অর্থের সংকটে বন্ধ হতে পারে বরগুনার এক মাত্র উইন প্লাস্টিক কারখানাটি

borguna

এম সাইদ খোকন, বরগুনা থেকে-  অর্থের সংকটের কারনে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বরগুনার গড়ে ওঠা উইন প্লাস্টিক ইন্ডা: লিমিটেড কারখানাটি। সমুদ্র উপকূলীয় জেলা বরগুনা। জেলায় রুপান্তিত হয় ১৯৮৪ সালে। যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকার কারনে এ জেলায় গড়ে ওঠেনি কোন শিল্প কলকারখানা।

গত বছরের মার্চ মাসে সরকারি রেজিস্ট্রেশন কতৃপক্ষের জয়েন্ট স্টোক কম্পানি লাইসেন্স নিয়ে বরগুনা শহরের উপকন্ঠে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সড়কে কোন প্রকার সরকারি সহযোগিতা ছাড়াই নিজস্ব অর্থ দিয়া উইন প্লাশ্টিক ইন্ডা : লিমিটেড কারখানাটি চালু করেন এড্যা. ইকবাল হোসেন। এখানে ফ্লুট, পি,ভি,সি পাইপ, পাইপের ফিটিংস, রোল পলিথিনসহ প্লাষ্টিক জগতের যাবতীয় মালামাল প্রস্তুত করার জন্য মেসিন, যন্ত্রপাতি ক্রয়, কারখানায় তৈরিকৃত মালামালের সরনয্যমাদি সংগ্রহ করতে গিয়া মোটা অংক খরচ করে বেকায়দায় পরেন প্রতিষ্ঠানের মালিক।

এখানের মানুষের প্রধান আয়ের উৎস্য মাছ ধরা। তাই জেলেদের মাছধরার জন্য ফ্লুট, কন্টিন কম খরচে তৈরি করে জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যত্র বিক্রয় করা সম্ভাব হবে।

কারখানার শ্রমিক শহিদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের ভোল্টেজ কম থাকার কারনে ফ্লুট তৈরি বিগ্নিত হয়। আমাদের দাবি বিদ্যুতের ভোল্টেজ ঠিক মত পাওয়া গেলে আমারা প্রতিদিন অনেক মাল সাপলাই দিতে পারবো। কারখানাটি ভালভাবে চললে তাদের জিবিকা নির্বাহ সহয হবে। যেতে হবেনা শহর কিংবা অন্যত্র।

বরগুনা শহরের মেসার্স রাসেল ভ্যারাইটিস ষ্টোরের মালিক মোঃ রাশিদুজ্জামান রাসেল জানায়, কোন প্রকার কেরিন খরচ ছাড়াই বরগুনা বসে কম দামে মাছধরার জন্য ফ্লুট, কন্টিন পাওয়া যায়। যার কারনে জেলেদের মাঝে কমমুল্যে বিক্রি করায় মালের চাহিদা অনেক বেশি। আমাদের দাবী উইন প্লাশ্টিক ইন্ডা: লিমিটেডের কারখানাটি কোন রকমই জানি বন্ধ না হয়।

উইন প্লাশ্টিক ইন্ডা: লি: বরগুনা পরিচালক মোসা: ইসরাত জাহান তানিয়া ইকবাল বলেন, বরগুনা এই সর্ব প্রথম আমাদের নিজ উদ্ধ্যগে উইন প্লাশ্টিক ইন্ডা: লিমিটেড বরগুনা এই কারখানাটি করেছি। কারখানাটি কারনে অনেক বেকার যুবক কাজ করার সুযোগ পেয়েছে। এতে তাদের পরিবার নিয়ে খেয়ে দেয়ে ভালোই রয়েছে। লোনের অভাবে যদি কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায় হয়তো অনেকে পরিবার অচল হয়ে পরবে। নিজের যা ছিলো তাই বেচে দিয়ে এই কারখানাটি চালু রেখেছি। এখন চালাতে অনেক কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমি সকলের সহযোগীতা চাই। আমার কারখানাটি দেখে যদি কোন ব্যাংক লোনের হাত বাড়িয়ে দিতো অনেক উপক্রিত হতাম, সাথে উপক্রিত হতো বরগুনার জেলেরা কারন জেলেদের মাছধরার জন্য প্রয়োজনিয়ো ফ্লুট, কন্টিন কম খরচে দিচ্ছি।

উইন প্লাষ্টিক ইন্ডা: লি: বরগুনা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো : ইকবাল হোসেন জানায়, আমার ছোট বেলা থেকে একটা স্বপ্ন ছিলো, বরগুনার মানুষের জন্য কিছু একটা করা যেতো। আজ আল্লাহ আমার সেই আশা পুরন করেছে। তবে কারখানাটি চালু করতে আমার প্রায় অর্ধকোটি টাকা খরচ হয়েছে। যার মধ্যে ধারদেনা ও জমি বিক্রি করেছি প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা। অর্থ সংকটে নিয়মিত মেসিন চালুরাখতে পারছি না। লোনের জন্য বিভিন্ন ব্যাংকে অনেক ঘোরাঘুরি করেও কোন লাভ হচ্চেনা। আমি যদি কোন ব্যাংক থেকে কিছু টাকা লোন পাওয়া যেতো তাহলে আমার কারখানাটি ভালো করে চালাতে পারতাম।

কারখানাটি পরিদর্শন করতে গিয়ে পৌর মেয়র মোঃ শাহাদত হোসেন বলেন, আমি মনে করি এই কারখানাটি আমাদের সকলের সহযোগীতা করে ধরে রাখা উচিত। আমি শুনেছি এখানে একটা কারখানা হয়েছে । আজ নিজ চোখে দেখে ভালো লাগলো। আশা করি এখানে কিছু মানুষের কর্মসংস্থা হবে। আমার পৌরসভা থেকে যতপ্রকার সহযোগীতা দরকার হবে তা আমি দেয়ার চেষ্টা করবো।

বরগুনার জেলা প্রশাসক ড.মহা : বশিরুল আলম বলেন, বরগুনার জন্য এটা একটা ভালো উদ্যোগ। এতে বেশিরভাগ লাভবান হবে এখানকার জেলেরা। যাদের নিত্য দিনে প্রয়োজনীয় মালামাল কম খরচে পাবে। আমি শুনে অনেক খুশি হলাম। এ কারখানাটি পরিচালনা করতে যতপ্রকার সহযোগীতা প্রয়োজন তা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হবে।

সরকারের সহযোগিতার অভাবে ও ব্যাংক লোনের সাহায্য না পেলে যেকোন সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে এই শিল্পকারখানাটি। আর এতে পথে বসবে কম্পানিটির মালিক। তাই বরগুনা জেলাবাসীর দাবি এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখতে সকল ব্যবস্থা যেন গ্রহন করা হয়।