রাস্তায় নারীদের চলাচল নিষিদ্ধ, পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সাইনবোর্ড নামিয়ে ফেলা হলো

fgh


বরগুনা থেকে, এম সাইদ খোকনঃ

বরগুনার আমতলী উপজেলার আমড়াগাছিয়ায় সরকারি অর্থে নির্মিত সাইক্লোন শেল্টারের রাস্তায় নারীদের চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষিত সাইনবোর্ড অবশেষে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নামিয়ে ফেলা হয়েছে।

বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক পিপিএম এর নির্দেশে আমতলী থানার ওসি পুলক চন্দ্র রায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কে  সাথে নিয়ে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সাইনবোর্ডটি নামিয়ে ফেলেছে। এ উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মো, নুরুল ইসলাম মৃধা, উপজেলা কমিউনিটি পুলিশ এর সভাপতি গুলিশাখালী ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম তালুকদার, কুকুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দীন আহম্মেদ মাসুম তালুকদার, আমতলী সদর মসজিদের খতিব মাওলানা আবু জাফর।

উল্লেখ্য-আমতলী উপজেলার আমড়াগাছিয়ায় আমড়াগাছিয়া গ্রামে ২০১৪ সালে ছালেহিয়া খানকা শরিফের কমপ্লেক্সের ভেতর কোস্টাল ক্লাইমেট চেঞ্জ রিজিলিয়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্টের (সিসিআরআইপি) মাধ্যমে এলজিইডির অর্থায়নে তিন কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে দ্বিতল একটি সাইক্লোন শেল্টার ভবন নির্মাণ করা হয়। শেল্টারে যাতায়াতের জন্য ভবনটির দক্ষিণ পাশ দিয়ে ১ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার বাইপাস রাস্তাও করা হয়।

এটি খানকার মূল ফটক দিয়ে আমতলী-পটুয়াখালী মহাসড়কের সঙ্গে মিলিত হয়েছে।সরকারি অর্থে নির্মিত সাইক্লোন শেল্টার সংলগ্ন রাস্তায় নারীদের চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছে স্থানীয় ছালেহিয়া খানকা শরীফ কর্তৃপক্ষ। কোন নারী ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে চাইলে তাকে নানাভাবে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাছাড়া দুর্যোগের সময় সকল নারী-পুরুষের আশ্রয়ের জন্য এসব ভবন করা হয়।

কিন্তু ওই রাস্তায় নারীদের চলাচল নিষিদ্ধ থাকলে সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নেয়ার তো প্রশ্নই উঠে না। তাই দুর্যোগের সময় নারীরা কি করবেন এমন প্রশ্নই জেগেছে স্থানীয়দের মাঝে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ মানবাধিকার কর্মীরা দ্রুত রাস্তটি সবার জন্য উম্মুক্ত করতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছিল