কুড়িগ্রামের বিলুপ্ত ১২টি ছিটমহলে ডাটাবেইজ ও ভোটার তালিকার প্রাথমিক কাজ শুরু

chitemohol

ফয়সাল শামীম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বিলুপ্ত ১২টি ছিটমহলের অধিবাসীরা মূল ভূ-খন্ডে যুক্ত হওয়ার ১ বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের নাম আজও ভোটার তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করা হয়নি। এ নিয়ে ছিটমহলবাসীর মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তবে সেই হতাশা এবার দূর হতে যাচ্ছে। ছিটমহল ঘেষা ইউনিয়ন পরিষদ গুলোর সাথে ছিটমহলগুলোকে একিভুত করে ভোটার তালিকা প্রনয়নের ডাটাবেইজ কাজ শুরু হয়ে গেছে।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, আমরা নির্বাচন কমিশনের মৌখিক নির্দ্দেশনা পেয়ে ডাটাবেইজ করছি। ভোটার তালিকা আগামী সপ্তাহেই শুরু করা হবে। এ খবরে বিলুপ্ত ছিটমহলের অধিবাসীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। তারা আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জীবনের প্রথম ভোট দিতে পারবেন। ফুলবাড়ীর দাসিয়ারছড়ার বাসিন্ধা মজরুদ্দিন মুন্সী হরলাল, আয়শা আক্তার, মকবুল হোসেন, শাহাজাহান, মালেক, করিম, মোজাফ্ফর, রতিকান্ত, জুলহাজ জানান, আমরা শুনছি ঈদুল ফিতরের পরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করা হবে। ৬৮ বছর ভোটদানে বঞ্চিত ছিলাম। এখন এদেশের নাগরিকত্ব সহ ভোট দেয়ার অধিকার পাচ্ছি এর চেয়ে আনন্দের কি হতে পারে। এই খবরটি শোনা পর আমাদের মাঝে যে হতাশা ছিল তা কেটে গেছে।

গত ১১ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন বিলুপ্ত ১২টি ছিটমহলের অধিবাসীদের নামের তালিকার গেজেট প্রকাশ করে। দেশের সবচেয়ে বড় ছিটমহল দাসিয়ারছড়া ফুলবাড়ী সদর, কাশিপুর ও ভাঙ্গামোড় এই তিনটি ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। অপর দিকে ভুরুঙ্গামারী উপজেলার মমালডাঙ্গা, গারলঝড়া, ছিউতি কুতসা, কালমাটি সহ ১০টি ছিটমহল তিনটি ইউনিয়নের সঙ্গে একিভুত হচ্ছে ইউনিয়ন তিনটি হলো ভুরুঙ্গামারী সদর, পাথরডুবি ও শিলখুড়ি। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক খান মোঃ নুরুল আমিন জানান, বিলুপ্ত ছিটের বাসিন্দাগণ কে কোন ইউনিয়নে সংযুক্ত হচ্ছেন তা তালিকা করে ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, অধুনালুপ্ত ছিটমহলের নাগরিকের ভোটার তালিকা করার জন্য প্রাথমিক ডাটাবেইজ করা হচ্ছে। ঈদের পরেই ভোটার তালিকার কাজ শুরু করবো।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১লা আগস্ট বাংলাদেশের মানচিত্রে ভারতীয় ১১১ ছিটমহল নতুন ভাবে যোগ হয়। ফলে ২০১৫ সালের ৬ থেকে ১৬ জুলাই দুই দেশের যৌথ গনণায় মোট জনসংখ্যা ৩৭ হাজার ৫৩৫ জন। এর মধ্যে ফুলবাড়ীর দাসিয়ারছড়া ছিটমহলের বাসিন্ধা ৬ হাজার ৮ শত ৮৯ জন যাহা ১১১টি ছিটের সর্বচ্চ।