দর্শনা চেকপোষ্টে সাধারণ পাসপোর্ট যাত্রিরা হয়রানির শিকার

Chuadanga Imigration Coruption 17-06-2016 03

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা চেকপোষ্ট কাষ্টমস ও ইমিগ্রেশনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারণে বৈধপথে যাতায়াতকারী সাধারণ পাসপোর্ট যাত্রী হয়রানি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। জানা গেছে, ল্যাগেজ ব্যবসায়িদের সঙ্গে এসব কাষ্টমস এর কর্মকর্তা-কর্মচারীর গোপন আতাতের মাধ্যমে ভারত থেকে আনা বিভিন্ন ধরণের পণ্যের মূল্য নির্ধারণে চলছে ঘাপলাবাজি।

এক শ্রেণীর লাগেজ ব্যবসায়ী ভারত থেকে লাখ লাখ টাকার পণ্য নিয়ে আসছে। কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ এসব লাগেজ ব্যবসায়িদের প্রতি অবগত থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রকার তল্লাশি বাদেই এদেরকে ছেড়ে দিচ্ছে। এসব লাগেজ ব্যবসায়ির বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা এ ব্যবসার দিকে আরো উৎসাহিত হচ্ছে। ভারত থেকে আনা পণ্যের দাম নিয়মমাফিক না ধরে অল্প মূল্যের মাধ্যমে ছাড়পত্র প্রদান করছে। পূর্বের তুলনায় এ সীমান্ত চেকপোষ্ট কাষ্টমসের মাধ্যমে লাগেজ পার্টির ব্যবসা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারত থেকে আনা এসব পণ্যের ওপর থেকে নিয়ম অনুযায়ী রাজস্ব আদায় না করে এসব লাগেজ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা অবৈধভাবে আদায় করছে কতিপয় কর্মকর্তা। ফলে সরকার বি ত হচ্ছে প্রতিদিন মোটা অংকের রাজস্ব। লাগেজ ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে যে সব পণ্য এনে থাকে তার হ্রাসকৃত মূল্যের ওপর থেকে আদায় করা হয় রাজস্ব। দর্শনা চেকপোষ্ট বিজিবি জোয়ানরা এসব লাগেজ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ব্যাগ তল্লাশির নামে দালালের মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থ আদায় করে থাকে। অপরদিকে সাধারণ পাসপোর্টের মাধ্যমে আসা যাত্রিরা কাষ্টমসে কর্মরত কর্মকর্তাদের হাতে হয়রাণী হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এসব পাসপোর্ট যাত্রীর কাছে থেকে কাষ্টমস ও ইমিগ্রেশন এর এসব অসাধু কর্মকর্তা পাসপোর্ট প্রতি জোর পূর্বক ২০০ থেকে ৫০০ টাকা হারে আদায় করছে। যদি কোনো যাত্রী এই অর্থ প্রদান করতে ব্যর্থ হয় তাহলে তাকে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড় করিয়ে রাখা হয়।

এদিকে সূত্র আরও জানায়, সপ্তাহে ৩ দিন শনি, রবি ও মঙ্গলবার যখন মৈত্রী ট্রেনে যাত্রীরা ভারত থেকে বাংলাদেশের দর্শনা রেল ষ্টেশনে অবস্থান করে তখন বর্তমান কাষ্টমস সুপার মোস্তফা কামাল ও তার সহযোগী ইন্সপেকটর লিয়াকত হোসেন এর নেতৃত্বে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের মধ্যে এক শ্রেণীর লাগেজ পার্টিকে অবৈধ সুযোগ দেওয়ায় চোরাই পণ্য হরহামেশাই তারা নিয়ে আসছে। এসব অবৈধ মালামাল আটক করে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে কাষ্টমস এর এ দুই কর্মকর্তা ৩ টি কক্ষে রেখে দেয়। ঘন্টারপর ঘন্টা ওই সমস্ত যাত্রীরাও অবৈধ সুযোগ গ্রহণ করার জন্য তারাও কৌশলে অপেক্ষা করতে থাকে। পরে তাদেরকে বিভিন্ন ধরণের সরকারি অতিরিক্ত ভ্যাট কর্তন ও আটকের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে লাগেজ প্রতি (১৫-২০ টি থ্রীপিস/শাড়ী) দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা আদায় করে থাকে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের উর্দ্ধতন মহলের তদন্তপূর্বক আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া একান্ত প্রয়োজন বলে ভুক্তভোগী মহল দাবি জানিয়েছেন।

দর্শনা কাষ্টমস সহকারী কমিশনার আবুল হোসেন জানান, যাত্রীরা অতিরিক্ত ভারতীয় পণ্য আনলে শুল্ক আদায় করা হয়। কেউ যদি অবৈধ ভারতীয় পণ্য আনলে আমরাসহ বিজিবি আটক করে থাকি। পাসপোর্ট যাত্রীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করার কথাও অস্বীকার করেন তিনি।
চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক মোহাম্মদ আমির মজিদ জানান, বিজিবির কোনো সদস্য এ ধরণের কাজের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, বিজিবি সদস্যদের সকল কার্যক্রম দেখাশুনার জন্য রয়েছে ৩ স্তর বিশিষ্ট পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা। এরপরও যদি কোনো বিজিবি সদস্য এধরণের কাজের সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তিনি তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও জানান।