কে বলল আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে: বাবুল আক্তার

Babul-Akter-1

সময়ের কণ্ঠস্বর- পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে নেওয়ার দীর্ঘ সময় পর তিনি বাসায় ফিরেছেন। বাবুল আক্তার জানিয়েছেন তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। শনিবার বিকেল ৪টার দিকে তিনি রাজধানীর মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয় থেকে মেরাদিয়ার বাসা যান। বিষয়টি বাবুল আক্তার নিজেই মোবাইল ফোনে নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার বলেন, ‘আমাকে কেউ গ্রেপ্তার করেনি। যেহেতু মামলার বাদী আমি, তাই এই মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনার জন্য আমাকে ডাকা হয়। পরে আমি যা জানি, তাই তদন্ত সংশ্লিষ্টদের বলেছি। আমাকে কেন গ্রেপ্তার করা হবে?’

শুক্রবার রাত ১টার দিকে ওই বাসা থেকেই ঢাকার পুলিশ সদরদপ্তরে সংযুক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকে দুই পুলিশ কর্মকর্তা এসে নিয়ে যান। এরপর থেকে বাবুল বা পুলিশের কোনো বড় কর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে স্বজনদের মধ্যে তৈরি হয় সন্দেহ আর উদ্বেগ।

এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, কয়েকজন আসামির সামনে মুখোমুখি করে বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমে সেই খবর আসার পর ডালপালা মেলতে শুরু করে নানা গুঞ্জন।

স্ত্রী হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে- এমন গুঞ্জনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বাবুল আক্তার ফোনে পাল্টা প্রশ্ন করেন, “এগুলো কে বলল?” তিনি বলেন, “আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। যারা তদন্ত করছেন, তারা বিভিন্ন বিষয়ে আমার সাথে আলোচনা করেছেন।”

সারা রাত তাদের এই ‘আলোচনা’ হয়েছে কি না- এ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান জঙ্গি দমন অভিযানের জন্য আলোচিত এই পুলিশ কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, গত ৫ জুন চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে শিশু সন্তানের সামনে কুপিয়ে ও গুলি করে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার নিজে বাদি হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরের দিন ভোরে নগরীর বাদুরতলা বড় গ্যারেজ এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর পুলিশ দাবি করে বাবুল আক্তারের জঙ্গিবিরোধী ভূমিকার কারণেই তার স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সারাদেশে শুরু হয় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হয় কমপক্ষে ৬ জঙ্গি।

মিতু হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাব, সিআইডি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিআই)। তবে মামলার মূল তদন্তে আছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। যদিও সবগুলো সংস্থা মিলে এখনও তেমন কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি।