নিখোঁজের দেড় মাসেও সন্ধান মেলেনি পাবনার ৫ জনের

Pabna 3 Vay Photoপাবনা প্রতিনিধি: পাবনার ফরিদপুর উপজেলার খাগড়বাড়িয়া গ্রাম থেকে নিখোঁজ তিন ভাইসহ ৫ জনের এক মাসেও কোন খোঁজ মেলেনি। গত ১১ মে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার পর থেকে তাঁরা নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজের দের মাস অতিবাহিত হলেও তাদের সন্ধান করতে বা তাদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তেমন কোন ভ’মিকা না থাকায় পরিবার গুলোতে চলছে আহাজারী।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে আরও পাঁচজন নিখোঁজের ঘটনা ঘটে। তাঁদের মধ্যে চারজনকে ২৮ মে রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে র‌্যাব গ্রেফতার করে। অপরজনের খোঁজ মেলেনি এখনো।

১১ মে নিখোঁজ পাঁচজন হলেন খাগরবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল করিম সরদারের তিন ছেলে টিক্কা সরদার (৩০), এরশাদ সরদার (২৫) ও সাদ্দাম সরদার (২০), উপজেলা সদরের থানাপাড়া মহল্লার জুলু প্রামাণিকের ছেলে রনি প্রামাণিক (২৫) ও ফরিদপুর ইউনিয়নের সাভার গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে দুলাল হোসেন (৩৫)। তাঁদের মধ্যে রনির নামে একটি হত্যাসহ তিনটি মামলা রয়েছে। দুলাল সাভার গ্রামের যুবদল নেতা লিটন হত্যা মামলার আসামি। তিনি সম্পর্কে নিখোঁজ তিন ভাইয়ের ভগ্নিপতি। তাঁকে তুলে নেওয়া হয়েছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থেকে।

আবদুল করিম সরদার জানান, ঘটনার রাতে তাঁর ছেলেরা বাড়িতেই ছিলেন। ভোর চারটার দিকে একদল কালো পোশাকধারী লোক এসে তাঁদের তুলে নিয়ে যান। এ সময় তাঁদের সঙ্গে পাশের সাভার গ্রামের কিছু লোক ছিলেন। এ নিয়ে গত মে মাসেই প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
এর আগে নিখোঁজ পাঁচজনের মধ্যে গ্রেফতার দেখানো চারজন হলেন রমজান আলী (৩৮), সুরুজ আলী (২২), দুলাল হোসেন (২৪) ও লিটন ইসলাম (২০)। তাঁদের সবার বাড়ি উপজেলার সাভার গ্রামে। তাঁদের মধ্যে লিটন ছাড়া সবাই সাভার গ্রামের যুবদল নেতা সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলার আসামি। তবে র‌্যাবের কাছে রমজান আলীর দেওয়া স্বীকারোক্তি মতে, লিটনও হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

গত ২৫ মে গ্রেফতার দেখানো চারজনসহ পাঁচজনের পরিবার পাবনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁদের সন্তানদের নিখোঁজ হওয়ার দাবি করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে আর একজন হলেন আবু সাইদ (২৩)। তিনি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

স্বজনদের হারিয়ে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনেকের পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম সদস্য নিখোঁজ থাকায় খেয়ে না-খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা অবিলম্বে তাঁদের খুঁজে বেড় করার দাবি জানিয়েছেন। রনির বাবা জুলু প্রামাণিক বলেন, ‘এক মাস ধরে ছাওয়ালের মা-ও ছাওয়ালের চিন্তায় বিছানাগত হইছে। আমি ছাওয়ালের খোঁজে এনে-ওনে ঘুরতেছি। কিন্তু কুনু কূলকিনারা পাতেছিনে।’

ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, ‘নিখোঁজদের বের করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। দেশের প্রতিটি থানায়, ডিএমপি, সিএমপিসহ র‌্যাব, সিআইডি ও ডিবি কার্যালয়ে তাঁদের ছবিসহ পূর্ণ বৃত্তান্ত পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও থেকে তাঁদের বিষয়ে কোনো তথ্য মেলেনি। তবে বিভিন্ন সূত্র ধরে তাঁদের খোঁজ করা অব্যাহত রাখা হয়েছে।’