, আঘাত, আতংক। লিফটে ছিলেন নসরুল হামিদ বিপু ভাই, জুনাইদ আহমেদ পলক, দেবু, বকুল, ফারুখ, জাহাংগীর ভাইসহ আরো কয়েকজন। এটা একদমই প্রায় মৃত্যুকে ছুয়ে দেখা; আরেকবার জন্ম নেয়া।

তিনি আরও জানান, আজ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবাষিকীর বিশেষ আয়োজনে বিপু ভাই, মাহবুবুল হক শাকিল, জুনাইদ আহমেদ পলক এই তিনজনকে নিমন্ত্রণের সিদ্ধান্ত হয়েছিলো। প্রথম অনুরোধেই বিপু ভাই রাজি হলেন, পলক রাজী হলেন- শাকিল ভাই না বললেন সরাসরি- যেমনটি তিনি কখনো বলেন না। শো হলো ভালোই- শেষে এই দুর্ঘটনা। উপস্থিত প্রত্যেকেই কম বেশী আঘাত পেয়েছেন। বিপু ভাই কদিন আগে অপারেশন হওয়া পায়ে চোট পেয়েছেন, জুনাইদ আহমেদ পলক সহ আমরা সবাই ব্যথা পেলেও এখন নিজ নিজ বাসায়। ব্যথার চোটে ঘুমাতে না পারলেও দুর্ঘটনার তুলনায় এটি সবার জন্যই হয়ত কম ক্ষতি। অনেকটা সময় চেষ্টার পরে আমরা উদ্ধার পেলাম- আসতে রাজী না হওয়া অতিথি শাকিল ভাই ফোন দিলেন, অনুষ্ঠান বিষয়ে মতামত জানাতে। বললাম দুর্ঘটনার কথা। পুরো ঘটনা শুনে- সবার কুশল জেনে বললেন, “সৃস্টিকর্তা আমাকে মাথার মধ্যে সিগন্যাল বাতি দিয়েছেন। আমি আপনাকে আজ যে না বলেছি- সেটি আমার মাঝ থেকে অন্য কেউ বলেছে” বোধকরি সে কারণেই তিনি এই যাত্রায় আহতের তালিকার থেকে তিনি রক্ষা পেয়েছেন। আসবেন না বলেছিলেন- কোন দৈব অনুমান থেকে।

সবশেষে তিনি লিখেছেন, যারা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজ নিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ- আমার নিজের হাত পা আর কোমড়ে- তবে মেজর নয় বলেই ধারনা করছি। কাল এক্সরে করাবো। একুশে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ অবশ্যই পুরো ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে দেখছে।

এদিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার ভোজন সরকার এ ব্যাপারে বলেন, লিফট ৭ তলা থেকে নামার সময় ম্যাগনেট ফেল করায় এ ঘটনা ঘটেছে। ভবনের কর্মীরা চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে ফোন দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে তাদের উদ্ধার করে। তারা সবাই অক্ষত রয়েছেন। কেউ আহত হননি। ভোজন সরকার বলেন, আমরা লিফটের ওয়্যার (তার) চেক করেছি। কোনো তার ছেড়া ছিল না।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার ভোজন সরকার  বলেন, লিফট ৭ তলা থেকে নামার সময় ম্যাগনেট ফেল করায় এ ঘটনা ঘটেছে। ভবনের কর্মীরা চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে ফোন দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে তাদের উদ্ধার করে। তারা সবাই অক্ষত রয়েছেন। কেউ আহত হননি।