ধর্ষণের পর হত্যার শিকার শিশু সন্তানের লাশ রেখে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে এক ‘কলংকিত মা’

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি,সময়ের কণ্ঠস্বর:

ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার শিকার পাঁচ বছরের মেয়ে রূপসীকে মৃত অবস্থায় ঘরে বিছানার চাদর দিয়ে ঢেকে রেখে পালিয়েছেন মোসলেমা খাতুন নামে এক গৃহবধূ। আজ শনিবার সকালে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার গরানবাড়ীয়া গ্রামে বাবার বাড়িতে মৃত মেয়েকে রেখে পালিয়ে যান তিনি। এই মৃত্যু রহস্য এলাকজুড়ে নিয়ে চলছে নানান কৌতুহল ।

মৃত শিশু রূপসী খাতুন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ছনকা গ্রামের ফজলু গোলদারের মেয়ে।

পুলিশ সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের গরমবেড়িয়া গ্রাম থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে। আজ শনিবার সাতক্ষীরা জেলা সদর হাসপাতালে শিশুটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রূপসীকে ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে তার মা মোসলেমা জড়িত রয়েছেন।

জানা গেছে, মোসলেমা তার মেয়েকে নিয়ে সম্প্রতি সাদ্দাম হোসেন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। তারা ঢাকার ডেমরা এলাকায় থাকতেন।

শনিবার সকালে মোসলেমা ঢাকা থেকে এসে বাবার বাড়িতে ওঠেন। কিছুক্ষণ পর মেয়েকে বিছানায় ঘুম পাড়িয়ে দেওয়ার নাম করে বিছানার চাদর দিয়ে ঢেকে রেখে পালিয়ে যায়।

child

 

দেবহাটা উপজেলার নোয়াপাড়া ইউপি সদস্য আবুল কাসেম সরদার জানিয়েছেন , ‘ফজলু কাজের জন্য বর্তমানে সিলেটে রয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে মোসলেমা তাঁর শিশুসন্তানটির লাশ নিয়ে বাবার বাড়ি আসেন। আমি বিষয়টি দেবহাটা থানার পুলিশকে অবহিত করি। পুলিশ আসার আগেই মোসলেমা বাবার বাড়ি থেকে সরে পড়েন।’

ইউপি সদস্য আবুল কাসেম সরদার আরো জানান, ফজলু সিলেটে থাকা অবস্থায় মোসলেমা তাঁর স্বামীর বাড়ির পাশের আমবাগানের পাহারাদার সাদ্দাম হোসেন ওরফে খোকনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এরপর মোসলেমা মেয়ে রূপসীকে নিয়ে স্বামী ফজলুর ঘর ত্যাগ করেন। এতদিন তাঁরা অজ্ঞাতবাসে ছিলেন।

শুক্রবার বিকেলে মোসলেমা মেয়ে রূপসীকে মৃত অবস্থায় বাবার বাড়িতে নিয়ে আসেন। লাশ দেখে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা দেবহাটা থানার পুলিশ ও মোসলেমার শ্বশুরবাড়িতে খবর দেন। রাতে পুলিশ আসে। তার আগেই মোসলেমা পালিয়ে যান। পরে রাতেই পুলিশ মোসলেমার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সহায়তায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

মোসলেমার শ্বশুরবাড়ি ছনকা গ্রামের ইউপি সদস্য শাহিনুর রহমান জানান, আজ শনিবার সদর হাসপাতাল মর্গে লাশটির ময়নাতদন্ত হয়েছে। পুলিশ ও চিকিৎসক জানিয়েছেন, শিশুটিকে আগে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক আলামত পাওয়া গেছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি ইমদাদুল হক শেখ জানান, শিশুর মরেদহ নিয়ে তার চাচা আমার কাছে এসেছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছি।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদ শেখ জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। শিশুটির লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।