মির্জাপুরে ভাড়াটিয়ার হাতে খুন, আদালতে ভাইয়ের স্বীকারোক্তি

tangail-Capture-9

অন্তু দাস হৃদয়, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় সমির উদ্দিন বুলু (২৮)। মাত্র তিন কেজি ধান না দেয়াতে ভাইয়ের ভাড়াটিয়ার হাতে খুন হয়েছেন । ভাড়াটিয়া খুনি কলুর চাচাত ভাই সাদেক মিয়া। গ্রেপ্তারের পর বুধবার (২২ জুন) বিকেলে টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিতে একথা জানিয়েছেন বুলুর মেজো ভাই কলু মিয়া (৩৮)। কলু মিয়া ১৬৪ ধারায় এ স্বীকারোক্তি দেন বলে বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) সন্ধ্যায় মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, গত শনিবার (১৮ জুন) ভোররাতে উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামের বুলু খুন হন। এ ঘটনায় তাঁর বাবা তোতা মিয়া বাদী হয়ে গত রোববার (১৯ জুন) মির্জাপুর থানায় মামলা করেন।

পরে পুলিশ বুলুর মেজো ভাই কলুকে গ্রেপ্তার করে। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর গত বুধবার (২২ জুন) টাঙ্গাইল জৈষ্ঠ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে স্বীকারোক্তি দেন। আদালতের বিচারক সানজিদা সরোয়ার তা লিপিবদ্ধ করেন।

স্বীকারোক্তিতে কলু মিয়া জানান, তাঁরা সংসারে চার ভাই। বড় ভাই আফাজ উদ্দিন তাঁদের গ্রামেই আলাদা বাড়িতে থাকেন। এ ছাড়া তিন ভাই কলু মিয়া, বুলু ও ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম বাবা-মার সাথে একই বাড়িতে থাকতেন। এদের মধ্যে বুলু অবিবাহিত ছিলেন। প্রায় ছয় মাস আগে লিবিয়া প্রবাসী সাইফুল ইসলাম বাড়িতে আসেন। বাড়িতে এসে শুনেন তাঁর বড় দুই ভাই কলু মিয়া আর বুলুর সাথে মাঝে মধ্যেই ঝগড়া হতো। প্রায় দুই মাস আগে কিছু জমি ও নগদ টাকা দিয়ে তোতা মিয়া কলু মিয়াকে পৃথক করেন। এরপর সাইফুল বিদেশে চলে যান।

পৃথক হওয়ার পরও কলু আর বুলুর সাথে ঝগড়া হতো। খুন হওয়ার পাঁচ-ছয় দিন আগে তাঁদের বাড়ির পাশের জমিতে ধানের বিজতলা তৈরীর জন্য বুলুর কাছে কলু তিন কেজি ধান চান। কিন্তু সে তাতে রাজী হননি। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে প্রচন্ড বাক বিতন্ডা হয়। একে অপরকে হত্যার হুমকীও দেন। এ সময় তাঁদের পাশে প্রতিবেশি চাচাত ভাই ছাদেক মিয়া (৪০) দাড়িয়ে ছিলেন। দুই ভাইয়ের ঝগড়া শেষে বুলু ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে ছাদেক মিয়া উস্কানী দিয়ে কলু মিয়াকে বলেন, ‘কষ্ট করে এতবছর সংসার করলি। আর ছোট ভাই সব নিয়ে যাচ্ছে। তোকে আবার খুনের হুমকীও দিল।

এ সময় কলু মিয়া কি করবেন জানতে চাইলে ছাদেক কিছু টাকা দিলেই বুলুকে খুন করে দিবে বলে জানায়। পরদিন কলু তাঁর কাছে থাকা কিছু টাকা ও ছেলের স্বর্ণের চেইন বিক্রি করে ৮০ হাজার ৩০০ টাকা ছাদেককে দেন। এরপর পরিকল্পিতভাবে গত শনিবার (১৮ জুন) ভোররাতে গাভীর দুধ দোহন করার সময় পেছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। তাঁর আর্তচিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে বুলুকে উদ্ধার করে মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এস.আই) মোশারফ হোসেন জানান, হত্যাকারী ছাদেককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। কলু মিয়া টাঙ্গাইল জেলহাজতে রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।