‘এসপি বাবুল আক্তারকে ‘জিজ্ঞাসাবাদ’ করছে পুলিশ’

babul
ফাইল ফটো

সময়ের কণ্ঠস্বর- স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। একই বিষয় নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক।

শনিবার সকালে বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, কয়েকজন আসামির সামনে মুখোমুখি করে বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে হঠাৎ গভীর রাতে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কারণ সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি।

এসপি বাবুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, বা তাকে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এখনও বলার সময় হয়নি। শিগগিরই জানতে পারবেন।

এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে তার (বাবুল) শ্বশুর বাড়ি খিলগাঁও মেরাদিয়া ১২০ নম্বর বাসা থেকে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের একটি বিশ্বস্তসূত্র। ৫ জুন স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু খুন হওয়ার পর থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় শ্বশুর বাড়িতেই থাকছিলেন এসপি বাবুল। তার শ্বশুর মোশাররফ হোসেন অবসরে গিয়েছিলেন পুলিশের ওসি হিসেবে।

পুলিশ সদর দফতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, বাবুল আক্তারকে রাতে পুলিশ সদর দফতরে রাখা হয়েছিল। সেখানে রাতভর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেখানে কয়েকজন সন্দেহভাজন আসামির সঙ্গে তাকে মুখোমুখি করা হয়। শনিবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি এবিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে চট্টগ্রাম পুলিশের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি সূত্র জানায়, তাকে ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। তবে কী কারণে তাকে আনা হয়েছে তা তিনিও জানেন না। এবিষয়ে ডিএমপির জনসংযোগ কর্মকর্তা উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি।

শুক্রবার রাতে বাবুল আক্তারকে তার শ্বশুরের বনশ্রীর বাসা থেকে আইজিপির কথা বলে ডেকে নিয়ে আসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আনোয়ার হোসেন ও খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুল হোসেন। শনিবার সকালে বাবুল আক্তারের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন তাকে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান।

বাবুলের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন বলছেন, শুক্রবার রাত ১টার দিকে তাদের বনশ্রীর বাসা থেকে বাবুল আক্তারকে নিয়ে যায় খিলগাঁও থানার ওসি মঈনুল হোসেন ও মতিঝিল বিভাগের উপ কমিশনার আনোয়ার হোসেন।

“আইজি সাহেব দেখা করতে বলেছেন বলে ওকে নিয়ে গেল। এরপর তার সাথে আর যোগাযোগ করতে পারছি না। যারা নিয়ে গেল তাদের সাথেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।”

ঢাকায় পুলিশ সদরদপ্তরে সংযুক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতুকে গত ৫ মে চট্টগ্রামে তাদের বাসার কাছে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। চট্টগ্রামের পুলিশ বলে আসছিল, গত দুই বছরে চট্টগ্রামে জঙ্গি দমন অভিযানে বাবুলের সাহসী ভূমিকার কারণে জঙ্গিদেরই সন্দেহের তালিকায় প্রথমে রেখেছেন তারা; সেভাবেই মিতু হত্যার তদন্ত চলছিল।

মিতু হত্যার ঘটনায় চট্টগ্রামে যে মামলা হয়েছে, বাবুল আক্তারই তার বাদী। সে কারণে প্রায়ই তাকে পুলিশের কার্যালয়ে যেতে হত বলে মোশাররফ হোসেন জানান।

তিনি বলেন, “আগেও সে রাতে গেছে। কিন্তু যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে এমন হয়নি। এ কারণে আমাদের সন্দেহ হচ্ছে। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দিচ্ছে না কেন? ফোন বাজছে, ধরছে না কেন? বাসায় দুই বাচ্চা কাঁদছে, মা তো আর নেই।”

উল্লেখ্য, গত ৫ জুন চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে শিশু সন্তানের সামনে কুপিয়ে ও গুলি করে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যা করা হয়। পরের দিন ভোরে নগরীর বাদুরতলা বড় গ্যারেজ এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর পুলিশ দাবি করে বাবুল আক্তারের জঙ্গিবিরোধী ভূমিকার কারণেই তার স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সারাদেশে শুরু হয় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হয় কমপক্ষে ৬ জঙ্গি।

মিতু হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাব, সিআইডি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিআই)। তবে মামলার মূল তদন্তে আছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। যদিও সবগুলো সংস্থা মিলে এখনও তেমন কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি।

এর আগের সংবাদ-

গভীর রাতে এসপি বাবুল আক্তারকে ‘নিয়ে গেছে পুলিশ’