ব্রিটেনবাসীর ব্রেক্সিটের পক্ষে রায়ের পর শেয়ার বাজারে ধ্বস

britain-s

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ঐতিহাসিক বিচ্ছেদ। গণভোটে ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে রায়  দিল ব্রিটেন। পরাজয়ের নৈতিক দায় স্বীকার করে গদি ছাড়ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন।

ব্রেক্সিটে সিলমোহর বৃটেনবাসীর

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হল না। মিলল না অধিকাংশ জনমত সমীক্ষার ফলও। ১৯৭৫-এর গণভোটে ব্রিটেনবাসী ইউরোপিয়ন ইউনিয়নে থাকার পক্ষে মত দেন। এবার তাঁরা বললেন, আর ব্রিমেইন নয়। চাই বিচ্ছেদ। চাই ব্রেক্সিট। সাড়ে চার কোটির বেশি ভোটারের মধ্যে ৭২ শতাংশ ভোটার গণভোটে অংশ নেন। ৫২ শতাংশ ভোটার ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় দেন। ৪৮ শতাংশ ভোটার জানান তাঁরা ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের মধ্যেই থাকতে চান।

গত দু-দশকে ব্রিটেনের কোনও নির্বাচনেই এত বেশি ভোট পড়েনি। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই লন্ডন বাদে গোটা ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বাসিন্দারা ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে মত দেন। তবে, স্কটল্যান্ড এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভোটাররা জানিয়েছেন, তাঁরা ইউরোপিয়ন ইউনিয়নেই থাকতে চান। ব্রিটেনের ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন ছাড়ার প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগবে দু-বছর।ইতিমধ্যেই সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে বলে খবর।

গদি ছাড়লেন ক্যামেরন

গণভোটের আগে প্রচার পর্বে কনজারভেটিভ পার্টির একাংশের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে ইউরোপিয়ন ইউনিয়নে থাকার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। মানুষের রায় বিপক্ষে যাওয়ায় পরাজয়ের নৈতিক দায় স্বীকার করে নিয়ে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। ভোটের ফল বেরনোর পর ডাউনিং স্ট্রিটে স্ত্রী সামান্থাকে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। জানান, অক্টোবরে কনজারভেটিভ পার্টির সম্মেলনেই নতুন প্রধানমন্ত্রী বেছে নেওয়া হবে।

সাফল্যের শিখরে ফারাজ

ব্রেক্সিটের পক্ষে জনমত তৈরিতে আদাজল খেয়ে নেমেছিল UK ইন্ডিপেন্ডেন্স পার্টি। শক্তিতে লেবার ও কনজারভেটিভদের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও দেশের ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে বাজিমাত করেছেন UKIP নেতা নাইজেল ফারাজ। জয়ের পর ব্রিটেনবাসীকে স্বাধীনতা দিবস পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শেয়ার বাজারে ধস

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় দিয়ে অধিকাংশ ব্রিটেনবাসী জানিয়ে দিয়েছেন, অভিবাসীদের চাপে রুটি-রুজিতে হাত পড়া আর মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা। তবে, বিনিয়োগকারীরা যে গণভোটের রায়ে উদ্বিগ্ন তা বুঝিয়ে দিয়েছে শেয়ার বাজারের পতন। ডলারের তুলনায় প্রায় দশ শতাংশ পড়েছে পাউন্ডের দাম। তিন দশকের মধ্যে পাউন্ড নেমে এসেছে সবচেয়ে তলানিতে। গণভোটের ফল বেরনোর পরই লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে বিভিন্ন সংস্থার শেয়ারের দাম গড়ে ৮ শতাংশ পড়ে যায়।

কে হবেন পরের প্রধানমন্ত্রী?

ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন লন্ডনের প্রাক্তন মেয়র বরিস জনসন। গদিতে বসলে তাঁকে নতুন পথে দেশ চালাতে হবে। সরকারের গরিব-বিরোধী নীতির জন্যই গণভোটের রায় ব্রেক্সিটের পক্ষে গেছে বলে ইতিমধ্যেই অভিযোগ করেছেন লেবার নেতা জেরেমি করবিন। সব মিলিয়ে ঐতিহাসিক বিচ্ছেদের পর অতলান্তিকের পাড়ে ষোলো আনা মজুদ রাজনৈতিক উত্তেজনা।