ঈদকে সামনে রেখে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় জোরেসোরে চলছে কোচ মেরামতের কাজ

IMG_2970

মোঃ মহিবুল্লাহ্ আকাশ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় জোরেসোরে চলছে কোচ মেরামতের কাজ। ঈদে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের জন্য কারখানটিতে প্রায় ৮০টি কোচ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিয়মিত কাজের বাইরে ঈদকে ঘিরে অতিরিক্ত ৮০টি’র মত কোচ মেরামত চলছে কারখানার শপগুলোতে। এর মধ্যে ৪৪টি ব্রডগেজ ও ৩৬টি মিটারগেজ লাইনের কোচ রয়েছে বলে একটি বিশেষ সূত্রে জানা গেছে। প্রচন্ড জনবল সংকট পুষিয়ে নিতে শ্রমিক ও কর্মচারীরা ওভারটাইম কাজ করছেন।

সূত্র জানায়, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় বর্তমানে খুব বেশী হলে দেড় হাজার শ্রমিক কর্মরত আছেন। যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। বর্তমানে জনবল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এছাড়া আছে সরঞ্জাম সংকট। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সহজলভ্য নয়। নেই বুশ, সুইং হ্যাঙারের স্বাভাবিক সরবরাহ। ফলে কোচ মেরামত বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে এ সকল অভিযোগ অস্বীকার করে সৈয়দপুর রেলওয়ে জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক প্রকৌশলী বেলাল হোসেন সরকার জানান, কোনো যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জামের সংকট নেই এখানে। কারখানাকে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে নানা সংকটের মধ্যেও ঈদে কোচ মেরামতের বিষয়টিকে এখন সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কাজেই কারখানার শ্রমিক-প্রকৌশলীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। ২ জুলাইয়ের মধ্যে কোচগুলো রেলওয়ে পরিবহন বিভাগকে হস্তান্তর করা হতে পারে।

IMG_2951এ ব্যাপারে ক্যারেজ শপের ইনচার্জ ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী দিলশাদ করিম আবু হেনা জানান, এখন কাজের প্রচন্ড চাপ। ঈদে ঘরমুখো রেলযাত্রীদের সেবা দিতে আমরা অতিরিক্ত কাজ করছি। নিয়মিত কাজের বাইরে শ্রমিকরা প্রতিদিন ওভারটাইম কাজ করছেন। এছাড়া সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাজ চলছে কারখানায়।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক নূর আহাম্মদ হোসেন সময়ের কণ্ঠস্বর-কে জানান, প্রায় ২৪ টি ওয়ার্কশপে ৮০টি’র মত কোচের মেরামত কাজ চলছে। আমরা আশা করছি ঈদের আগেই কোচগুলো নামাতে পারবো। এতে ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে বলে জানান তিনি।

সৈয়দপুর রেলওয়য়ে শ্রমিক লীগের সাঃ সম্পাদক বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা মোখছেদুল মোমিন জানান, নানা সংকটের মাঝেও ঈদে মেরামত পরবর্তী কোচ নামানোর বিষয়টি এখন সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দুইজন শ্রমিকের কাজ একজন শ্রমিককেই করতে হচ্ছে। ঈদের পরিবহন নির্বিঘ্ন করতে সবার মাঝে খুশি ছড়িয়ে দিতে কারখানার শ্রমিক-প্রকৌশলীরা নিরলস কাজ করছেন। ঈদের আগে কোচগুলো রেলওয়ে পরিবহন (ট্রাফিক) বিভাগকে হস্তান্তর করা হতে পারে বলে জানান কেন্দ্রীয় এই শ্রমিক নেতা।