তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেঃ মিঃ উপরে: ২ হাজার ৫শ পরিবার পানিবন্দি

pani

মাজহারুল ইসলাম লিটন, ডিমলা প্রতিনিধি: ভারী বর্ষন ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি ফের বৃদ্ধি বন্যা দেখা দিয়েছে। আজ শনিবার সকাল ৬টা থেকে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ বিপদসীমা (৫২ দশমিক ৪০ মিটার) ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সকাল ৯টায় তা আরও ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। দুপুর ১২ টায় আবার কমে ১৫ সেন্টিমিটার উপড় দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রবল বন্যার কারনে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ী গ্রামটি হাটু পানিতে তলিয়ে গেছে। তিস্তার বন্যা ও প্রবল ভাঙ্গনে গ্রামটি লন্ডভন্ড হয়ে যাচ্ছে। চরখড়িবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পে হাটু পানিতে তলিয়ে গেছে।

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চরখড়িবাড়িতে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত এক হাজার মিটার দীর্ঘ বালির বাঁধের ৪শ মিটার এর মধ্যে ধ্বসে গেছে। একই সূত্রমতে ২৪ ঘন্টায় তিস্তা অববাহিকার ডালিয়ায় বৃস্টিপাত রেকর্ড করা হয় ১২৭ মিলিমিটার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

এদিকে তিস্তার বন্যায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি, জলঢাকা উপজেলার, গোলমুন্ড, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী, তিস্তা নদী বেস্টিত চর ও চর গ্রামগুলোর এলাকার ১৫টি চর ও গ্রামের ১০ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে বলে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছে।

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চরখড়িবাড়িতে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত এক হাজার মিটার দীর্ঘ বালির বাঁধের ৪ শত মিটার ধ্বসে গেছে। বাঁধটি রক্ষার জন্য এলাকার শত শত মানুষজন বালিরবস্তা ও গাছ বাঁশের গুড়ি ও খুটি ফেলে রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দারা। ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ছাতুনামা ও ফরেষ্টের চরের ৭শ পরিবার বসতভিটায় বন্যায় পানি প্রবেশ করেছে। এসব পরিবারের অধিকাংশ বাড়ী হাটু পানিতে তলিয়ে রয়েছে। খালিশা চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন পশ্চিম বাইশ পুকুর, পূর্ব বাইশ পুকুর, সতিঘাট ও ছোটখাতা গ্রামের ৮শ পরিবার বন্যার কবলে পড়েছে। পূর্ব ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক আবদুল লতিফ খান বলেন, ঝাড়সিংশ্বের ও ছাতনাই গ্রামের সহস্রাধিক পরিবারের বসত ভিটায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। খগাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন বলেন, কিসামত ছাতনাই ও দোহলপাড়া গ্রামের ৫শতাধিক পরিবার বন্যার কবলে পড়েছে। এসব পরিবারের শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। শুক্রবার চরখাড়িবাড়ির ১৭টি পরিবারের বসতভিটা নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। শত শত পরিবার ঘরবাড়ি ভেঙ্গে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছে।

ওই সব এলাকার মোতালেব হোসেন, মোমেনা বেগম, মফিজুল ইসলাম, আজিজুল ইসলাম, আব্দুর রহমান ও আবুল কাশেম জানান গত বছর থেকে তিস্তা নদী গতিপথ শুরুর আলামত ফুটে উঠেছিল। ফলে চরখড়িবাড়ির সাথে ভারত সীমান্ত বরাবর তারা তিস্তা নদীর গতিপথকে ঠেকাতে সেচ্ছাশ্রমে এক হাজার মিটার দীর্ঘ বালির বাঁধ নির্মান করে। কিন্তু তিস্তা যেন রাক্ষুসী হয়ে উঠছে। তিস্তার মূল গতিপথ ভারতের মেখলিগঞ্জ হয়ে বাংলাদেশের জিরো পয়েন্ট কালিগঞ্জ দিয়ে। কিন্তু ওই পথ পরিবর্তন করতে শুরু করে তিস্তা।

বন্যায় চুলো ও টিউবওয়েল ডুবে যাওয়ার কারনে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে রয়েছে বন্যা কবলিত মানুষগুলো। কোথাও হাটু ও কোথাও কোমড় পানির নিচে চলে গেছে রাস্তা-ঘাট, স্কুল ও বাড়ি-ঘর। পানিবন্দী মানুষজন তাদের ঘর-বাড়ি ভেঙে গবাদী পশু নিয়ে উচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে বাধ্য হয়ে বাঁধের উপর ঘর নির্মান করেছে। রোজার মাসে বানের পানির এই দুর্ভোগ এলাকাবাসীকে চরম হেনস্তা করে রেখেছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানায়, উজানে ঢলে ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারনে তিস্তার পানি সকাল ৬টা ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে ও সকাল ৯টায় তা বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর প্রবাহিত হচ্ছিল এবং দুপুর ১২ টায় তা কমে ১৫ সেন্টিমিটার উপড় দিয়ে প্রাবাহিত হচ্ছে। এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ২ হাজার ৫শ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল ও শুকনো খাবারের জন্য ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরন করেন, জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নায়েমা তাবাচ্ছুম শাহ্, উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্তি সাধারন সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ।