ক্রিকেট থেকে অবসরের দিনক্ষন ঘোষণা দিলেন সাকিব আল হাসান

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক – বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেটার বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ক্রিকেট থেকে অনেক টাকা আয় করলেও ক্রিকেটের বাইরেও তার নানা ধরণের ব্যবসা ও আয়ের উৎস রয়েছে। সেসব অায়ের উৎসের মধ্যে অন্যতম হলো সাকিব’স ডাইন নামে সাকিবের রেস্তোরা।

ক্রিকেট এবং ব্যবসা একসাথে সামলানোর বিষয়ে সাকিব বলেন, আমার প্রধান এবং একমাত্র লক্ষ্য ক্রিকেট। এর বাইরে যা রয়েছে তাতে আমি মন দিইনা।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাকিবের আগেও বড় বড় তারকার জন্ম হয়েছে। আকরাম খান থেকে শুরু করে মোহাম্মদ আশরাফুল। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারা যতটা না উজ্জ্বল হতে পেরেছেন, সাকিব আল হাসান হয়েছেন তার চেয়ে অনেক বেশি। বর্তমান সময়ে মোস্তাফিজুর রহমানের মত আরও বড় তারকার জন্ম হয়েছে। তবে এখনও বাংলাদেশ ক্রিকেটের পোস্টারবয় বলতে যাকে বোঝায়, তিনি হলেন সাকিব আল হাসান।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলার পর থেকে প্রায় ১০ বছর পার করতে যাচ্ছেন সাকিব আল হাসান। আগামী ৬ আগস্ট ১০ বছর পূর্ণ হবে সাকিবের। ক্যারিয়ারের এই ১০ বছরে অনেক সাফল্য তিনি উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটকে। নিজের তারকা ইমেজ দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে তিনি নিয়ে গেছেন অন্য এক উচ্চতায়। বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডারের অবস্থানটি ধরে রেখেছেন দীর্ঘদিন ধরে।

সাফল্যের ভেলায় চড়তে চড়তে ইতোমধ্যেই সাকিব পৌঁছে গেছেন ৩০ বছর বয়সে। এখন থেকেই ভক্ত-সমর্থকদের মনে প্রশ্ন, আর কতদিন খেলবেন সাকিব। তার কাছ থেকে আর কতদিন সার্ভিস পাবে বাংলাদেশের ক্রিকেট?

প্রশ্নটার উত্তর অবশ্য সাকিব আল হাসানের নিজের কাছ থেকেই চলে এসেছে। বাংলাদেশের এক ইংরেজি সংবাদপত্রকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন, আরও ৬ থেকে ৭ বছর ক্রিকেট খেলে যেতে চান। অন্তত ২০২৩ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। ২০২৩ বিশ্বকাপ খেলতে পারলে- এরপরই ক্রিকেটকে গুডবাই জানাবেন সাকিব।

sakib-resturent

টানা ক্রিকেট খেলে যাচ্ছেন সাকিব। বিপিএল, এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ, আইপিএলে, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ এরপর সিপিএল, ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছেন না? সাকিব বলেন, ‘আসলে এটাই আমার জন্য খেলার সময়। ভালো ফর্মে থাকলে সম্ভবত আরো ছয় থেকে সাত বছর খেলতে পারবো। মূলত এখন আমি যত খেলব, তত উন্নতি করতে পারবো।’

ক্রিকেট এখন সাকিবের জীবনের অংশ। টানা খেলে গেলেও ক্লান্ত হবেন না। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটই সবকিছু। আয়ের উৎস, আমার ভালোবাসা, আমার জীবনের অংশ। তাই খেলে আপনি কখনো ক্লান্ত হবেন না বা আপনার খারাপ লাগবে না। হ্যাঁ, আমি হয়তো শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ব; কিন্তু মানসিকভাবে দুর্বল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

ক্রিকেট যখন ছাড়বেন, তখন কোথায় থাকবেন- এ লক্ষ্য ঠিক করতে চান না তিনি। সাকিব বলেন, ‘আমি মনে করি, যদি কোনো লক্ষ্য ঠিক করি তাহলে কঠিন হয়ে যাবে। আলহামদুলিল্লাহ, এখন পর্যন্ত যা হচ্ছে, ভালো হচ্ছে। আমি এটিকে আরো ভালো করতে চেষ্টা করব। শেষ করার আগে আমার দলকে একটা ভালো জায়গায় দেখতে পারলে আমার খুব ভালো লাগে। ২০১৫ সাল আমাদের জন্য দারুণ ছিল। যদি তা আরো কয়েক বছর ধরে রাখতে পারি এবং ভালো পারফর্ম করতে পারি তাহলে ২০১৯ বিশ্বকাপেও আমাদের দারুণ একটা সুযোগ থাকবে বলে মনে হচ্ছে।’

সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নে সাকিব বলেন,  আমি যদি ক্রিকেটের বাহিরের কার্যক্রম নিয়ে অনেক চিন্তা করি, তাহলে আমি উদ্বিগ্ন হয়ে যাই, যা আমার জন্য বিরক্তিকর। তাই আমি অবিলম্বে বিষয়টি ভুলে যাই।’

রেস্তোরাঁ নিয়ে তিনি বলেন, ”এমনকি আমি আমার রেস্তোরাঁ নিয়েও ভাবি না। আমি জানিই না কি হচ্ছে! প্রথম কিছুদিন প্রতিদিনের লাভ-লোকসানের একটা হিসাব ম্যাসেজ আকারে আমি পেতাম। কিন্তু একমাস কিংবা দুইমাস পর আমি ওদের বলি, ‘ভাই, এইসময় ম্যাসেজ দেয়া বন্ধ কর। আমি আর এগুলো দেখতে চাই না।’ আমি তাদের বলেছি, মাস শেষে একটা রিপোর্ট যেন আমাকে জমা দেয়। আর এখন আমি ওগুলোও শুনতে চাই না ”

আপাতত সাকিবের লক্ষ্য ২০১৯ বিশ্বকাপ। এরপরের বিশ্বকাপও তিনি খেলতে পারেন। সে সম্ভাবনা রয়েছে খুব জোরালোভাবে। অন্তত ২০২৩ বিশ্বকাপের আগে খেলা ছাড়ার কথা ভাবছেন না সাকিব। কারণ, ওই বিশ্বকাপটা আবার অনুষ্ঠিত হবে ভারতের মাটিতে।