ঈদে শিমুলিয়া ঘাটে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়ার আশঙ্কাই বেশি

farighart

মোঃ রুবেল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: পদ্মা পাড়াপাড়ের লক্ষ্যে আর কিছুদিনের মধ্যেই রাজধানী সহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষের ঢল নামবে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম প্রবেশদ্বার শিমুলিয়া ফেরীঘাটে। এবার ঈদে ভরা বর্ষা হওয়ায় বৈরী আবহাওয়া ও পলিযুক্ত পদ্মায় পানির স্রোতের টানের কারণে এ নৌ চ্যানেলে ফেরী চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কেননা এরই মধ্যে মূলপদ্মায় স্রোতের কারণে চলতি গত কয়েকদিন থেকে শিমুলিয়া কাওড়াকান্দি রুটের ফেরী চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে অনাকাঙ্খিত এ উভয়মুখী সমস্যার কারণে ফেরী পারাপারে বিপর্যয়ের সৃষ্টি হলে আসন্ন ঈদে দীর্ঘ যানজটের কবলে ঘরমুখো হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়তে পারেন।

শিমুলিয়া বিআইডব্লিউটিসির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বর্ষায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে গত ৬/৭ দিন ধরে শিমুলিয়া ঘাট থেকে লৌহজং টার্নিং পর্যন্ত বড় নদীতে স্রোত বিরাজ করতে শুরু করেছে। শুরুতেই শিমুলিয়া ঘাটের অদূরে মূল পদ্মায় বড় বড় ঢেউয়ের সাথে সাথে স্রোতের তীব্রতা ক্রমেই বেশী করে দেখা দেওয়ায় ফেরী চলাচল কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে রো-রো ফেরী, কে টাইপ ও ডাম্ব ফেরীগুলো ঘাট ধরতে রাউন্ড ট্রিপে অতিরিক্ত আধাঘন্টা সময় লাগছে। অপরদিকে ঈদের আগে আমাবস্যার জোঁর প্রভাবে পদ্মায় অস্বাভাবিক মাত্রায় পানি বৃদ্ধি পেলে একই সাথে স্রোতের মাত্রা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে করে নৌরুটে পানির স্রোতও ব্যাপকভাবে বেড়ে যেতে পারে। ফলে ফেরী পারাপারেও বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। একই সাথে স্রোতের সাথে সাথে শিমুলিয়া চরজানাজাত নৌরুটের মূল পদ্মায় পলি প্রবাহ শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট জানা গেছে। এতে করে ঘোলা পানির পলি অতিমাত্রায় জমতে জমতে যে কোন মুহুর্তে যে কোন পয়েন্টে নৌরুটে ডুবোচরের সৃষ্টি হয়ে নব্যতা সঙ্কটের মুখে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

এদিকে গত ২১ মে প্রবল বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ায় পদ্মায় উত্তাল থাকায় নৌরুটের ৫টি ডাম্ব ফেরী সহ সকল ফেরী চলাচল ঝুঁকিপূণ হয়ে পড়ে। এতে করে ঐদিন ফেরীবহরের ৪টি রো রো, ৪টি কে টাইপ ও ২টি মিডিয়াম ফেরী সহ মোট ১৫টি ফেরী চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এর ৪ দিন পর ২৫ মে বিকেল ৪টায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে শিমুলিয়া নৌরুটের শিমুলিয়া ৩নং রো রো ঘাট পন্টুনের আলাদ (লোহার রশি) ছিঁড়ে সংযোগ সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় প্রায় ৮ ঘন্টা অতি গুরুত্বপূর্ণ এ ঘাট দিয়ে ফেরীতে দক্ষিণ বঙ্গগামী যানবাহন পারাপার বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন ঘাটে আটকে থাকা ফেরীযাত্রীরা।

রো রো ফেরী শাহ পরাণের মাষ্টার মোঃ আব্দুল করিম, টাগ আইটি বেলজিয়ামের মাষ্টার ইনচার্জ আব্দুর রউফ, কে টাইপ ফেরী ক্যামেলিয়ার মাষ্টার মোঃ মফিজ হোসেন জানান, গত কয়েকদিন ধরে পদ্মায় পানি বৃদ্ধিতে পানির স্রোতের কারণে লৌহজং টার্নিং থেকে বড় নদী পাড়ি দিতে ফেরী চলাচলে কিছুটা বিঘ্নিত অবস্থা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে এখানে ফেরী চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় খুবই সতর্কতার সাথে এখানে ফেরী চালাতে হচ্ছে। একই সাথে আসন্ন ঈদের পূর্বে স্রোত অস্বাভাবিক মাত্রায় দেখা দিলে খুবই ঝুুঁকিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করবে বলে তারা আরো আশঙ্কা করছেন।

মাওয়া বিআইডব্লিউটিসির মেরিন অফিসার মোঃ শাজাহান ও আহমেদ আলী জানান, বর্তমানে ঘাট এলাকা সংলগ্ন মূলপদ্মায় পানির স্রোতে ফেরী চলাচলে কিছুটা বিঘ্নিত হলেও স্বাভাবিকভাবেই মৌসুমের সময় অনুযায়ী আসন্ন ঈদের সামনে নৌরুটে নদীর পানি ও স্রোতে ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও শিমুলিয়া টার্নিং থেকে লৌহজং টার্নিং পর্যন্ত মূল পদ্মায় ঘোলা পানিতে পলি প্রবাহ শুরু হয়েছে। এসব কারণে নৌরুটে যে কোন সময় যে কোন পয়েন্টে নাব্যতা সঙ্কট সহ অতি মাত্রায় পানির স্রোতে ফেরী চলাচল মারাত্মক বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহা-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোঃ খালিদ নেওয়াজ সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, বিকল্প সব রকম প্রস্তুতি এখানে রাখা হয়েছে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে এখানে ৪টি রো রো ও ৭টি ডাম্ব, ৪টি কে টাইটি মিডিয়াম সহ মোট ১৭টি ফেরী সার্বক্ষণিক সচল থাকবে। এতে ফেরীর বহরে ফেরীর সংখ্যা আধিক্যের কারণে এ রুটে যানজট বা যাত্রী দুর্ভোগের কোন আাশঙ্কা নেই। তবে মৌসুমের স্বাভাবিক গত কারণে একমাত্র প্রধান সমস্যা হতে পারে বৈরী আবহাওয়া আর পদ্মার উত্তাল স্রোতের রূঢ়তা।