ফুলবাড়ীতে গ্রামবাংলার ৫শত বছরের প্রাচীনতম ইন্দ্রাটির পানি খাচ্ছে শতাধিক পরিবার

অনীল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী প্রতিনিধি:


kuya

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে নিভৃত পল্লীতে প্রায় ৫ শত বছরের প্রাচীনতম গ্রাম বাংলার পুরনো দৃষ্টি নন্দিত ঐতিহ্যবাহী ইন্দ্রাটি এখনও পানি খাচ্ছেন শতাধিক পরিবার। এটি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে কুলাঘাট সংলগ্ন সোনাইকাজী গ্রামের রেফাজুলের বাড়ীর উঠানে ইন্দ্রাটি অবস্থিত।

সোনাইকাজী গ্রামে গিয়ে শোনা গেছে, ইন্দ্রাটির প্রকৃত বয়স সম্পর্কে নানান জন নানা কথা বললেও প্রকৃত বয়স কত ? তা জানাতে পারেননি কেউ। ওই গ্রামের ৮৭ বছর বয়সী বৃদ্ধা আমেনা বেওয়া, ৮০ বছরের বৃদ্ধা শাহজাদি বেগম জানিয়েছেন বিয়ে হয়ে যাওয়ার ৭০-৭৫ বয়স হয়েছে। তখনো আমার শ্বশুর-শ্বাশুরী সহ আশপাশ বাড়ীর কোন লোকজন ও কেউয়ে ঠিক মত বলতে পারেনি এই ইন্দ্রাটির বয়স কত ? তবে ইন্দ্রাটি অনেক পুরাতন বলে জানত এলাবাসী। তারা অরো জানান ইন্দ্রাটির পানি এত সু-শ্বাত যে টিউবয়েলের পানির চেয়েও ঠান্ডা। ইন্দ্রটির এক গ্লাস পানি পান করলে প্রাণটা ভরে যায়। আরো খেতে ইচ্ছা করে।

এই পানি দিয়ে গোসল করলে বার বার গোসল করতে ইচ্ছা করে। এলাকাবাসী দাবী করছেন ইন্দ্রটির পানি স্বাস্থ্য সম্মত। ৫শ বছর ধরে ইন্দ্রাটির পানি খাচ্ছেন শতাধিক পরিবার এখন পর্যন্ত কারো কোন ধরনের সমস্যা হয়নি। মাঝ খানে ইন্দ্রাটি একটু সমস্যা দেখা দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ইন্দ্রাটি সংস্কারের জন্য শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানের কাছে দাবী করে এলাকাবাসী। সাবেক চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম সোহেল এলাকাবাসীর দাবীতে সারা দিয়েছেন। তাই তিনি ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে এল.জি.এস.পি অর্থায়নের প্রায় ৫৫-৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে ইন্দ্রাটি সংস্কার করে দেয়।

বর্তমানে ইন্দ্রাটি খুবেই সুন্দর হয়েছে। ইন্দ্রাটি এক নজর দেখার জন্য দুর-দুরান্তর থেকে লোকজন এসে অনেক মজা করে ইন্দ্রাটির পানি এবং তরুন-তরুনীরা ইন্দ্রাটির পাশ্বে দাড়িয়ে মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলিয়ে অনেকে নিজের ফেসবুকে পোষ্ট করে আনন্দ উপভোগ করে থাকেন।