যুক্তরাষ্ট্রে দেড় লাখ প্রবাসী বাঙালি বহিষ্কার আতঙ্কে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক –   যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ কাগজপত্রহীন অভিবাসীর ভাগ্যে নেমে আসবে গ্রেফতার ও বহিষ্কারের খড়গ। তাই আতঙ্ক জেঁকে বসেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে।
 
অর্ধ লক্ষাধিক বাংলাদেশীসহ ৪৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের মুখে ঠেলে দিলো মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণও দলীয় বিভাজনের স্পষ্ট প্রকাশ ঘটালেন। অর্থাৎ ৮ বিচারপতি সমান দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একটি নির্বাহী আদেশ স্থবির হয়ে পড়লো।
 
অপরিণত ও কাগজপত্রহীন সন্তান এবং তাদের বাবা-মাদের বৈধতা দিতে কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর নির্বাহী আদেশ জারি করেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। এর আওতায় ৫০ লাখ অবৈধ অভিবাসীর মধ্যে বহু বাংলাদেশিও সেখানে বৈধ হওয়া সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেই উদ্যোগ আটকে গেল।
 
আইনজীবী ফাহাদ আহমদ বলেন, ‘বিগত ৭ বছরে ৩০ লাখ অভিবাসীকে বহিষ্কার করেছে বর্তমান প্রশাসন। আদালতের নতুন রায়ে আবারো সেই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। কাগজপত্রহীন ১ কোটি ১০ লাখ অভিবাসী আবারো সেই আতঙ্কের মধ্যে পড়লো।’
 
সারা দেশের পাশাপাশি নিউইয়র্কে বহিষ্কার অভিযান জোরালো হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়ায় এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠন ড্রামের নির্বাহী পরিচালক ফাহাদ আহমদ।
 
তিনি বলেন, ‘নিউইয়র্ক প্রশাসন এবং বিভিন্ন মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো অভিবাসীদের পক্ষে থাকলেও, এখানে যে গ্রেফতার ও বহিষ্কার অভিযান হবেনা, তেমনটা নয়। এ অবস্থায় প্রবাসীদের কোন ধরনের অপরাধ কিংবা ঝামেলায় না জড়ানোর পাশাপাশি সবসময় আইনজীবীদের পরামর্শ নিতে হবে। এবং মানবাধিকার সংগঠনসহ নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। যাতে বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া যায়।’
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য মতে, নির্বাহী আদেশের আওতায় প্রায় ৩৬ হাজার বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ হওয়ার সুযোগের আওতায় পড়েন। সারা যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে কাগজপত্রহীন মোট প্রবাসী বাঙালির সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ।