মুন্সীগঞ্জে প্রতারনার অন্যতম ব্যবসা হারবাল

photo harbal (1)

মোঃ রুবেল ইসলাম তাহ্মিদ, (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: রোগীদের দূর্বলতালতাকে কাজে লাগিয়ে রোগীর মনের ভিতরে ভয় ঢুকিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। দীর্ঘ দিন ধরে রোগীদের সাথে প্রতারনামূলক ব্যবসা চালিয়ে আসছে।

জেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের কলিকাতা হারবাল মেডিকেলে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোন ধরনের চিকিৎসক নেই । ভিতরে রোগী ঢোকার সাথে সাথে সালাম দিয়ে অফিস সহকারী হাবিবুর রহমান পর্দা লাগানো গোপন কক্ষে নিয়ে যায়। রোগীর সমস্যার বিবরন শুনে রোগীকে একগাদা হালুয়া এবং বড় বড় সিরাপ তুলে দিচ্ছেন। আর পরামর্শ বাবদ রোগী থেকে আদায় করছেন ১০০-৩০০ টাকা।

কথিত চিকিৎসক হাবিবুর জানান, হাঁপানি, চর্ম ,যৌন, বাত, ব্যাথা, ডায়বেটিস, পুরাতন আমাশয়,প্যারালাইসিস সহ নারী ও পুরুষের গোপন চিকিৎসা শতভাগ গ্যারান্টিসহকারে চিকিৎসা দেওয়া হয়। যে ঔষধ বিক্রি ও চিকিৎসা দিচ্ছেন এর কোন বৈধ লাইসেন্স বা অনুমোদন আছে? জবাবে সাংবাদিক দের প্রশ্নের—উত্তরে বলেন, আমরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে চালাচ্ছি।

আপনার হেকিম সাহেব কোথায়? বাসায় আছে ফোন করলে চলে আসবে। পরে প্রতিবেদক হেকিমের মোবাইল নাম্বারে ফোন করার ৫ পাঁচ মিনিটের মধ্যে কলিকাতা হারবাল মেডিকেল এর মালিক হেকিম মোঃ খলিলুর রহমান সেন্টারে চলে আসেন। হেকিম খলিলুর রহমান বলেন, আমার কোন ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট নাই। আমি ছোটখাটো একটা প্রশিক্ষন নিয়ে ছিলাম। কলকাতা হারবাল নাম এর ব্যাপারে বলুন ? জবাবে আরো বলেন, এ নামটা আমাদের দেয়া নাম।

প্রতারনার শিকার এক রোগী ময়না বেগম বলেন, আমার খাওয়া দাওয়ায় কোন রুচি ছিলনা। এখানে আসার পর আমাকে চারটি ফাইল দিয়েছিল ১৫ দিন খাওয়ার পর আমার শরীরে পানি জমে যায়। নাক মুখ ফঁলে গিয়েছিল পরে হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তার দেখিয়েছি। এখন দিন দিন শরীর ফুলে যাচ্ছে এবং শরীরে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাষের এক ভুক্তভোগী জানান, ৫ হাজার টাকা খরচ করে কলিকাতা হারবাল মেডিকেল থেকে ঔষধ নিয়েছিলাম। ঔষধে গুনাগুন শুনে, তবে আমার কোন উপকার হয়নি। অথচ আমাকে বলা হয়েছিল সমস্যা শতভাগ সমাধান হয়ে যাবে। অন্যদিকে সিপাহীপাড়া অবস্থিত ভারত হারবাল সেন্টারে গিয়ে দেখা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্সে আধুনিক হারবাল লিখা আছে। অথচ প্রতারনার কৌশল হিসাবে ভারত হারবাল নাম ব্যবহার করে প্রতারনা চালাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটিতে হারবাল চিকিৎসক বা মালিকগন সেন্টারের আসে পাশেও নেই। তাদের কর্মচারীদের মাধ্যমে বা মোবাইলের মাধ্যমে রোগীর বিবরন শুনে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। চেম্বারে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক কথিত ডাঃ মানিক সরদার তাকে পাওয়া যাযনি। চেম্বারে রিসিভশনে বসে রোগীর সিরিয়াল দিচ্ছেন অফিস সহকারী মোঃ ইসহাক। গোপন কক্ষে রোগীকে পরামর্শ ও ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন ম্যানেজার মোঃ আকাশ। ভারত হারবাল সেন্টারের ম্যানেজার আকাশ বলেন, বৈধ লাইসেন্স বা কাগজপত্র আছে কি না সেটা আমরা বলতে পারবোনা। আপনার মালিকের সাথে কথা বলুন। পরে ভারত হারবাল সেন্টারের মালিক কথিত ডাক্তার হেকিম মোঃ মানিক সরদারের মোবাইলে ফোন করিলে তিনি ফোন রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় শুনে রং নাম্বার বলে ফোনটি কেটে দেন। পরে একাধিবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এছাড়া প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন স্থানে দামি গাড়ী নিয়ে রাস্তার পাশে লোক জরো করে হারবাল ঔষধ বিক্রি করতে দেখা যায়। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে , তাদের প্রত্যেককে নিকটস্ত থানায় মাসোহারা দিতে হয়।অনেক হারবাল চিকিৎসক বা মালিকগন সেন্টারের আসেপাশেও নেই। তাদের কর্মচারির মাধ্যমে বা মোবাইলের মাধ্যমে তারা চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।এছাড়া প্রতিদিন নগরীর আনাচে কানাচে দামি গাড়ী নিয়ে অনেককে হারবার ঔষুধ বিক্রি করতে দেখা যায়। তাদের সাথে কথা বলে যানা গেছে, তাদের প্রত্যেককে স্থানীয় লোকদের মোটা অংকের মাসোহারা দিতে হয়। হারবাল সেন্টারগুলোর বাইরে ও ভিতরে অহরহ ডাক্তার ও হাকিমের নামের তালিকা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে কোন ডাক্তার বা হাকিম খোঁজে পাওয়া যায়নি এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডাঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, বিএমটিসির আলোকে এমবিবিএস ও বিডিএস ছাড়া কারও নামের আগে ডাক্তার লাগানো বৈধ নয়। এ ধরনের অপ- চিকিৎসার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একেএম শওকত আলম মজুমদার এর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, এসব হারবাল প্রতিষ্টানে চলতি সাপ্তাহের মধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।