সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় ইরানের যোগদানে বাধা নেই: পুতিন

4bk6fa436e61fb91ba_800C450


আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বা এসসিও’তে ইরানের যোগদানে কোনো বাধা নেই। উজবেকিস্তানের রাজধানী তাশখন্দে আজ (শুক্রবার) এই পরিষদের শীর্ষ সম্মেলনে দেয়া ভাষণে পুতিন এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ইরানের পরমাণু সমস্যার সমাধান এবং দেশটির ওপর থেকে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর এসসিও’তে তেহরানের যোগদানের ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা নেই।

তবে পুতিন এ বক্তব্য দিলেও তাশখন্দ থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, এসসিও’র সদস্য দেশগুলো এই সংস্থার পূর্ণ সদস্য হিসেবে ইরানকে গ্রহণ করার প্রক্রিয়া শুরুর সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ইরান বর্তমানে এই সংস্থার পর্যবেক্ষক সদস্য। এসসিও’তে নিযুক্ত রাশিয়ার বিশেষ প্রতিনিধি বাখতিয়র খাকিমভ বলেছেন, “এই সম্মেলনে আমরা আমাদের সহযোগীদের সঙ্গে ইরানকে অন্তর্ভূক্ত করার ব্যাপারে একটি মতৈক্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছি। তবে এ প্রচেষ্টা চলবে।”

নীতিগত দিক দিয়ে সদস্য দেশগুলোর এ ব্যাপারে আপত্তি না থাকলেও ঠিক কবে ইরানকে সদস্য করা হবে তা নিয়ে মতপার্থক্য আছে বলে তিনি জানান। খাকিমভ বলেন, রাশিয়া এখনই এসসিও’তে ইরানের সদস্যপদ চাইলেও কোনো কোনো সদস্যদেশ এর বিরোধিতা করছে। তবে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আর কিছু জানাননি তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ সম্মেলনে যোগ দেয়ার লক্ষ্যে আজ (শুক্রবার) সকালে তাশখন্দ পৌঁছেছেন। গত বছর রাশিয়ার ইউফা শহরে এই সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন ইরানের প্রসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে সাংহাই সহযোগিতা পরিষদের পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ পাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এতদিন পাশ্চাত্যের সঙ্গে ইরানের পরমাণু আলোচনার অজুহাতে বিষয়টি ঠেকিয়ে রাখা হয়েছিল। ইরান এসসিও’র সদস্য হলে এই সংস্থাভুক্ত দেশগুলো বিশ্বের মোট তেলের এক পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণ করবে এবং বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের বসবাস থাকবে এসসিও’ভুক্ত দেশগুলোতে।

এসসিও’র চলতি অধিবেশনে ভারত ও পাকিস্তানকে পর্যবেক্ষক সদস্য থেকে পূর্ণ সদস্যপদ দেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অবশ্য ওই দুই দেশের অন্তর্ভুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে ২০১৭ সালের শীর্ষ সম্মেলনে। চীন ও রাশিয়ার নেতৃত্বে ২০০১ সালে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা বিষয়ক সংস্থা এসসিও গঠিত হয়েছে। এ সংস্থার ছয় পূর্ণাঙ্গ সদস্য হচ্ছে কাজাকিস্তান, চীন, কিরঘিজিস্তান, রাশিয়া, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান। এ ছাড়া, আফগানিস্তান, ভারত, মঙ্গোলিয়া, বেলারুশ, ভারত ও পাকিস্তান এ সংস্থার পর্যবেক্ষক সদস্য।