স্ট্রোক সম্পর্কে জরুরি কিছু তথ্য

stroke-and-awareness


স্বাস্থ্য ডেস্কঃ

স্ট্রোক আমাদের দেশে খুব পরিচিত একটি ব্যাধি। আরেকটু ভালোভাবে বললে এখন সম্ভবত এমন কোন পরিবার পাওয়া যাবে না যেখানে স্ট্রোকের ঘটনা ঘটেনি।

সাধারণত আমরা ধরে নেই এটা বয়স্কদের সমস্যা কিন্তু সত্যটা হল ৭৫ বছরের একজনের যেমন স্ট্রোক হতে পারে, তেমনি একজন ৫৬ বছর বা ১৭ বছরের মানুষেরও স্ট্রোক হতে পারে।

স্ট্রোক আসলে কি?

খুব সাধারণভাবে বললে মস্তিষ্কের কাজকর্মের বিঘ্ন ঘটাই স্ট্রোক। ব্রেইনের কাজ করার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়াই হলো স্ট্রোক। স্ট্রোকের ফলে শরীরের একদিক বা সম্পূর্ণ শরীর অবশ হয়ে যাওয়া, স্মৃতি শক্তি লোপ পাওয়া, কথা বন্ধ হয়ে যাওয়া, শরীরের অংশ বিশেষ দুর্বল হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

স্ট্রোক দুইভাবে হতে পারেঃ

১. মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণ হয়ে (হেমেরোজিক)
২. মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে, বন্ধ হওয়া সেলগুলো পচে গিয়ে।(ইস্কিমিক স্ট্রোক)সাধারণত ৮৭ ভাগ স্ট্রোকের কারণ এটাই।

কিভাবে বুঝবেন স্ট্রোক হয়েছে?

এটা আসলে একটা কঠিন প্রশ্ন। কারণ স্ট্রোক বলে কয়ে আসে না। স্ট্রোকের রোগীর কিছু জিনিস লক্ষ্য করলে বোঝা যায়। অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করলেই তার ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। অনেক সময় একটু দেরির কারণে মারাও যেতে পারে।

নিচের কোন একটিও যদি কারো মধ্যে লক্ষ্য করেন তাকে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেনঃ

১. হাসার সময় ঠোঁট বাঁকা লাগলে বা একদিকে ঝুলে গেলে।
২. পানি পানের সময় পানি ঠোঁটের পাশ দিয়ে গড়িয়ে পড়লে।
৩. দুই হাত একসাথে করে সোজা করে ওঠাতে বললে তখন সমানভাবে উঠাতে না পারলে।
৪. কথায় জড়তা বা তোতলামি লক্ষ্য করলে।
৫. কানে কম শুনলে অথবা চোখে কম দেখছেন মনে হলে।
৬. হঠাৎ পড়ে গেলে।
এছাড়া সম্পূর্ণ শরীর অবশ হয়ে গেলে, রোগি কথা না বললে।

উচ্চরক্ত চাপ, দুশ্চিন্তা, অ্যালকোহল পান, জরদা- তামাক পাতা সেবন, ডায়বেটিক, আগের কোন সার্জারি, স্থূলতা, কায়িক পরিশ্রমের অভাব, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসে স্ট্রোক হতে পারে।